অফিসার নিয়োগ করে আসানসোলের অবৈধ কয়লা কারবার বন্ধ করতে বলল হাইকোর্ট

0
264

বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতাঃ- ‘বেআইনী কয়লা কারবার কি বন্ধ হয়েছে’? এবার বেশ ধমক দিয়েই জানতে চাইল কলকাতা হাইকোর্ট। সাথে সাথে হুঁশিয়ার দিয়ে কোর্ট নির্দেশও দিল- ‘১৯ জুলাই, ২০১৯ বেআইনী কয়লা বন্ধের জন্য হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা-কি যথাযত ভাবে পালন করা হয়েছে? গোটা বিষয়টি নিয়ে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে কোর্টের কাছে একটি পুরনাংগ রিপোর্ট পেশ করুক সরকার’।
কলকাতা হাইকোর্ট গত ২২ নভেম্বর আসানসোল- দুর্গাপুরের বেআইনী কয়লা কারবার সংক্রান্ত একটি মোকদ্দমার শুনানীর সময় রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে এই নির্দেশ দেয়। কোর্ট সরকারকে আদালতের নির্দেশ যথাযত পালনের জন্য একজন আধিকারিক নিয়োগেরও নির্দেশ দেয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি টি বি এন রাধাকৃষনান ও অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায়ের ডিভিশ্ন বেঞ্চ গত ১৯ জুলাই আসানসোল- দুর্গাপুর- রানীগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকায় বেআইনী কয়লা খাদান ও কয়লা পরিবহন নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে, সরকারকে অবিলম্বে এই কারবার বন্ধ করার নির্দেশ জারি করে। গত ২২ নভেম্বর সেই নির্দেশই ঠিকঠাক পালন করা হয়েছে কিনা জানতে চায় কোর্ট।
আসানসোলের বিস্তীর্ণ রানীগঞ্জ কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন ব্লক – জামুড়িয়া, বারাবনি, কুলটি, রানীগঞ্জ ও সালানপুর জুড়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনী কয়লা খাদানের রমরমা। পুলিশ ও রাজনৈতিক যোগসাজশে এক শ্রেনীর কোল মাফিয়া কখনো আসানসোলে, কখনো দুর্গাপুর আবার কখনো পুরুলিয়ায় বসে কয়লা কারবারের কোটি কোটি টাকার মুনাফা লুঠে নিচ্ছে প্রতি সপ্তাহে। ২০১১ সালে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রথমেই ‘ আসানসোল – দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট’ গঠন করেন, যার মুখ্য উদ্দেশ্যই ছিল কয়লাঞ্চলে বেআইনী কয়লা কারবারে রশি টানা। গোড়ায় কিছুদিন কয়লা কারবার প্রায় বন্ধ হয়ে গেলেও, গত কয়েকমাস ধরে ফের তার রমরমা শুরু হয়েছে।
আসানসোলের এক বাসিন্দা পার্থ ঘোষ কলকাতা হাইকোর্টে মোকদ্দমা করেন এই মর্মে-যে অবাধে দিনের পর দিন কয়লার মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ লুঠ হয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়, তাকিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরাই।
পার্থ’র আবেদনে সাড়া দিয়েই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৯ জুলাই সরকারকে কয়লা কারবারে লাগাম টানার নির্দেশ দেয়। কোর্ট তার মন্তব্যে উল্লেখ করে, কয়লা দেশের খুব গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। একে মানুষের কল্যানেই কাজে লাগাতে হবে। কয়লার ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রন দেশের সংবিধান দ্বারা নির্ধারিত’।
গত শুক্রবার ডিভিশন বেঞ্চ বলে, “রাজ্য পুলিশের পক্ষে যদি বেয়াইনী কয়লা কারবার বন্ধ করা সম্ভব না হয়, তাহলে সি.আই.সিএস.এফ অথবা কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত পুলিশি ব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হোক”।
রাজ্য সরকার যে কয়লাঞ্চলের বিভিন্ন থানায় অযোগ্য ও.সি.দেরই পোস্টিং দিয়ে রেখেছে, হাইকোর্টের এই নির্দেশ কার্যতঃ সেদিকেই ইঙ্গিঁত দিয়েছে বলে পরযবেক্ষক মহল মনে করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here