আধুনিক প্রযুক্তির ছোবলে ধুঁকছে মফস্বলের সিনেমা হল ব্যবসা

0
867

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ খুব বেশি না, আজ থেকে বছর দশেক আগেও গ্রাম বা মফস্বল শহরের সিনেমা হলগুলিতে নতুন সিনেমা আসলেই ভিড় করতেন শয়ে শয়ে সিনেমাপ্রেমী। ঠিক সিনেমার কায়দায় বলতে গেলে, বছর খানেক আগেও বাংলা কিংবা হিন্দি সিনেমার ফাস্ট শোয়ের টিকিট কেটে সিনেমা না দেখলে সিনেমাপ্রেমীদের পেটের ভাত হজম হত না। সেইসমস্ত সিনেমা পাগল মানুষের প্রগাঢ় ভালোবাসায় রমরমিয়ে চলত গ্রাম ও মফস্বলের সিনেমা হলগুলি। কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধান, সিনেমা হল ব্যবসায়ীদের ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল ৩৬০ ডিগ্রী। কারণ ধীরে ধীরে শহর ও মফস্বলে গড়ে উঠতে শুরু করলো ঝাঁ চকচকে মাল্টিপ্লেক্স ও থ্রিডি সিনেমা হল। ব্যস, সেই থেকে পতনের শুরু। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে একধাক্কায় হুমড়ি খেয়ে পড়লো সিনেমা হল ব্যবসা। কারণ, মাত্র কিছু টাকা বেশি দিয়ে আরাম কেদারায় হেলান দিয়ে পপকর্ণ হাতে থ্রিডি সিনেমা হলকেই বেছে নিল পুরনো ও নতুন সিনেমাপ্রেমীরা। ধীরে একদিকে যখন ভরতে শুরু করলো মাল্টিপ্লেক্সের চেয়ার তখন দর্শকের অভাবে ঝাঁপ নামতে শুরু করলো পুরনো সিনেমা হলগুলির। কারণ দর্শক না হলে রোজগার কি করে হবে? কর্মীদের বেতন আসবে কোথা থেকে? তবে শহরের এখনও বেশ কিছু সিনেমা হল টিকে থাকলেও সেগুলির অবস্থাও তথৈবচ। নতুন সিনেমা হলে এলেও সেই সিনেমা দেখতে দর্শক নেই। কারণ আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত হলে সিনেমা দেখতে উৎসুক সিনেমাপ্রেমীরা। তাই পুরনো সিনেমাহলমুখী হতে চাইছেন না কেউই। শুধু আধুনিক মাল্টিপ্লেক্সের দোষ দেওয়াও ঠিক নয়। কারণ, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে আমাদের সকলের হাতে স্মার্টফোন। আর তার সঙ্গে লেজুড় বিভিন্ন মোবাইল সংযোগকারী সংস্থার দেদার ইন্টারনেট পরিষেবা। আর এই ইন্টারনেট পরিষেবা সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় সিনেমা হলে গিয়ে ৩ ঘণ্টা ধরে সিনেমা দেখার ধৈর্য্য কমেছে আমজনতার। কাজের অবসরে আঙুলের আলতো ছোঁয়ায় নিজের পছন্দের নতুন সিনেমা মুহূর্তে চলে আসছে স্মার্টফোনের বিশাল স্ক্রিনে। ফলে সিনেমা হলের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন দর্শকরা। তারওপরে গত কয়েক বছর ধরে একাধিক নতুন সিনেমা মুক্তি পাওয়ার আগেই বিভিন্ন পাইরেটেড ওয়েবসাইটগুলিতে লিক হয়ে যাওয়ায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসেই সেই নতুন সিনেমা দেখে নিচ্ছে সিনেমাপ্রেমীরা। এর ফলেও মার খাচ্ছে সিনেমা হল ব্যবসা। সবমিলিয়ে গত কয়েক বছরে রাজ্যে বহু সিনেমা হল আমাদের অজান্তেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বেশ কিছু সিনেমা হল বন্ধ হওয়ার মুখ। ফলে একদিকে যেমন বেশকিছু ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচতে তেমনি কাজ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। আধুনিক মাল্টিপ্লেক্স ও প্রযুক্তি একদিকে যখন সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে তখন সেই আধুনিকতার আস্পর্ধায় আজ বন্ধ হতে বসেছে রাজ্যের প্রাচীন সিনেমা হলগুলি। কিন্তু এখানে করার কিছুই নেই। কারণ মানুষ বরাবর পুরনোকে ভুলে নতুনকে আঁকড়ে ধরেছে। হয়তো এমনও কোনওদিন আসবে যেদিন আজকের এই অত্যাধুনিক মাল্টিপ্লেক্সগুলির জায়গা নিয়ে নেবে অন্য কিছু। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। সে অতীত হোক, বর্তমানই হোক বা ভবিষ্যত, যাই হোক না কেন।