লকডাউনের জেরে বন্ধ স্কুল, পাওয়া যায়নি নতুন বই, ছাত্র-ছাত্রীদের বাড়িতে আটকে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকরা

0
309

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারাদেশে চলছে লকডাউন। বন্ধ স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যেই অনেকগুলি ক্লাসের বাৎসরিক পরীক্ষা শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু লকডাউন এর জেরে পাওয়া যায়নি নতুন বই পত্র। তাই বেশ চাপে আছেন অভিবাবকরা। টানা ২১ দিন গৃহবন্দি থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন অভিভাবকেরা। একদিকে মারণ রোগ করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক অন্যদিকে শিক্ষাবর্ষে ছাত্র-ছাত্রীদের পিছিয়ে পড়ার ভয় ঘর করে বসেছে অভিভাবকদের মনে।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আগেই জানিয়ে দিয়েছেন যে এ বছরে অর্থবর্ষ তিন মাসের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক জানায়নি যে শিক্ষাবর্ষ পেছানো হবে কিনা। যদি শিক্ষাবর্ষ পেছানো না হয় তা হলে চাপের মুখে পড়বেন ছাত্র-ছাত্রী থেকে অভিভাবকরা।

অভিবাবকরা সারাদিন ছেলে মেয়েদের কে বাড়িতে আটকে রেখে কখনো লুডো, কখনো ক্যারামবোর্ড, কখনো ভিডিও গেম বা কখনো টিভি দেখেই মন ভরিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন । কিন্তু অভিবাবকরা মনের ভেতরে একটা ভয় নিয়ে বসে আছেন যদি এই মুহূর্তে সরকার কোন পদক্ষেপ না নিয়ে শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে না দেয় তাহলে ছাত্রছাত্রীরা চাপে পড়ে যাবে। তাই দুর্গাপুরের সমস্ত অভিভাবকরা এখন সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছেন যদি সপ্তাহের একটি দিনের জন্য বইয়ের দোকান গুলি খোলার বন্দোবস্ত করা যায়, যাতে ছাত্রছাত্রীরা নতুন ক্লাসের পাঠ্য বই গুলি কিনে এনে ঘরে পড়াশোনা শুরু করে দিতে পারে। যদিও প্রযুক্তির যুগে অনলাইনে পড়াশোনা করা যায়। কিন্তু অনলাইনে পড়াশোনা করতে গেলে ইন্টারনেটের সুবিধা দরকার। লকডাউন চলাকালীন ইন্টারনেট পরিষেবা প্রায়ই বিগ্নিত হচ্ছে বলে আরেক সমস্যার মুখে দাঁড়িয়েছেন অভিভাবকরা।

এমত অবস্থায় দুর্গাপুরের সমস্ত অভিভাবকরা রাজ্য তথা জেলা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছেন যেন সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে সমস্ত বইয়ের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়। যাতে ছাত্রছাত্রীরা নতুন ক্লাসের পাঠ্য বই কিনে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। অভিবাবকদের আশঙ্কা এটির বন্দোবস্ত না হলে, ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকটাই পিছিয়ে যাবেন। মারণ রোগ করোনাভাইরাস থেকে মুক্তি পেলও, তাদের এই চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে বলে ওয়াকিবহাল মহল জানাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here