দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি সংস্থার কলকাতা অফিসে কর্মরত ব্যক্তি করোনা আক্রান্ত , আতঙ্ক ছড়ালো শিল্পাঞ্চলে

0
1122

অমল মাজি , দুর্গাপুরঃ- করোনা ভাইরাসের দাপটে ইতিমধ্যেই গৃহবন্দী হয়ে আছেন দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষ। এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক বাংলা সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হয় যে এক ব্যক্তি করোনা মারণ রোগে আক্রান্ত , যিনি দুর্গাপুরে নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন। এই ঘটনায় দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আক্রান্ত ব্যক্তি হুগলি – শেওড়াফুলির বাসিন্দা। তিনি দুর্গাপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। প্রতিদিন নিয়মিত ট্রেন ধরে দুর্গাপুরে আসতেন কর্মস্থলে।

এদিকে একটি সূত্রে এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে জানা গেলো ,ওই ব্যক্তি দুর্গাপুরে সগর ভাঙা এলাকায় একটি বেসরকারি সংস্থায় এ জি এম পদে চাকরি করতেন। অবশ্য গত চার মাস আগেই তিনি রিটার্ড হন | কিন্তু ওই সংস্থা তাকে এক্সটেনশন দিয়ে পুনর্বহাল করেন কলকাতায় সংস্থার হেড অফিসে। গত ১৩ ই মার্চ তিনি সগর ভাঙার ওই সংস্থায় আসেন একটি কাজে। ওইদিনই ওই বেসরকারি সংস্থার বড়জোড়া ( বাঁকুড়া ) শাখাতে যান। সেখানে একটি প্রোগ্রামেও অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি ফিরে এসে সগর ভাঙাতে একটি হোটেলে রাত কাটান। পরের দিন দুর্গাপুর থেকে কলকাতা ফিরে যান।

ওই সংস্থার এক ব্যক্তি জানান , কলকাতায় ফিরে গিয়ে ১৬ মার্চ থেকে তার জ্বর হয় তারপর থেকে তিনি আর দুর্গাপুরে আসেননি। তবে তিনি এই রাজ্যের বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন কিনা তা জানা যায়নি।

এদিকে ২৯ মার্চ রাত্রে তাকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি আগে থেকেই ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের রোগী ছিলেন। এদিকে , এই খবর শোনার পর থেকে আতঙ্কে ভুগছেন শিল্পাঞ্চলের সাধারণ মানুষ। হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটার, ফেসবুকে চলছে নানান মন্তব্য। যদিও এখনো পর্যন্ত দুর্গাপুরে কোনও সরকারি আধিকারিক এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যাচ্ছে ভদ্রলোক যিনি করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত বলে জানা গেছে , তিনি আপাতত এখন স্থিতিশীল অবস্থায় আছেন।
এখন ঘটনা হল , ২৯ মার্চ প্রবল স্বাসকষ্ট নিয়ে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। তাহলে নিশ্চয় ১৩ মার্চ দুর্গাপুর থাকা কালীন তিনি আক্রান্ত হননি। হিসাব অনুযায়ী ১৪ দিনের মধ্যে করোনা ধরা পড়ার কথা। সেক্ষেত্রে ১৩ থেকে ২৯ সতেরো দিন হয়। তাই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের মানুষদের বক্তব্য, কলকাতাতেই উনি কারোর সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন। এমনটাই হতে পারে ধরে নিয়েই দুর্গাপুর প্রশাসন তদন্ত চালাচ্ছে ,গত ১৩ মার্চ দুর্গাপুরে এসে কাদের সংস্পর্শে গিয়েছিলেন এবং কোন হোটেলে ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here