দেবী দুর্গার চিত্র ফ্রেমবন্দী রাখার অভিনব উদ্যোগ নিল বাঁকুড়ার ফটোগ্রাফী সংস্থা

0
647
BANKURA-durga-photography

নিজস্ব প্রতিনিধি , বাঁকুড়া :- বাংলার আকাশে বাতাসে পুজো পুজো গন্ধ । ভোরের ঝরে পড়া শিউলী, আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ, মাঠে ঘাটে বাতাসে দোলা লাগানো কাশফুল জানান দিচ্ছে ‘মা’ আসছেন । হাতে গোনা আর মাত্র কয়েক দিন। তারপরেই ঢাকে কাঠি পড়বে। নরী শক্তিরুপে মায়ের আগমন ঘটবে মর্তে। কিন্তু এতোসবেরর পরেও প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের পাতায় চোখ রাখলেই নারী নির্যাতনের ছবি। তবে বর্তমানে নারীরাও যে পিছিয়ে নেই কোনো অংশে। যে রাধে সে চুলও বাঁধে। ঠিক সেই অভিনব দেবী দুর্গার চিত্র ফ্রেমবন্দী রাখার অভিনব উদ্যোগ নিল বাঁকুড়ার ফটোগ্রাফী সংস্থা।

গত কয়েক দিন ধরে শহর সংলগ্ন দ্বারকেশ্বর নদী কাশফুল বার্তা দেয় মা দুর্গার আগমন। ঠিক সেই সময় কাশ ফুলের জঙ্গলে ‘আগমণী’র শ্যুটিং এ ব্যস্ত হলেন ছোটো থেকে মাঝারি দুর্গা নিয়ে হাজির হলেন বেশ কিছু মহিলা। সাথে হাজির বিউটিশিয়ান ও পেশাদার ফটোগ্রাফাররা। তাদের দেবী দুর্গার সাজে বিভিন্ন সাজে সাজিয়ে তুললেন বিউটিশিয়ান কর্মীরা। আর সবশেষে সাজানোর পর সেই ছবি ফ্রেমবন্দি করলেন স্থানীয় মানুষ থেকে চিত্র গ্রাহক সকলেই। অভিনব এই উদ্যোগকে ঘিরে সকলের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। খুশির হাওয়া বাঁকুড়ার আকাশে বাতাসে। এক লহমায় বদলে যেতেই পারে জীবনের সমস্ত গ্লানি।

শহরের বেশ কয়েকটি বিউটি কর্মীরা দেবী দূর্গার বিভিন্ন সাজে তাদের মনের মতো করে সাজিয়েছেন। এই পরিকল্পনা যার মস্তিস্কপ্রসূত সেই তাপস দত্ত বলেন , একদিকে মা দুর্গা একজন নারী। তাঁকে দেবী দূর্গা বলে পুজা করা হচ্ছে। অন্যদিকে সেই নারীই প্রতিদিন সমাজের বুকে নানাভাবে লাঞ্ছনার শিকার। এতোসবেরও পরেও অনেক জায়গায় পুরুষের চেয়ে নারী অনেক এগিয়ে। পুরুষের সঙ্গে সমানভাবে সর্বত্র পাল্লা দিচ্ছে , সেই বার্তাই আমরা সমাজে ছড়িয়ে দিতে চাই।

অংশগ্রহণকারী চৈতালী বিশ্বাস বলেন, নারী কোন দিক থেকেই পিছিয়ে নেই। নারী নয়, কিছু মানুষের মানসিকতা পিছিয়ে আছে। বাড়িতে রান্নাবান্না করে, সন্তানকে সামলে বাইরের কাজও করছি। একজন নারী হিসেবে এখানেই তার সাফল্য বলে তিনি মনে করেন ।

প্রিয়াঙ্কা রজক বলেন, আমরা নারীরা পিছিয়ে নেই কোন দিক থেকেই। দশভূজা দুর্গার মতো সবাই এগিয়ে যাও। নারীরা এখন যেমন বিমান চালাচ্ছে, তেমনি চাঁদেও যাচ্ছে। এই বার্তাই তুলে ধরতে চেয়েছি।

বিউটিশিয়ান পাপিয়া চৌধুরী বলেন, আমরা পাঁচজন মিলে দুর্গাকে সাজিয়েছি । একজন মহিলা একাই একশো। সে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। এখন আর মেয়েরা অসহায়, দূর্বল নয়। এই ভাবনা নিয়ে যারা বসে আছেন তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঘরে বাইরে সব সামলে এখন মেয়েরা চাঁদেও যাচ্ছে। নারী এখন সর্বশক্তির অধিকারিণী এই বার্তাই তারা তাদের কাজের মাধ্যমে দিতে চাইছেন বলে তিনি জানান।

তবে দাপর যুগ , ত্রেতা যুগ , কলি যুগ সবদিক দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায় নারীরা কোনদিন হারেনি , কারন ওরা হারতে শেখেনি ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here