বাঁকুড়ার ওন্দায় ব্রীজের দাবিতে সরব গ্রামবাসীরা

0
161

সংবাদদাতা, বাঁকুড়া:- একটা মাত্র সেতু আমূল বদলে দিতে পারে বিস্তীর্ণ অংশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির। কিন্তু ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে ঐ সেতু তৈরীর কাজ শুরু হলেও শেষ কবে হবে জানেননা কেউ। ফলে এক প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁকুড়ার ওন্দার গামিদ্যা, অযোধ্যা, নিকুঞ্জপুর, আশাপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষকে দ্বারকেশ্বর নদী পেরিয়ে ওপারে ওন্দা বাজারে যেতে হয় । মূলতঃ কৃষি প্রধান এই এলাকার মানুষের জীবন জীবিকা নির্বাহের অন্যতম জায়গা ব্লক সদর ওন্দা। কিন্তু গামিদ্যা-ওন্দা মূল রাস্তার মাঝে বাধার প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে দ্বারকেশ্বর নদী। ফলে এক প্রকার জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ঐ এলাকার মানুষকে প্রায় সারা বছর নৌকোতেই এই নদী পারাপার করতে হয়। নদীতে অতিরিক্ত জল বাড়লে প্রশাসন নিরাপত্তার খাতিরে নৌকা চলাচলও বন্ধ করে দেয়। ফলে ঐ এলাকার মানুষের রুটি রুজিতে যেমন টান পড়ে, তেমনি কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়। সব মিলিয়ে একটি সেতুর অভাবে জীবন দূর্বিষহ এখানকার মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দা হারাধন বাউড়িয়া বলেন, আমার ৫৯ বছর বয়স। এই বয়সে জীবনে ঝুঁকি নিয়েও বাইক সহ নৌকাতোই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। নদীর ওপারে ওন্দাতে আমাদের সমস্ত প্রশাসনিক দপ্তর, স্কুল কলেজ, হাসপাতাল, বাজার। ফলে প্রতিদিনই নানান কারণে প্রায় সবাইকেই এভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হয়। আর এক স্থানীয় বাসিন্দা সজল বক্সী বলেন, জ্ঞানাবধি শুনে আসছি সেতু হবে। গত দু’বছর আগে এই সেতুর কাজ শুরু হলেও কাজ সেভাবে এগোয়নি। কবে শেষ হবে তা এখনো নিশ্চিত নয় বলেই তিনি মনে করেন। নৌকা চালক নয়ন ঘোড়ুই বলেন, বাপ-ঠাকুর্দার আমল থেকেই আমরা এই কাজ করছি। একজনের ক্ষেত্রে পাঁচ টাকা ও সাইকেল সহ একজন মানুষের ক্ষেত্রে দশ টাকা ভাড়া নেওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, নদীতে জল বাড়লে প্রশাসন নৌকা পারাপার বন্ধ করে দেয়। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সর্ব্বোচ্চ চল্লিশ জন পর্যন্ত যাত্রী নৌকায় চাপিয়ে আমরা পারাপার করি। তবে প্রশাসন আমাদের নিয়ে মিটিং করলেও যাত্রী সুরক্ষার স্বার্থে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে কোন দিন কিছু বলেনি বলেই তিনি দাবী করেন। দ্বারকেশ্বর নদীর এই ঘাটে তিন বছর আগে সেতুর তৈরীর কাজ শুরু হলেও আজও শেষ হয়নি। এর পিছনে শাসক দলের ‘কাটমানির ব্যবস্থৃ ঠিক ঠাক হয়নি’ বলেই দাবী করে বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন, নৌকায় পারাপারের সময় কোন দূর্ঘটনা ঘটলে তার দায় কে নেবে। ঐ সেতু তৈরীর কাজ শেষ হলে তিন থেকে চারটি ঘাটে নৌকা চলাচল যেমন বন্ধ হবে তেমনি অনেক মানুষ নিশ্চিন্ত আর নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন বলে তিনি জানান। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের রাষ্ট্র মন্ত্রী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা এবিষয়ে বলেন, ঐ সেতু শিলান্যাসের সময় যে সংস্থা এই কাজের বরাত পেয়েছিলেন তারা পরে এই কাজ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। ফলে টেণ্ডার আহ্বান করতে হয়। সেকারণে প্রায় দেড় বছর সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। নতুন একটি সংস্থা এই কাজের বরাত পাওয়ার পর তিনি কাজ শুরু করলেও চলতি বর্ষার কারণে তা থমকে আছে। সেতুর কাজ যাতে দ্রুত শেষ হয় সে ব্যাপারে তিনি উদ্যোগী হবেন বলেও জানান। ঐ নদীতে নৌকা পারাপারের সময় ‘লাইফ জ্যাকেট’ না ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু কিছু জায়গায় ব্যবহার হয়। সর্বত্র তা ব্যবহার হয়না স্বীকার করে নিয়ে তিনি বলেন, এই বিষয়টিও তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here