বাঁকুড়ায় শুকনো দামোদরে বাড়ন্ত মাছ, অস্তিত্ব সংকটে মৎস্যজীবীরা

0
689

সঞ্জীব মল্লিক , বাঁকুড়া: জেলার গুরুত্বপূর্ণ নদী হিসেবে অগ্রগণ্য দামোদর, যার একদিকে বাঁকুড়া আর অন্যদিকে পূর্ব বর্ধমান জেলা বিস্তার করেছে। এই দামোদর নদীই নদী তীরবর্তী অবস্থিত শতাধিক মৎস্যজীবি পরিবারের রোজগারের অন্যতম এক মাধ্যম। বাঁকুড়া জেলার সোনামুখীর রাধামোহনপুর অঞ্চলের নিত্যানন্দপুর, সুমিতিমানা, রাঙামাটি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার বুদবুদের চাকতেতুল, শালডাঙা, সতিডাঙ্গা গ্রামের শতাধিক পরিবারের জীবিকার অন্যতম সম্বল হল দামোদর নদীর মাছ শিকার। কিন্তু বর্তমানে তাদের সংসারে চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। কারণ দামোদর নদী মূলত বৃষ্টির জলে পুষ্ট। তাই বর্ষাকাল এলে যেমন নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে তেমনি গ্রীষ্মকালে প্রখর তাপে নদী শুকিয়ে কাঠ, ফলে মাছেরও দেখা নেই নদীতে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের বয়ান অনুযায়ী দীর্ঘ ছয়মাস নদীতে কোনও জল না থাকায় নদীতে মাছ ধরতে পারছেন না তারা। ফলে ব্যাপকভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন এই সমস্ত মৎস্যজীবিরা। কীভাবে তাদের সংসার চলবে, ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচই বা চলবে কিভাবে তা ভেবে কুল পাচ্ছেন না তারা। ইতিমধ্যেই রোজগারের আশায় বহু মানুষ ভিন রাজ্যে কাজে চলে গিয়েছেন। দামোদর নদীতে জল ভরলে আবার তারা বাড়ি ফিরে আসবেন এই আশায়। এক মৎস্যজীবী গুনময় আকুড়ে জানালেন, নদীতে মাছ ধরেই সংসার চলে, কিন্তু দীর্ঘ ছ’মাস ধরে নদীতে জল না থাকায় মাছ বাড়ন্ত। তাই সরকারী আশায় দিন গুনছেন তারা। জেলেরা মাছ না পাওয়ায় মৎস্য ব্যবসায়ীরাও বেশিরভাগ সময়ই মাছের দোকান খুলে বসে থাকছেন কিন্তু মাছ পাচ্ছেন না। ফলে আর্থিক ভাবে তাদেরও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এবিষয়ে সোনামুখী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং পূর্ব বর্ধমান জেলার বুদবুদ থানার চাকতেতুল পঞ্চায়েতের প্রধানের জানালেন লোকসভা ভোট দোরগোড়ায় তাই বর্তমানে প্রশাসনের কাজের ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে ভোট শেষ হলেই মৎস্যজীবীদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। তাই আপাতত সরকারী সাহায্য আর বৃষ্টির অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন মৎস্যজীবীরা।