ভোট আসে, ভোট যায়, দীর্ঘ চারদশকেও গ্রামে রাস্তা নাই

0
262

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ জেলার নাম বাঁকুড়া, এলাকা হল পাত্রসায়ের থানার নারানপুর অঞ্চলের পাঁচপাড়া উত্তর কলোনি। যেখানে দীর্ঘ ৩৪ বছর দাঁত ফোটাতে পারে নি কোনও বিরোধী দল, এতটাই দাপট ছিল তৎকালীন বাম জমানার। কিন্তু সেই বামদূর্গে ফাটল ধরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সেই দুর্ভেদ্য বাম দূর্গে যেদিন ঘাস ফুল ফুটেছিল সেইদিন এলাকার মানুষ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলেছিলেন, যাক এবার তাহলে উন্নয়নের মুখ দেখতে পাবেন তারা। কারণ দীর্ঘ ৩৪ বছরের বাম জমানায় নারানপুর অঞ্চলের পাঁচপাড়া উত্তর কলোনি এলাকার বাসিন্দারা এলাকায় কোনও স্থায়ী রাস্তা পান নি। শুনতে অবাক লাগলেও গ্রামের মেঠো আলপথই ছিল তাদের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর এলাকার বাসিন্দারা ভেবেছিলেন এবারে হয়তো নতুন সরকার তাদের দিকে নজর দেবে। কিন্তু তারা কি আদৌ জানতেন তাদের এই চিন্তা-ভাবনার সময় বিধি আড়াল থেকে হেসেছিল। কারণ, রাজ্যে পালাবদল হয়েছিল ঠিক কথায়, কিন্তু তাদের ভাগ্য বদল হয়নি। স্বাভাবিকভাবেই, আজ নতুন সরকার আসার পর এতগুলো বছর কেটে গেলেও এলাকায় কোনও রাস্তা বলে কিছু নেই। যোগাযোগের অন্যতম রাস্তা বলতে চাষের জমির আল পথ। বছরের বাকি সময় যেন তেন ভাবে কেটে গেলেও বর্ষার সময় ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। কারণ, নাগাড়ে বৃষ্টিতে গ্রামের জমিগুলি জলের তলায় ও কাদায় ভরে যায়। ফলে বর্ষার মরসুমে একপ্রকার গৃহবন্দী হয়ে পড়েন এই এলাকার ৮০ থেকে ১০০টি পরিবার। ফলে বন্ধ হয়ে যায় স্কুল, কলেজের পড়ুয়াদের পড়াশোনা। এলাকায় চাষবাসে ওপর নির্ভরশীলতা থাকলেও বর্ষার সময় রাস্তা না থাকায় সেই চাষের সব্জি বাজারে নিয়ে যেতে চরম সমস্যায় পড়েন চাষিরা। কিন্তু সবথেকে বড় আতঙ্ক বৃষ্টির সময় কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, কারণ এই গ্রামের যাতায়াতের জন্য বিকল্প আর কোনও রাস্তা নেই, প্রধান রাস্তা বলতে গ্রামের জমির আল। ভাবতেও অবাক লাগে, যখন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তাবড় তাবড় নেতা থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা তাদের বড় বড় ভাষণে গ্রামের উন্নয়নের ভুড়ি ভুড়ি উন্নয়ন তুলে ধরেন, শৌচালয়, বিদ্যুতায়নসহ উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরেন। এরপরেও আজকের এই দিনে দাড়িয়েও যখন শোনা যায় কোনও গ্রামীন এলাকায় বাসিন্দাদের জন্য নূন্যতম রাস্তা নেই, তখন বোঝা যায় আদপে সেই নেতা-মন্ত্রীদের বড় বড় বুলির সত্যতা। সামনেই লোকসভা ভোট কড়া নাড়ছে, বিভিন্ন কেন্দ্রগুলিতে শাসক, বিরোধী বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের দেখতে পাওয়া যাবে হাতজোড় করে ভোট ভিক্ষা করতে? কিন্তু ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যাদের হাতজোড়, করুণা, আবেদন যাদের কানে পৌছালো না এবারেও কি তাদের কানে পৌঁছাবে?