খনিতে করোনাভাইরাসের দাপটে থমকে গেল ই.সি.এলের ১৫০ কোটি’র টাকার প্রকল্প

0
820

অমল মাজি, আসানসোলঃ- প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের আক্রমণ এবার রানীগঞ্জ কয়লা অঞ্চলে।

উহান উজাড় করা করোনাভাইরাসের জব্বর ধাক্কায় আদতেই এবার বেশামাল কয়লা অঞ্চলের মাটির তলার একটি মহার্ঘ্য প্রকল্প। যা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের প্রায় (১৫০)দেড়শ কোটি টাকার প্রযুক্তি বিন্যাসের একটি কাজ থমকেই গেল।
সংস্থার শাকতোঁডিয়ার সদরদপ্তরের বেশ কিছু শীর্ষ কর্তার মতে, “অন্তত দুটি মাস পিছিয়ে গেল প্রকল্প রূপায়ণের কাজ । এখন আমাদের হাত গুটিয়ে বসে থাকা ছাড়া আর কিছু করার নেই।”

ই.সি.এলের লাভজনক খোট্টাডিহি কোলিয়ারি ,কয়লা খনির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে খনিটির প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন এর উপর জোর দেয় কোল ইন্ডিয়া। সেখানে আর ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঝুঁকি নিয়ে লাভের আশায় খনিতে “কন্টিনিউয়াস মাইনার” নামে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র বসানোর জন্য চীনের একটি সংস্থার সাথে চুক্তি করে ই.সি.এল। চিনা সংস্থার সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর হয় রাজ্যেরই একটি বেসরকারি সংস্থার মারফত গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ তে । তার আগে “কোল মাইনার অ্যাসোসিয়েটেড ট্রেডার্স ” নামের দেশীয় সংস্থাটি সর্বনিম্ন দরে কন্টিনিউয়াস মাইনার যন্ত্র সরবরাহ অঙ্গীকার করে ২০১৭ র ২৬ এপ্রিল মাসে। গোটা প্রক্রিয়াটিতে যন্ত্র বসানোর কাজ ২০১৯ র আগস্ট মাসে শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। সংস্থার সূত্রে জানা যায় দেশীয় সংস্থাটির অনভিজ্ঞতায় গোড়া থেকেই পিছিয়ে যায় মেশিন প্রতিস্থাপনের কাজ। ফলে, পূর্বনির্ধারিত ১২৭ কোটি ১৭ লক্ষ টাকার নির্ধারিত প্রকল্প খরচ ১৪০ কোটি টাকা ছুঁয়ে যায়। শুধু তাই নয় ওই যন্ত্র বসানোর দরুন ই.সি.এলের খোট্টাডিহি খনিটিতে যে বাসিক ৬ লক্ষ টন কয়লা উৎপাদনের কথা, সেটিও হাত ফসকে যায় রাষ্ট্রায়ত্ত খনি সংস্থার।

অনেক টানাপোড়েনের পর চলতি মাসে চীনের সংস্থাটি কন্টিনিউয়াস মাইনার যন্ত্র গুলি সমুদ্র পথে ভারতে পাঠানোর জন্য জাহাজে চাপায়। “আমাদের সমস্ত মেশিনই জাহাজে চেপে গেছে। কলকাতা বন্দরে পৌঁছেও যাবে কিছুদিনের ভেতর। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে অন্তত দুটি মাস খোট্টাডিহি প্রকল্পে যন্ত্র বসানোর কাজ শুরু করা যাবে না”- জানালেন দেশীয় বেসরকারি সংস্থাটির কর্ণধার সন্দ্বীপ দে । তিনি বলেন “দুমাস কাজ হবে না কারণ যন্ত্র বসানোর প্রশিক্ষিত চীনা বিশেষজ্ঞরা এখন দেশে ছাড়ার অনুমতিই পাবেন না।

খোট্টাডিহি খনির বর্তমান দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৫০ টন। খনির মহাপ্রবন্ধক সুভাস মুখোপাধ্যায় বলেন “আমাদের খনির মাটির নিচে আর ৮ ও আর ৬ সিম দুটিতে কন্টিনিউয়াস মাইনার বসবে। কিন্তু সেই কাজ করোনাভাইরাস দাপটের দরুন ফের পিছিয়ে গেল। তিনি বলেন যন্ত্র জাহাজে চাপলেও , জাহাজ চীনের বন্দর ছাড়েনি বলেই জানতে পেরেছি । ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে সমস্ত যন্ত্রাংশ এখানে এসে যাওয়ার কথা ছিল। তা আর হচ্ছে না আপাতত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here