আধুনিক বিনোদনের বাড়বাড়ন্তে ধুঁকছে পুরুলিয়ার ছৌশিল্প

0
308

জয়প্রকাশ কুইরি, পুরুলিয়া : লাল মাটির দেশ পুরুলিয়া । আর পুরুলিয়া মানেই সবুজে ঘেরা অযোধ্যা আর প্রাচীন ঐতিহ্য ছৌ শিল্প । কিন্তু একসময়ের বিপুল জনপ্রিয় এই ছৌ শিল্প আজ বিপন্নপ্রায় । যার অন্যতম কারণ বর্তমান আধুনিকতার ছোঁয়া এবং তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলা নিত্য নতুন আধুনিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান । এক সময় যে ছৌ শিল্পীরা বছরে প্রায় সব সময় রাজ্য তথা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছৌ নাচের জন্য বরাত পেতেন শিল্পী রায় আজ ছৌ শিল্প থেকে সরে এসে অন্যান্য পেশায় নিযুক্ত হতে চলেছেন, যার অন্যতম কারণ ছৌ শিল্পের ক্রমাগত চাহিদা কমে যাওয়া। মূলত চৈত্র সংক্রান্তির গাজন মেলা থেকে ছৌ নাচের মরসুমের শুরু। পুরুলিয়া জেলায় সমগ্র বৈশাখ মাস ধরে চলে শিব গাজন| আর লাল মাটির দেশ পুরুলিয়ার গাজন মানেই তার সঙ্গে ছৌ নাচ অবশ্যই থাকবে। কিন্তু বর্তমান সময় বদলাচ্ছে, কারন যত দিন যাচ্ছে ততই ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচের জায়গা দখল করে নিচ্ছে অন্যান্য অনুষ্ঠান। ছৌ নাচের মরশুম হল চৈত্র-বৈশাখ মাস| কারণ জৈষ্ঠ্য মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু করে আশ্বিন মাস অবধি ছৌ নাচের আসর থাকে না| কিন্তু ইদানীং কয়েক বছর যাবৎ গাজন অর্থাৎ ছৌ-এর মরসুমে শিল্পীরা সেরকমভাবে আর বায়না পাচ্ছেন না| অন্যদিকে ছৌ নাচের জন্য বিপুল খরচ, সাজসজ্জা ইত্যাদির জন্য অর্থের যোগান দিতে হিমসিম খাচ্ছেন শিল্পীরা ছৌনাচের মূল আকর্ষন হল পুরানের কাহিনীধর্মী নাচ, গণেশ বন্দনা, মহিষাসুর মর্দিনী পালা ইত্যাদি| কিন্তু ক্রমে সেই জায়গা দখল করছে বিভিন্ন আধুনিক নাচ-গান, জাদু খেলা, ডিজে ইত্যাদি অনুষ্ঠান। সরকারি সাহায্য এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগে ছৌ নাচের প্রদর্শনী হলেও সেখানেও বর্তমানে চাহিদা কমেছে ছৌনাচের। এক ছৌ শিল্পীর কথায়, পরিস্থিতি যা তাতে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ছৌনাচের বরাত পাওয়া গেলেও ছৌ নাচের জন্য প্রয়োজনীয় সময় পাওয়া যায় না। ফলে বর্তমানে কম সময়ের ছৌনাচের দিকে ঝুঁকছেন শিল্পীরাও। শিল্পীরা জানাচ্ছেন এক একটা ছৌ নাচের জন্য কমপক্ষে এক ঘণ্টা সময় লাগে কিন্তু বর্তমানে লারেলাপ্পা নাচ-গানের চাহিদা বেশি তাই ছৌ নাচ কেউ দেখতে চাইছেন না। ফলে ছৌ নাচের দল, পোশাক, মুখোশ ইত্যাদি কেনার জন্য যে বিপুল খরচ সেই অর্থ তুলতেই নাভিশ্বাস অবস্থা হচ্ছে ছৌ শিল্পীদের। তাই অনেকেই একপ্রকার বাধ্য হয়ে প্রিয় পেশা ছৌ নাচ ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় যোগ দিচ্ছেন। আর এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে পুরুলিয়ার ঐতিহ্যবাহী ছৌ নাচ যে ক্রমশ অবলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।