শিল্পাঞ্চলে লকডাউন পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের লাঠির ঘায়ে ঘায়েল ইসিএল কর্মী… দেখুন সেই ভাইরাল ভিডিও

0
364

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা বিশ্বজুড়ে যখন মারণ রোগ করোনাভাইরাস এর দাপটে লকডাউন পরিস্থিতি চলছে তখন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তার ব্যাপক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষজন নিজে থেকেই গৃহবন্দি হওয়ার চেষ্টা করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনাকাটা ছাড়া মানুষজন আর বাইরে বের হচ্ছেন না। এমন কিছু মানুষজন এখনো আছেন যারা এই সময়টিকে ‘ফেস্টিভ মুড’ মনে করে এখনো রাস্তাঘাটে পথে বাজারে বের হচ্ছেন তাদের পরিবার নিয়ে। এই পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে আজ সকাল থেকে শিল্পাঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। শিল্পাঞ্চলের কমবেশি প্রত্যেকটি মোড়ে মোড়েই পুলিশের টহলদারি গাড়ির অস্তিত্ব দেখা যায়। বাজার গুলির প্রত্যেকটি দোকানের সামনে নির্দিষ্ট করে চুন দিয়ে দাগ দেওয়া হয়েছে কোথায় কত দূরত্ব বজায় রেখে সাধারণ নাগরিকরা কেনাকাটা করতে পারবেন। যেকোনো আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে সাধারণ শিল্পাঞ্চল বাসিকে। জারি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতাল বিধান নগরে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম তার নম্বর ৮৯০০০১১০৩৯ জারি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে।

এরইমধ্যে আজ দুপুরে একটি ভিডিও ভাইরাল হয় শিল্পাঞ্চল জুড়ে। ভিডিওটিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে একজন ই সি এল কর্মী ডিউটি যাওয়ার পথে পুলিশের লাঠির আঘাতের শিকার হয়েছেন। ভিডিওটিতে ভদ্রলোকের নাম পূর্ণেন্দু মন্ডল বলে জানাচ্ছেন ভিডিও পরিচালন কারী। হুমকির সুরে তিনি জানাচ্ছেন যদি আপৎকালীন কর্মরত ই সি এল শ্রমিকদের ডিউটি যাওয়ার পথে যদি বাধা দেওয়া হয় তাহলে তারা আর কয়লা উত্তোলন করতে মাটির তলায় যাবেন না। ব্যাহত হবে তাপবিদ্যুৎ কারখানা গুলির কয়লার যোগান। ব্যাহত হবে বিদ্যুৎ পরিষেবা।

এই ভিডিওটি ভাইরাল হলো তার মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে। লকডাউন পরিস্থিতিকে কড়া ভাবে সামাল দিতে পুলিশ কর্মীদেরকে কঠোর হতে অনেক আগে থেকেই অনুরোধ জানিয়ে আসছেন সাধারণ শিল্পাঞ্চলবাসি সামাজিক মাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়াতে। সেই ব্যাপারটি উপলব্ধি করেই পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভুলবশত হয়তো একজন ব্যক্তিকে লাঠির ঘা খেতে হয়েছে যিনি সত্তিকারের হয়তো ডিউটিতে যাচ্ছিলেন আপৎকালীন কাজের জন্য। তবে একথা ঠিক পুলিশ যেভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে তা সত্যিই দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে শিল্পাঞ্চলের ইতিহাসে। হাজার হাজার মানুষকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে একটা দুটো ভুল হতেই পারে বলে জানাচ্ছেন শিল্পাঞ্চল বাঁশি। দুর্গাপুর পুলিশকে সর্ব ভাবে সাহায্য করতে এবং অপপ্রচার রুখতে সাধারণ শিল্পাঞ্চল বাসী একত্রিত হয়ে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমের দ্বারা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর, যাতে পুলিশ আরো শক্ত হয়ে মানুষের অবাধ বিচরণ লকডাউন এর সময় রোধ করতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here