ভারতীয় সেনার বদলা…POK এর দখল নিয়ে করবে IOK

0
2184

নিউজ ডেস্কঃ জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হানার ঘটনায় এখনও বাকরুদ্ধ গোটা ভারতবর্ষ। দেশবাসীর হৃদয়ে জ্বলছে বদলার আগুন। ১৪ই ফেব্রুয়ারির সেই নারকীয় ঘটনার পর দেশবাসীর মনে এখন একটাই মন্ত্র, “শান্তি নয়, বদলা চাই”। কিরকম হতে পারে সেই বদলা। ভারতবর্ষের মানচিত্রে চোখ ফেরালেই দেখা যাবে, স্বাধীনতার পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীর দখল নিয়ে দুই-দেশের যে বিবাদ ক্রমবর্তমান সেই বিবাদের জেরে দুভাগে ভাগ হয়ে গেছে জম্মু-কাশ্মীর। যার একদিককে আমরা জানি ভারতীয় ভূখণ্ডের কাশ্মীর এবং অন্যদিকটি পাক অধিকৃত কাশ্মীর। আর এই বিভক্ত (ভারতের দখলে থাকা) কাশ্মীরে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতে গিয়েই বছরের পর বছর ধরে নারকীয় হত্যালীলা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। দুই দেশের মধ্যেই এই জঙ্গি গতিবিধিতে লাগাম দিতে বারবার বৈঠক হলেও সমস্যার সমাধান তো হয়ই নি, বরং ভারতের শান্তি নীতির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জঙ্গি হামলার বাড়বাড়ন্ত দিনের পর দিন বেড়েছে। সদ্য পুলওয়ামায় ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলা যার জ্বলন্ত উদাহরণ। যেই জঙ্গি হানার বলি হলেন দেশের ৪২ জন বীর জওয়ান এবং তাঁদের সঙ্গে সেইদিনের সিআরপিএফ কনভয়ে থাকা ১৩টি বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর। পাক গোয়েন্দা সংস্থা ISI এবং পাকিস্তান সরকার অনুমোদিত পাক সেনার অঙ্গুলিহেলনে দিনের পর দিন পাক অধিকৃত কাশ্মীরের লাইন অফ কন্ট্রোলে খুলে আম জঙ্গি কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলি (লস্কর-ই-তৈবা, জঈশ-ই-মহম্মদ সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী)। পাক সেনাবাহিনীর মদতপুস্ট এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত এলাকায় নিজেদের লঞ্চপ্যাড (যেখান থেকে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালানো হয়) তৈরী করে জঙ্গিদেরকে পাক সেনার সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে দিয়ে ভারতে অনুপ্রবেশ করিয়ে জঙ্গি কার্যকলাপ চালায়। যার উদাহরণ আমরা পেয়েছি ভারতীয় সেনবাহিনী দ্বারা পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে একাধিক লঞ্চপ্যাড ধ্বংস করার ঘটনায়। সেইসময় ভারতীয় গোয়ান্দা দফতর ও সেনবাহিনীর তরফে জানানো হয়েছিল, এখনও লাইন অফ কন্ট্রোলের গা ঘেঁষে বহু জঙ্গি ঘাঁটি রয়েছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে। পুলওয়ামা ঘটনার পর ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন, দোষীদের ছাড় দেওয়ার আর কোনও জায়গা নেই, জঙ্গি নির্মূল দেশ গড়তে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। তাহলে কি সরাসরি যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে দেশ? যদি তাই হয় তাহলে প্রত্যেক প্রজাতন্ত্র দিবস কিংবা দেশের স্বাধীনতা দিবসের প্যারেডে যে সমরসজ্জা আমরা শুধুমাত্র চোখে দেখে এসেছি সেই অস্ত্রভাণ্ডারের কার্যকারীতা দেখতে পাওয়া হয়তো এবার শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভারতীয় সেনবাহিনীর অস্ত্রাগারে সঞ্চিত পৃথ্বী, অগ্নি, ব্রহ্মস সহ একাধিক দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র যেকোনো দেশের কাছে ইর্সার কারণ। ইতিমধ্যেই নিশ্চয় ভারতের আজ অবধি সন্ত্রাসবাদী হামলায় শহীদ হওয়া বীর জওয়ানদের নাম খোদাই করে লেখা হয়ে গিয়েছে সেইসব ক্ষেপণাস্ত্রগুলির ওপরে এবং তা যেকোনো সময়ে আছড়ে পড়তে