কাঁকসায় করোনা আক্রান্ত ভারতীয় বায়ুসেনা কর্মী বলে আশঙ্কা

0
3922

সংবাদদাতা, কাঁকসাঃ- গোটা দেশজুড়ে চলছে করোনা আক্রান্ত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা ইতিমধ্যে অরেঞ্জ জোনে আছে। গত দুদিন আগে দুর্গাপুরের দুই প্রবীণ বাসিন্দা করোনা আক্রান্ত হয়ে দুর্গাপুরের সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। কালকে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বাড়ির উদ্দেশ্যে। সনোকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ওই বাসিন্দাদের করোনা রিপোর্ট নেগেটিভ হয়েছে। তাই তাদেরকে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই খবরে শিল্পাঞ্চল জুড়ে এক স্বস্তির আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল।

আবার হঠাৎই এক খবরে আতঙ্কিত হয়ে গেল গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলা। এবার ঘটনা কাঁকসা ব্লকের মনোজপল্লী এলাকা। ওই এলাকাতে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন এক বায়ুসেনা কর্মী। তিনি ১০ মে ডিউটি যাওয়ার পর আর ফেরেননি ভাড়া বাড়িতে। ওই ভাড়া বাড়ির মালিক (প্রফুল্ল সরকার) জানিয়েছেন যে ওই বায়ুসেনা কর্মী নাকি করোনা আক্রান্ত। বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি কোয়ারান্টাইনে থাকার নোটিশ ইতিমধ্যেই ওই বাড়ির দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হয়েছে। নোটিশে ১৩ মে থেকে ২৬ মে পর্যন্ত কোয়ারান্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ।

স্বভাবতই এই খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মনোজপল্লী এলাকার বাসিন্দারা। কাঁকসা প্রশাসনকে ইতিমিধ্যেই তারা লিখিতিভাবে চিঠি দিয়ে আবেদন করেছে পুরো পাড়া স্যানিটাইজেশন করা হোক। বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগেই পাড়ার ভেতরে আসা যাওয়ার সমস্ত রাস্তা বাশ দিয়ে ব্যারিকেড করে দেন যাতে বাইরে থেকে কোন লোক ওই এলাকায় প্রবেশ না করতে পারে। এদিকে এই বিষয়ে দুর্গাপুর মহকুমা শাসককে প্রশ্ন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের জানান “যে কাঁকসার বি ডি ও এবং কাঁকসা থানাকে ইতিমধ্যেই ব্যাপারটির খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।”

সম্ভবত ওই বায়ুসেনা কর্মী করোনা আক্রান্ত এবং কলকাতায় তিনি চিকিৎসাধীন আছেন বলে সুত্রে থেকে জানা গিয়েছে। ওই বায়ুসেনা কর্মী তার পর কাঁকসায় এসেছিলেন কিনা তার কোন খবর নেই প্রশাসনের কাছে। এখনো পর্যন্ত কোন রকম সরকারি ভাবে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে জানানো হয়নি উক্ত ঘটনার সম্বন্ধে।
ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি বাংলা সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রচারিত হওয়ার পর থেকে আতঙ্কে আছেন মনোজপল্লীর বাসিন্দারা। এই খবর তাই তারা নিজেদেরই উদ্যোগে পাড়ার প্রবেশ করার সমস্ত রাস্তায় বাশ দিয়ে ব্যারিকেড করে দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন চরম আতঙ্কে। তাদের দাবি দ্রুত স্যানিটাইজেশন করা হোক মনোজপল্লী এলাকা এবং সরকারি নিয়মনুসারে সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

গোটা পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে এখন সামাজিক মাধ্যমে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, তাহলে কি অরেঞ্জ জোন থেকে আর গ্রীন জোনে ফেরা হবেনা পশ্চিম বর্ধমান জেলার? উত্তর সবার অজানা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here