আজ বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া গ্রামে মৃৎশিল্পীদের চাকা পূজা অনুষ্ঠিত হলো

0
90

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- চৈত্র মাস থেকে বন্ধ ছিল কুমোরদের চাকা, আজ চাকা পূজার মধ্য দিয়ে পাঁচমুড়ার কুম্ভকার সম্প্রদায়ের শিল্পীরা আবার চাকা ঘুরিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করবে। সভ্যতার আদি লগ্ন থেকে ক্রম বিবর্তনের মাধ্যমে শৈল্পিক কারুকার্য সৃষ্টি এই চাকাতেই। যা মৃত শিল্পের বিবর্ত এর সাক্ষী। কিন্তু চৈত্র মাস থেকে বেশ জৈষ্ঠ মাসের বিজোড় শনিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকে এই চাকা, কুমোর পাড়ায় কয়েক দিনের জন্য প্রতিবছরই এই সময় যেন নেমে আসে লক ডাউন। কিন্তু কেন? এর পিছনে রয়েছে নানা লোকশ্রুতি। রয়েছে এর পিছনে বিজ্ঞান।

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুযায়ী, শিব কর্তৃক সৃষ্টি কুম্ভকার জাতি চড়ক পূজা অর্থাৎ শিবের গাজনেই অনুপস্থিত থাকে, যেটাকে মহাদেব এক প্রকার অবহেলা বলে মনে করেন।তাই কর্মরত কুম্ভকারের চক্রে মহাদেব স্বয়ং উপবেশন করেন। হঠাৎ শিবের এই হেন কর্মে কর্মরত কুম্ভকার তাঁর অপরাধ বুঝতে পারেন। এই সম্প্রদায় তৎক্ষণাত কাজ বন্ধ করেন দেন। পরে অনান্য দেবতাদের সঙ্গে শলা পরামর্শ করে শিবকে বোঝানো হয় এবং চৈত্র মাসের আঠাশ তারিখে শিব উঠে যান চাকার উপর। তারপর পুরো বৈশাখ মাস পার করে জৈষ্ঠ মাসের প্রথম বিজোড় শনিবার বিভিন্ন শিষ্টাচার মেনে এই চক্রপূজো বা চাকা পূজো করা হয় এবং নতুন মাটি এনে আবার কাজ শুরু হয়।

অপরদিকে শিল্পী বিশ্বনাথ কুম্ভকার জানান, চৈত্র মাসের চড়ক সংক্রান্তির আগে এক কুম্ভকার নদীতে স্নান করতে যায়।সেসময় নদীতে বিল্লপত্র সহ একটি ঘট ভেসে আসছিল এবং কুম্ভকার নিজে নদীর জলে ডুব দিয়ে ওঠার পর তার বুকের সামনে এসে হাজির হয় ওই বিল্লপত্র সহ ঘটে। ঘটে আঁকা ছিল শিবের মূর্তি।এরপরে ওই কুম্ভকার বাড়িতে ওই ঘটসহ নিয়ে আসে এবং মাটির চাকার উপর শিবলিঙ্গ তৈরি করে চৈত্র মাসের শেষে নীলের পুজোর দিন বা মেলের পূজার দিনে।এরপর ওই শিবলিঙ্গ কে সারা বৈশাখ মাস ধরে উপাসনা করার পর জৈষ্ঠ্য মাসের বিজোড় শনিবার ধরে সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে এই চাকা পূজা। এই রীতি চলে আসছে প্রায় আনুমানিক 500 বছর ধরে।

তিনি এও বলেন অতীতে চাকা পুজোর সময় দীর্ঘ সময় ধরে কাজ বন্ধ থাকায় জেলার সমস্ত কুম্ভকার মানুষদের নিয়ে শতকিয়া’র মাধ্যমে সভা অনুষ্ঠিত হতো সেখানে সবারই অভাব-অনটনের কথা শোনা হত আর। এই সময়টাকেই বেছে নেয়া হতো কারণ দীর্ঘ সময় এই সম্প্রদায়ের মানুষ শিবের উপাসনা করার জন্য কর্মহীন হয়ে থাকতো

কিন্তু প্রতিটি জনশ্রুতির বা লোকাচারের সাথেই জড়িয়ে রয়েছে বিজ্ঞান।পাঁচমুড়ার মৃত শিল্পী শিবু কুম্ভাকার ও বিশ্বনাথ কুম্ভকারের কথায়, চৈত্র মাস থেকে প্রচন্ড পরিমানে গরম ও রোদের ফলে আবহাওয়া শুষ্ক থাকে ফলে মাটির তৈরি জিনিসপত্র অতি সহজেই ফেটে যেতে পারে কাঁচা অবস্থায় তাই ,এই সময় মৃত শিল্পের জন্য উপযুক্ত সময় নয়, তাই কাজ বন্ধ থাকে।
অনান্য বছর এই চাকা পূজো কে কেন্দ্র করে কুম্ভকার সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যপক উন্মাদনা থাকে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তা পালিত হয়, কিন্তু এবছর লক ডাউনের কারনে তা অনেক টাই কাটছাঁট করতে হয়েছে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here