পারে পাকিস্তানের মাটিতে। ভারতের মতো এক মহান দেশ যেখানে ১৩০ কোটি মানুসে বাস সেখানে পাকিস্তানের মতো একটি ছোট্ট দেশ, যার মেরে কেটে জনসংখ্যা মাত্র ১৫ কোটি তাদের কথা ভেবে করুণা হয়। তাই হয়তো পাকিস্তান ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পাক মদতপুস্ট জঙ্গিদেরকে নিজেদের সেনা ছাউনিতে আশ্রয় দিচ্ছে বলে খবর। শুধু তো ক্ষেপনাস্ত্র নয়, জলে, স্থলে ও আকাশপথে হামলার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানের থেকে শত যোজন এগিয়ে ভারতবর্ষ। জঙ্গি হামলায় শহীদ জওয়ানদের নামাঙ্কিত একেকটা বুলেট ও গোলা পাকিস্তানের বুকে বিঁধে দিতে বদ্ধপরিকর ভারতীয় সামরিকবাহিনী। এখানে অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠতে পারে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি যদি সৃষ্টি হয়, সেইসময় চিন যদি নিজ স্বার্থের জন্য পাকিস্তানের তরফদারি করে তাহলে কী হবে? এখানে বলে রাখা ভালো, পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে যে জগাই-মাধাইয়ের সম্পর্ক রয়েছে তা নিয়ে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশই ওয়াকিবহল। আর সেইকারণেই পুলওয়ামা ঘটনার পর ভারত সরকারের তরফে রাষ্ট্রসংঘে জঈশ-ই-মহম্মদ কমান্ডার মাসুদ আজহারকে জঙ্গি ঘোষণা করায় চিনের প্রবল আপত্তি ছিল। জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার পর রাশিয়া, আমেরিকা, ইজরায়েল সহ একাধিক রাষ্ট্রকে নিজের পাশে পেয়েছে ভারত। এটাও চিন খুব ভালো করেই জানে। তাই ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে চিন যে নিজের কূটনৈতিক চালে পাকিস্তানকেই বরবাদ করবে না তা হলফ করে বলার সাহস তাবড় তাবড় রাষ্ট্রবিদও করবেন না। কারণ, চিনের নজর পাক অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরের ইকনমিক করিডর। আর সেই করিডর চিনের দখলে চলে এলে পাকিস্তানের কাছ থেকে চিনের আর কিছু পাওয়ার নেই। ফলে তখন পাকিস্তান চিনের কাছ থেকে কতটা সাহায্য পাবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। প্রতিটি ভারতবাসীর জেনে রাখা দরকার পৃথিবীর চতুর্থ সবথেকে বড় সামরিক শক্তিধর দেশ হল ভারতবর্ষ, তাই ভারতীয় সেনার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে আট থেকে আশি ভারতে বসবাসকারী ভারতবাসীর। ভারতীয় সেনা কোনও দেশে কখনোই প্রথম থেকে আক্রমণের রাস্তায় যায় নি, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ১৩০ কোটি ভারতবাসীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে ভারতীয় সেনা ভারতের যে ভূখন্ড পাক অধিকৃত কাশ্মীর বলে পরিচিত তাকে জঙ্গি নির্মূল করে নিজেদের দখলে নিতে বদ্ধপরিকর, যতই আন্তর্জাতিক চাপ আসুক ভারতীয় সেনা আর তাদের পাক অধিকৃত কাশ্মীর দখল ছাড়বে না এক চুলও এবং সেই ভূখন্ডটি আন্তর্জাতিক ভারতীয় মানচিত্রে IOK অর্থাৎ ভারত অধিকৃত কাশ্মীর হওয়া শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। ভারতীয় সেনা প্রত্যেক ভারতবাসীর আশীর্বাদ মাথায় নিয়ে হর হর মহাদেব ধ্বনিতে ধবনিত হয়ে অপারেশন রুদ্র বা অপারেশন মহাকাল শুরু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নিশ্চয় নেওয়া হয়ে গিয়েছে। ভারতের ১৩০ কোটি জনগণ আগামী ৪ঠা মার্চ মহা শিবরাত্রির দিনের আগেই বিজয় উৎসবে মাতবেন ও ভারত আবার জগত সভায় শ্রেষ্ঠ আসন লবে…গানের ধ্বনিতে ধ্বনিত হবে ভারতবর্ষের আকাশ-বাতাস। চ্যানেল এই বাংলায়-র পক্ষ থেকে প্রত্যেক ভারতবাসী তাদের একদিনের দৈনন্দিন জীবনের খরচ দেশের স্বার্থে ও ভারতীয় সেনাকে আর্থিক রূপে সহায়তা করতে এগিয়ে আসবেন এই বিশ্বাস আমরা রাখি। “জয় হিন্দ”।