চায়না লাইটের আলোতে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে মাটির প্রদীপের আলো

0
154

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া :-

সামনেই আলোর উৎসব দীপাবলি, আলোর রোশনাই ভোরে উঠবে রাঢ বঙ্গের চারিদিক। প্রদীপের শিখা আর মোমবাতির আলোয় আলোকিত হবে ইট কাঠ কংক্রিটের শহরতলি থেকে প্রতন্তর গ্রাম। মাটির প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে আলোর উৎসব। তবে আজ চিত্রটা অনেকটাই পাল্টেছে,চায়না টুনি বাল্প এর দাপটে সেই মাটির প্রদীপ চাহিদা আজ খুব কম|

দীপাবলি উৎসবের আগে পাত্রসায়ের থানার হামির পুর অঞ্চলের হামির পুর গ্রামের মৃৎশিল্পীদের প্রদীপের বাজার মন্দা। একটা সময় ছিলো দীপাবলিতে প্রদীপের চাহিদা ছিলো খুব। কিন্তু আজ একবিংশ শতাব্দীতে এসে আধুনিকতাকে সাথী করে নিয়ে ব্রাত করে ফেলেছে মাটির প্রদীপকে। পোড়া মাটির প্রদীপের জায়গায় থাবা বসিয়েছে বৈদেশিক চীনা বাল্প। ফলে পূর্বপুরুষের কাজ এবং কুমোর কাজের শিল্পীসত্তা হারাতে বসেছে হামির পুর অঞ্চলের মৃৎশিল্পীরা। চায়না লাইট একচেটিয়া দখল করে আছে সমস্ত বাজার, ফলেই চাহিদা কমছে মাটির প্রদীপের|


। হামির পুর অঞ্চলের মৃৎশিল্পী চন্দন পাল বলেন মাটি কিনে তারপর সারাদিন পরিশ্রম করেও মাটির প্রদীপে বাজার বিক্রি নেই, চায়না বাল্বের জন্যই এখন মাটির প্রদীপ খুব কম বিক্রি হয়। পূর্বপুরুষের কাজ কোনো রকমে টিকিয়ে রেখেছি। তিনি আরো বলেন সরকার যদি আমাদের পণ্যসামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে খুব উপকৃত হবো। পাল বাড়ির গৃহবধূ প্রতিমা পাল জানান মাটির জিনিস বিক্রির কমে যাওয়ার ফলে আমাদের সংসার চালাতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। সামনেই দীপাবলি, কালীপুজো বাজার এই রকম মন্দা থাকলে ছেলেমেয়েদের জামাকাপড় কিনে দিতে পারবো না। আজ বিদেশী দ্রব্য ব্যবহারের ফলে হারিয়ে ফেলছি আমাদের মাটির প্রদীপের ব্যবহার। এর ফলে পরের প্রজন্মের কাছে অচেনা থেকে যাবে মৃৎশিল্পীদের কারুকার্য। শুধু বইয়ের পাতার আঁকা থাকবে মৃৎশিল্পীদের কাজের ছবি। শুধু তাই নয় হারিয়ে যাবে আমাদের মাটির প্রদীপের আলোর রশ্মি|

আসুন আজ থেকেই মাটির প্রদীপেকেই ব্যবহার করি। এই দীপাবলিতে সকলের বাড়িতে মাটির প্রদীপের মঙ্গল দ্বীপ জ্বেলে আলোকিত করি সবার হৃদয়। তাহলে আগামী দিনে টিকে থাকবে হামির পুর অঞ্চলের মৃৎশিল্পীদের শিল্পীসত্তা আর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here