করোনা নিয়ে সচেতনতার পাশাপাশি দুর্গাপুরে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা অস্বাস্থ্যকর নার্সিংহোমগুলির উপর নজরদারি প্রয়োজন

0
573

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- করোনা ভাইরাস নিয়ে দেশ জুড়ে সর্তকতা জারি হওয়ায় হাত গুটিয়ে বসে নেই দুর্গাপুর পুরসভার স্বাস্থ্য কর্মীরা। তারা এবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নেবে কেউ বিদেশ থেকে ফিরেছে কিনা এবং কেউ বিদেশে থাকে কিনা| মুখ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা দেওয়ার পরই কোমর বেঁধে নামছে দুর্গাপুর পুরসভা| ইতিমধ্যে রাজ্যের পুরসভা গুলি ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলি করোনা ভাইরাস নিয়ে জোর প্রচার চালাচ্ছে রাজ্য জুড়ে। দুর্গাপুর শহরে ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড। দুর্গাপুরের মহকুমা হাসপাতালের যাত্রী প্রতীক্ষালয় কেই আপাতত অস্থায়ী আইসোলেশন ওয়ার্ড হিসেবে চালু করা হয়েছে|

এদিকে জানা গেলো, জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর মারফত সূত্রে পুরসভা দুর্গাপুর এলাকায় প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি নামের তালিকা তৈরী করেছে| যাদের কোনোভাবে না কোনোভাবে বিদেশের সঙ্গে যোগাযোগ রিয়েছে| চীন, হংকং, নেপাল, ভুটান, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কর্ম সূত্রে কিংবা অন্যকোনও কারণে আসাযাওয়া রয়েছে, সেইসব ব্যক্তিদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করছে স্বাস্থ্য কর্মীরা| এর পাশাপাশি করোনা ভাইরাস নিয়ে সচেতনতা এবং সংক্রমণ রুখতে একাদিক পথ বাৎলাবে স্বাস্থ্য কর্মীরা| এই পর্যন্ত সব ঠিক আছে| কিন্তু অভিযোগ উঠছে, গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মত ব্যাঙের ছাতার গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমগুলির বিরুদ্ধে| দুর্গাপুর জুড়ে বহু নার্সিংহোম রয়েছে যেগুলিতে সঠিক এবং উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই| এখন এই করোনা ভাইরাসের মতো আক্রান্তদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার মতো নুন্যতম পরিকাঠামো নেই এইসব নার্সিংহোমগুলিতে| শুধু তাই নয়, এইসব নার্সিংহোমগুলোতে গিয়ে দেখা যাবে, অপরিষ্কার, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের পাশাপাশি যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ব্যবহৃত ইনজাংশনের সিরিঞ্জ, ড্রেসিংয়ে ব্যবহৃত ব্যান্ডেজ-কাপড় সহ অন্যান্য আবর্জনা| একেবারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ| এছাড়া, এমার্জেন্সির সময় কোনও ভালো ডাক্তার পাওয়া দুস্কর ব্যাপার| এবং পাশ করা নার্স নেই বললেই চলে| আরও অভিযোগ, ওই নার্সিংহোমগুলিতে কোনোদিন স্যানিটিজেশন করা হয়না। রুগীর আত্মীয় স্বজন যারা নার্সিংহোমগুলিতে যাচ্ছেন তাদের হাত ধোয়ার সাবান দুঃস্বপ্নের ব্যাপার| এহেন নার্সিংহোমগুলির বিষয়ে কোনদিন খোঁজখবর কিংবা তদন্ত করে না পুরসভা তথা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর|

ইতিমধ্যে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর আদেশ অনুসারে বর্ধমান পূর্বের জেলাশাসক বিজয় ভারতের নেতৃত্বে একটি করোণা সংক্রমণ রুখতে বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বর্ধমান জেলার প্রায় ২৩ টি নার্সিংহোম এর কর্ণধার কে ডাকা হয়েছিল তার মধ্যে ১৪ টি এমন নার্সিংহোম কে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের পঞ্চাশটির ও বেশি বেড সংখ্যা রয়েছে তাদেরকে জেলাশাসকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তারা যেন পাঁচটি করে আইসোলেশন বেড রেডি রাখেন এই করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য।

এখন এই করোনা ভাইরাসের সময়ও যদি কোনও আক্রান্ত ব্যক্তিকে ইমার্জেন্সি কালীন ওইসব নার্সিংহোমগুলিতে নিয়ে যাওয়া হয়, কিংবা আপৎকালীন প্রয়োজন পড়ে তাহলে তখন কি হবে ? এটাই এখন শহরের সচেতন মানুষদের প্রশ্ন|
এমনিতে দুর্গাপুর শিল্প শহরে অধিকাংশ মানুষের দূষণের কারণে সর্দি, হাঁচি, কাশি নিত্যদিনের অসুখ| কিন্তু এখন করোনার জন্য আতঙ্কে ভুগছে মানুষ| এই অবস্থায় ওইসব নার্সিংহোমগুলির ডাক্তারদের কাছে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে পরামর্শ যে নেবে তারই ভরসা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ| এমন পরিস্থিতে জেলা প্রশাসনের দুর্গাপুর শহর জুড়ে গজিয়ে ওঠা নার্সিংহোমগুলির উপর নজরদারি চালানোর প্রয়োজন আছে বলে মত প্রকাশ করেছে ওয়াকিবহালমহল|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here