ভ্যালেনটাইন্স ডে না ভ্যাড়াটাইন্স ডে–কোন পথে যুব সমাজ?

0
500

১৪ই ফেব্রুয়ারি, মানে ভ্যালেন্টাইন্স ডে। গোদা বাংলায় যাকে আমরা ভালোবাসার দিন হিসেবে স্মরণ করে থাকি। স্মরণ করে থাকি বলা এই কারণেই যে, বর্তমান আধুনিক যুগে দুই কপত-কপতীর মধ্যে প্রেম নিবেদন শুধু দুই হৃদয়ের মিলনের মধ্যেই তো আর থেমে থাকে না। পাশ্চাত্য তথা শো কল্ড পশ্চিমী দুনিয়ার জাদু স্পর্শে বর্তমান প্রজন্মের প্রেম নিবেদন এখন চরম পর্যায়ে। কোথাও পার্কের লেকের ধারে আবার কোথাও ছাতা কিংবা ওড়নার তলায় দুই প্রেমিক-প্রেমিকার ঘনিষ্ঠ দৃশ্য আজ বড়ই দৃষ্টিকটূ হয়ে দাড়িয়েছে। আসলে এইসমস্ত প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে ভালোবাসা মানে দুই শরীরের মিলনই হয়ে দাঁড়ায় শেষ কথা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, নারীপুরুষের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক কোনও পাশ্চাত্য বা দেশীয় সংস্কৃতি বয়ে নিয়ে আসে নি। স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও রাধার প্রেমকাহিনী থেকেই দশকের পর দশক ধরে এই ভালোবাসার পরম্পরা মনুষ্য সমাজে বিকশিত হয়েছে। তাহলে কী করে এমন এক মধুর সম্পর্কে রাতারাতি এহেন পরিবর্তন ঘটে গেল তার কারণ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুস্কর। সবথেকে মজার বিষয় হল, বহুকাল ধরেই বাঙালীদের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত ছিল যে সরস্বতী পুজোই হল বাঙালীর আসল ভ্যালেনটাইন্স ডে। রং-বেরঙের শাড়ি আর পাজামা-পাঞ্জাবী পড়ে ছেলে-মেয়ে সকলেই যখন স্কুল-কলেজ কিংবা মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াত সেই দিনই মনে হত বাঙালীর ভালোবাসা ও সেই দিনটিকেই বাঙালী যুবক-যুবতীরা প্রেম নিবেদনের দিন হিসেবে বেছে নিতেন। কিন্তু আধুনিকতার স্পর্ধায় সেও আজ অস্তাচলে। শাড়ি, পাজামা-পাঞ্জাবীর জায়গা দখল করেছে, ক্রপ টপ, স্লিভলেস টপ, ছেঁড়া জিন্স বা অ্যাঙ্কেল জিন্স। পাশ্চাত্য ও আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কোথাও যেন আজকের ছেলে-মেয়েরা মেতে উঠেছে শরীর দেখানোর খেলায়। এই তো আজই তো ১৪ই ফেব্রুয়ারি। ভ্যালেনটাইন্স ডে। শহরের আনাচে-কানাচে চোখ ঘোরালেই নজরে আসবে এই প্রতিবেদনের তাৎপর্য। কিন্তু কেউ একবারও ভেবে দেখেছি আমরা এই আধুনিক পোশাককে আপন করতে গিয়েই কীভাবে নিজেদের পোশাকি সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে নিজেদের অজান্তেই ঘরে ঢুকিয়ে ফেলেছি পশ্চিমী পোশাকি সংস্কৃতিকে। এ এক চোরাবালি। চোরাবালিতে একবার পড়ে গেলে যেমন আরও তলিয়ে যেতে হয়, তেমনি পশ্চিমী সংস্কৃতিকে আপন করে নিয়ে সেই বিপদই আমরা নিজেদের ঘরে বয়ে নিয়ে এসেছি। আজ ভালোবাসার দিনে দুই হৃদয়ের মিলন যত না ঘটে তার থেকে ঢের বেশি ঘটে দুই শরীরের মিলন। নাহলে যে ‘স্ট্যাটাস মেইনটেইন’ হবে না বস! ভালোবাসার প্রতীক লাল গোলাপ আর দামী গিফটকেই বা কীভাবে বাদ দেওয়া যায়। আজ রাস্তার ধারে ধারে চোখে পড়বে লাল, হলুদ, সাদা বিভিন্ন রঙের বেঙ্গালুরু গোলাপের পসরা সাজিয়ে বসেছেন ফুল বিক্রেতারা। প্রেমিক-প্রেমিকাদের পকেট কাটতে সেই রঙিন ভালোবাসার প্রতীক গোলাপ আজ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দামে। কোথাও কোথাও তার থেকেও বেশী দামে। ঝোপ বুঝে কোপ তো মানুষ মাত্রই মারে। তাহলে ফুল বিক্রেতারাও কেন বাকি থাকেন। যতই হোক, দুই প্রেমিক – প্রেমিকার মিলনে তারাই তো মুখ্য ভূমিকা গ্রহন করছেন। সন্ধ্যে নামতেই শহরের শপিং মল, রেস্তোরাঁ, হোটেল, বার কিংবা ষ্ট্রীট ফুডের দোকানগুলিতে ভিড় জমে উঠবে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ভিড়ে। সেখানেও সেই ফাস্ট ফুড, চাইনিজ খাবারের স্বাদ নিতে গিয়ে সেই পশ্চিমী আদব-কায়দাকেই বরণ করে নেবে আজকের যুব সমাজ। অভিভাবকদের কেউ কী টেরও পান যে কীভাবে নজরের বাইরে গিয়ে তাদের সন্তান-সন্ততিরা ভ্যালেনটাইন্স ডে মানাতে গিয়ে বয়ে যাচ্ছে কালের রসাতলে? কিসের এই মোহ? কোথায় বা এর শেষ জানা নেই কারোর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here