“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…আমি কি ভুলিতে পারি”

0
396

২১শে ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। আজ থেকে ঠিক ৬৭ বছর আগে আজকের দিনেই তাজা রক্তে লেখা হয়েছিল সেই ইতিহাস, যা দেশ তথা বিশ্বের ইতিহাসের এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করতে সেদিন তাজা রক্তে ভিজেছিল শহরের রাজপথ। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে তরুণ ছাত্রদের পাকিস্তানি সেনার বুলেটে নিজের জীবন অঙ্গীকারের মধ্যে দিয়ে এসেছিল সেই ভাষাযুদ্ধের কাঙ্খিত জয়। আর সেই দিন থেকেই ইতিহাসের পাতায় জ্বল জ্বল করে ২১শে ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস”। ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংলগ্ন মেডিক্যাল কলেজের গেটের পাশেই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার দাবিতে জমায়েত শুরু করে পড়ুয়ারা। বেলা বাড়তেই আব্দুল মতিন, গাজিউল হক, কাজী গোলাম মেহেবুব সহ অন্যান্যদের উপস্থিতিতে শুরু হয় সমাবেশ। এরপর পূর্ববাংলা আইন পরিষদের দিকে মিছিল এগোতেই মিছিলকারীদের উপরে শুরু হয় পুলিশের নির্বিচারে গুলি ও লাঠিবর্ষন। শহীদ হন আবুল বরকত, রফিকুদ্দিন আহমেদ এবং আব্দুল জব্বার। সেইদিনের সেই গুলিতে প্রাণ গিয়েছিল ৯ বছরের এক শিশুরও। প্রতিবাদ মিছিলের ওপর পুলিশ গুলিবর্ষণের খবর ঝড়ের বেগে ছড়িয়ে পড়তেই কাতারে কাতারে মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারী তরফে একাধিক পদক্ষেপ করা হয়। পরেরদিন ২২শে ফেব্রুয়ারি শহীদ স্মরণে ফের মিছিল বের হলে সেই মিছিলের ওপরেও গুলি চালায় পুলিশ। ঘটনায় ৪ জন শহীদ হন। জনতার রোষ দ্বিগুণ হয়ে আছড়ে পড়ে ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কে। পাকিস্তান সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনা মোতায়েন করলেও বিক্ষোভের আঁচ এতটুকুও কমেনি। সেই বিক্ষোভের কাছে নতি স্বীকার করে পাক সরকার। মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন আইন পরিষদের কাছে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি সংক্রান্ত এক প্রস্তাব আনেন। যে প্রস্তাব সর্বস্মতিক্রমে পাশ হয়। ২৪শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারেই নির্মিত হয় শহিদ স্মৃতি স্তম্ভ। যদিও ২৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে যায় শহিদ স্মৃতিস্তম্ভ। এত প্রতিরোধ সত্ত্বেও সেদিন প্রতিবাদের ঝড়কে আটকে রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল নির্মম পাক সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন। লক্ষ লক্ষ প্রতিবাদীর রক্তের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল তাদের সমস্ত প্রতিরোধ। যার, ফলশ্রুতি ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হল। সেইদিন থেকে আজও প্রত্যেক বাঙালীর কাছে গর্বের দিন হল ২১শে ফেব্রুয়ারি।