দীপাবলিতে মাটির প্রদীপের অস্তিত্ব সংকটে, চায়না লাইটের দাপট বাজার জুড়ে

0
157

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুর :-

বাল্মিকী রামায়ণ অনুসারে দীপাবলীর দিনে শ্রীরামচন্দ্র পৌঁছেছিলেন অযোধ্যায় তার নিজের রাজধানীতে। আর সেই দিনটিকে উদযাপন করতে প্রতিবছর ভারতবাসীরা মেনে চলেন দীপাবলী উৎসব। দীপাবলি কে আলোর উৎসব বলা হয়। অশুভ শক্তির কে পরাস্ত করে শুভশক্তির উৎসব এই দীপাবলি । গোটা ভারতবর্ষজুড়ে তাই আলোর উৎসব দীপাবলি কে কেন্দ্র করে এক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

পশ্চিমবঙ্গে দীপাবলীর পরের দিনই হয় মা কালীর পুজো তাই মানুষের মধ্যে আলাদা এক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায় পুরো বাংলা জুড়ে। সারাদেশের সাথে সাথে পশ্চিমবঙ্গেও প্রতিটি বাড়িতে মোমবাতি ও মাটির প্রদীপে আলোকিত হয় গৃহ অঙ্গন । বেশ কয়েক বছর ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে দিন দিন মানুষের মাটির প্রদীপ এর চেয়ে চায়না থেকে আমদানি করা বিভিন্ন রঙের, বিভিন্ন বর্ণের ছোট ছোট টুনি লাইটের কদর বাড়ছে । গোটা বাজার জুড়ে চায়না লাইটের দাপটে ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি শিল্প। ভারতের সাথে চীনের সম্পর্কের টানাপোড়েনে গত বছর চিনা লাইটের দাপট কিছুটা বাজারে কমলো এবছরে চীনা প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের পর থেকেই বাজার আবার ছেয়ে গেছে চীনা লাইটের দাপটে।

গ্রামবাংলায় যেসব কারিগররা মাটির প্রদীপ বানাতেন বা মোমবাতি তৈরীর ছোট ছোট কারখানা ছিল সেগুলি এখন বন্দর মুখে। চায়না থেকে আমদানি করা টুনি লাইটের রংবেরঙের রং ও হরেক রকমের কারিগরিতে ক্রমশই হারিয়ে যেতে বসেছে বাংলার প্রাচীন মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি শিল্প । আসানসোল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে প্রায় ৫০০ টি পরিবার মাটির প্রদীপ ও ছোট ছোট কারখানাতে মোমবাতি প্রস্তুত করার কাজে নিযুক্ত ছিলেন। কিন্তু এই বছর তাদের মধ্যে অনেকেই আর মাটির প্রদীপ বা মোমবাতি বানানো তে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। স্বভাবতই ওই পরিবারগুলোর সদস্যরা আর এই কাজে নিযুক্ত হতে চাইছেন না ।

মূল কারণ হিসেবে এই পরিবারগুলি জানালেন যে তারা মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি বানিয়ে যে পরিমান অর্থ উপার্জন করেন তাতে তাদের পরিবারের লাভ হয় না বরং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় তাদের । আক্ষেপ করে তারা বলেন বাজারে সমস্ত জিনিসের দাম অগ্নিমূল্য কিন্তু দীপাবলির জন্য তৈরি করা মাটির প্রদীপ ও হাতে গড়া মোমবাতির কদর আজ কমে গিয়েছে । তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের কে আর এই জীবিকায় আসতে দিতে চান না বরং তার বদলে তারা দিনমজুর কেটে নিজেদের জীবিকা অর্জন করবেন বলে জানান এই মাটির প্রদীপ ও মোমবাতি শিল্পের কারিগররা। স্বভাবতই প্রশ্ন একটা রয়েই গেল তাহলে কি মাটির প্রদীপ ও হাতে গড়া মোমবাতির দিন আর ফিরবে না, হারিয়ে যাবে এই কুটির শিল্প?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here