শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের জন্য সুখবর, দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর দুই বয়স্ক রোগী করোনা মুক্ত, দুর্গাপুর প্রমাণ করল করোনা মুক্ত শহর এটি

0
5269

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল আশেপাশের পাঁচটি জেলার একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। করোনা সংক্রমণ কালে সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উল্লেখযোগ্য চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৯ জন রোগী সুস্থ হয়ে তাদের নিজেদের বাড়ি ফিরে গেছেন। গত কদিন আগে একজনও রোগী ছিলেন না এই হাসপাতলে। সবাইকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল সুস্থ করে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের জেরে আবার বীরভূমের ময়ূরেশ্বর, মাল্লারপুর, পূর্ব বর্ধমান ও মুর্শিদাবাদ থেকে চার জন রোগী এখানে ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য। আশেপাশের পাঁচটি স্বাস্থ্য জেলা যেমন পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও পুরুলিয়ার সমস্ত করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতাল কে নির্বাচিত করা হয়েছিল। কিন্তু সি.এম.ও.এইচ বীরভূম ও সি.এম.ও.এইচ রামপুরহাটের অনুরোধে তাদের এলাকার পর্যাপ্ত পরিকাঠামো করোনা চিকিৎসার নেই বলে এই হসপিটালকে অনুরোধ করেন তাদের এলাকার রোগীদের চিকিৎসা করার জন্য। বীরভূমের ময়ূরেশ্বর এক জন, বীরভূমের মাল্লারপুরের এক জন ও মুর্শিদাবাদের তালঅনগা এক জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালের নিরন্তর চিকিৎসা ও সেবায় সুস্থ হয়ে তিনজনেই নিজের নিজের বাড়ি ফিরে গেছেন। গত কালকে দুটি করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিলেন চিকিৎসার জন্য কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। দুর্গাপুরে এক জন ইস্পাত নগরীর এ-জোনের ও অন্য জন ইস্পাত নগরীর বি-জোনের।

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের জন্য সুখবর। আজ বিকালে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে যে দুর্গাপুরে এক জন ইস্পাত নগরীর এ-জোনের ও অন্য জন ইস্পাত নগরীর বি-জোনের করোনা আক্রান্ত রোগী মাত্র তিন দিনের উন্নত পরিষেবা ও ডাক্তারদের নিরন্তর চেষ্টায় ও সেবায় করোনা মুক্ত। ওই দুই প্রবীণ ব্যক্তিদের যখন ১০ই মে তাদের কোভিড-১৯ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল তখন তারা তাদের কলকাতার সুরক্ষা ডায়াগনস্টিক ল্যাব এর রিপোর্ট অনুসারে করোণা পজিটিভ ছিলেন। তিনদিনের মাথায় উক্ত ব্যক্তিদের কোভিড-১৯ রিপোর্ট করানো হয় আবার আজ হাসপাতালেই। উন্নত পরিষেবা ও ডাক্তারদের নিরন্তর চেষ্টায় ও সেবায় তিনদিনের মাথায় উক্ত ব্যক্তিদের রিপোর্ট করোনা নেগেটিভ আশে। এরপরেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আজ বিকালে তাদেরকে ছুটি দিয়ে আবার হেলথ ওয়াল্ড হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন তাদের অন্যান্য শারীরিক যে সমস্যা ছিল তার চিকিৎসার জন্য। তারা আগে হেলথ ওয়ার্ল্ড এ ভর্তি হয়েছিলেন তার চিকিৎসার করার জন্য।

উল্লেখ্য দুদিন আগেই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেস এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পরিকাঠামো এবং তাদের হাসপাতালে উন্নত মানের পরিষেবাতে ও উল্লেখযোগ্য করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় তারা সন্তুষ্ট। তাই অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সাইন্সেসের কর্তারা একটি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছিলেন এবার থেকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল টেস্ট করতে পারবেন তাদের হাসপাতালে। টেস্ট সেন্টার হিসেবে অনুমোদন পেয়েছিলন এই হাসপাতাল।

এমতো অবস্থায় হলফ করে বলা যেতে পারে যে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এখনো পর্যন্ত করোনা মুক্ত শহর। এখনো পর্যন্ত আর কোন করোনা আক্রান্ত রোগীর হদিশ পাওয়া যায়নি দুর্গাপুর ও তার আশেপাশের অঞ্চলে। যে সমস্ত মানুষ সোশ্যাল মিডিয়াতে হোয়াটসঅ্যাপে ও ফেসবুকে দুর্গাপুর ইস্পাত নগরী ও শিল্পাঞ্চলকে করোনা আক্রান্ত শহর হিসেবে বদনাম করেছিলেন তাদের মুখে উচিত জবাব দিলো কোভিড-১৯ হাসপাতালের এই রিপোর্ট। সমস্ত রকম গুজবকে মিথ্যা প্রমাণ করে আবার দুর্গাপুর শহর প্রমাণ করল যে এটি একটি করোনা মুক্ত শহর।

সমগ্র শিল্পাঞ্চলবাঁশি নিজেদেরকে গর্বিত মনে করবেন যে তারা এমন একটি শহরে বসবাস করেন যেখানে আশেপাশের পাঁচটি জেলার একমাত্র কোভিড-১৯ হাসপাতাল রয়েছে এবং উল্লেখযোগ্য চিকিৎসা দ্বারা এখনো পর্যন্ত অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। এখানকার চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও বিভিন্ন করোনা যোদ্ধাদের জন্য সমস্ত শিল্পাঞ্চলবাঁশির শুভকামনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here