উন্নয়ন যাক চুলোয়, রাজ্যে এখন শুধুই শ্লোগানের পালা

0
336

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ লোকসভা ভোটে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবি আর সেই সঙ্গে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের উত্থান রাজ্যের রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে তা আলাদা করে আর না বললেও চলে। গত ২৩শে মে লোকসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজ্য জুড়ে বয়ে গেছে অনেক জল, পশ্চিমবঙ্গে এককালীন একচ্ছত্র ক্ষমতাধীন ঘাসফুলের দূর্গে শুধু ফাটলই ধরে নি, সেই সঙ্গে রাজ্যে অন্যতম বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের ঘাড়ের কাছে এই মুহূর্তে নিঃশ্বাস ফেলছে বিজেপি। যেখানে লোকসভা ভোটে রাজ্যে ৪২-এ ৪২-এর স্বপ্ন দেখেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে রাজ্যে ৪২টি আসনের ১৮টি দখল করে এই মুহূর্তে সারা দেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ জুড়েও গেরুয়া ঝড়ের প্রভাব সর্বসমক্ষে। কিন্তু আচমকায় কি এমন ঘটে গেল এই রাজ্যের রাজনীতিতে? কেনই বা তৃণমূল কংগ্রেস তথা মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবে বিরূপ মনোভাব ব্যক্ত করলেন রাজ্যের জনগণ? অথচ রাজ্যজুড়ে উন্নয়ন হয়নি এমনটাও বলা যায় না। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী থেকে শুরু করে বিধবা ভাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গত কয়েক বছরের উন্নয়নের পরিসংখ্যান মোটেও খারাপ বলা চলে না। তাহলে কি শুধু মাত্র মোদি ম্যাজিকেই এই পরাজয়? লোকসভা ভোটে দলের হতাশাজনক ফলাফলের পর হারের ময়নাতদন্তে রাজ্যের সমস্ত নেতা-মন্ত্রী, সাংসদ, পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে কালীঘাটে কাঁটাছেঁড়ায় বসেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের হতশ্রী ফলাফলে এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত পর্যন্ত নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। যদিও শেষপর্যন্ত দলীয় নেতা-নেতৃত্বদের হস্তক্ষেপে ইস্তফা দেওয়া থেকে বিরত হন তিনি। তবে নির্বাচনে ফলাফলে যে তিনি কতটা হতাশ তা সাংবাদিকদের সামনে পরিষ্কার করে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি তাঁর বক্তব্যে সাফ জানিয়েছিলেন, রাজ্যের মানুষের জন্য হয়তো একটু বেশিই উন্নয়ন করে ফেলছিলেন, আর সেই কারণেই হয়তো এই ফলাফল। তাই আগামী দিনে রাজ্যের উন্নয়নের বদলে দলের প্রতি বেশি নজর দেবেন তিনি। আর তার এই বক্তব্যের পর থেকেই রাজ্য জুড়ে নতুন আশঙ্কা ঘনীভূত হতে শুরু করেছে। তাহলে কি রাজ্যের উন্নয়নের পথ রুদ্ধ হয়ে গেল? আদৌ কি রাজ্যের মানুষ আগামী দিনে উন্নয়নের আশা রাখার সাহস পাবেন? কারণ মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন উন্নয়ন নয় এবার থেকে দলীয় কাজে মনোনিবেশ করবেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে আগামী পরিকল্পনা কী তাও এখনও স্পষ্ট নয়, এককথায় লোকসভা ভোট পরবর্তী পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়নের রাস্তা আপাতত বন্ধ। এদিক থেকে দেখতে গেলে রাজ্যে গেরুয়া বাহিনীর ভিত শক্ত করতে গিয়ে আখেরে কী নিজেদের বিপদই ডেকে আনলেন রাজ্যের জনগণ? এইসমস্ত নানান প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মানুষের মনে। তবে এখানেই শেষ নয়, এর সঙ্গে সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে “জয় শ্রী রাম”, “জয় হিন্দ”-র মতো বিভিন্ন শ্লোগানকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের সামনে বিজেপি সমর্থকদের “জয় শ্রী রাম” শ্লোগানের ঘটনার পর থেকে যা ভাইরাসের মতো রাজ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের যুযুধান দুই দলই এখন শ্লোগান এবং পাল্টা শ্লোগানের মধ্যে দিয়েই নিজেদের রাজনৈতিক বিবাদ ক্রমে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন, যার চাপে আপাতত রাজ্য থেকে উধাও “উন্নয়ন” নামক শব্দ।