কর্মীদের প্রোমোশনঃ হাইকোর্টে ধমক খেল দক্ষিণবঙ্গঁ পরিবহন নিগম

0
691

বিশেষ প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ- ‘ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস’ খাওয়ানোর একটি আঢ়তে পরিনত হয়েছে রাজ্য সরকারের পরিচালনাধীন দক্ষিনবঙ্গঁ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম (এস.বি.এস.টি.সি)। এর এই নিয়ম ভাঙার খেলার মশগুল পরিবহন সংস্থাটির প্রায় ‘টপ টু বটম’ যে ধীরে ধীরে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ছে তা ঠাহর করেছে এবার কলকাতা হাইকোর্টও।
শুধু কলকাতা হাইকোর্ট-ই নয়, সংস্থার লাগামহীন বে নিয়ম নিয়ে মোটা টাকার লেনেদেন সন্দেহ করে রাজ্য ভিজিল্যান্স থেকে শুরু করে সরাসরি সি.বি.আই. তদন্তের দাবিও তুলেছেন কর্মচারীদের একাংশ। তাদের দাবি, সংস্থার চেয়ারম্যান তমোনশ ঘোষ থেকে শুরু করে, ম্যানেজিং ডিরেক্টর গোদালা কীরন কুমার এবং দুটি শ্রমিক সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা লুঠের ভাগ, বেনিয়ম করে গুটিকয় কর্মীকে পাইয়ে দেওয়ার খেলায় মেতে রয়েছেন। পাশাপাশি, কিছু কিছু দল বদলু নেতা পরিবহন নিগমের পদাধিকারীদের “ব্ল্যাকমেল” করে নিজের নিজের আখের গুছিয়ে নিচ্ছেন। নেপো’র দই মারার মতো বাইরে থেকে লুঠপাট চালিয়ে যাচ্ছে বাম আমলে নিয়োজিত কয়েকটি ঠিকা সংস্থাও। সে ক্ষেত্রে দুর্গাপুর শহরের তৃনমূল কং গ্রেস এবং বিজেপি’র বেশ কিছু নেতার নাম জড়িয়েছে সুপারিশ, প্রভাব খাটানো এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে।
শনিবার কলকাতা হাইকোর্ট, পরিবহন নিগমের শ্রমিক কর্মচারীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে সাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, “কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত সার্ভিস রুল ভেঙে কাউকেই প্রোমোশন দেওয়া যাবে না”।
সম্প্রতি দক্ষিনবঙ্গঁ পরিবহন নিগম আচমকাই একটি সিদ্ধান্ত নেয়- সার্ভিস রুলের ১১ নম্বর ধারা কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তারা স্বচ্ছতা আনার নামে পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এই মর্মে জারি করা হয় একটি নোটিশও। শনিবার কলকাতা হাইকোর্ট নিগমের ওই নোটিশ কে খারিজ করে বলে- পদোন্নতি দিতে হবে শ্রমিক কর্মচারীদের সিনিয়ারিটির ভিত্তিতেই।
নিগম কর্তৃপক্ষ ২০১৩ সালে নোটিশ জারি করে জানায়, জুনিয়ার দের প্রোমোশন দেওয়া হবে পরীক্ষায় পাশ করলে এবং তারা কতদিন চাকরি করছে তার ভিত্তিতে। পরিবহন নিগমের এক শ্রমিক প্রভাত দেবনাথ সম্প্রতি কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন। প্রভাতের আইনজীবি জয় চক্রবর্তী রবিবার বলেন, “প্রোমোশনে স্বচ্ছতা আনার নামে লোক দেখানো পরীক্ষা আমদানি করে আসলে পছন্দের লোকেদের পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টি হাইকোর্ট ধরে ফেলেছে। কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে পদোন্নতি দিতে হবে সরকারের সার্ভিস রুল মেনেই”।
গত ২০১৩ সালে নয়া পদ্ধতি আমদানি করার পর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মচারীদের বাদ রেখে নতুন চাকরিতে ঢোকা বহু কর্মচারী প্রোমোশন পেয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মুখ পোড়ার পর সংস্থার অধিকাংশ কর্মকর্তা ও নিয়ে আর মুখ খুলতে চাইছেন না।
এদিকে, সংস্থারই শ্রমিক কর্মচারীদের তৃনমূল কংগ্রেসের ইউনিয়নের এক নেতা ও সিপিএম থেকে সদ্য বিজেপিতে যাওয়া এক নেতা সহ আটজন কর্মচারীর আচমকা নিয়ম ভেঙে পদোন্নতি দেওয়া কে ঘিরেও অসন্তোষ ছড়াচ্ছে নিগমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here