মাটিতে রামধনু ফুটিয়েছে সুন্দরী গ্ল্যাডিওলাস, বর্ধমানের গ্রামে

0
664

মান্তু কর্মকার, জামালপুরঃ- গ্ল্যাডিওলাস! এই বসন্তে!!
নদীর পাশে, নীল আকাশের নিচে, মাটি ফুঁড়ে মাথা তুলছে রামধনু! জেলায় প্রথম এই বিরল দৃশ্য দেখে থমকে ক্ষনিক দাঁড়িয়ে পড়ছেন মানুষ জন। এটা জামালপুরের অমরপুর- যেখানে তিন বিঘা জুড়ে মাটিতে বুক চিতিয়ে হাসছে ফুলের রামধনু। এ যেন ‘হোলি’র আগেই প্রকৃতির নিজের হাতে সাজানো রঙের বাহার!
বিধান চন্দ্র কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ে গবেষণা শেষ করে, নিজের গ্রাম অমরপুরের বেলে- দোঁয়াশ মাটিতে রং বাহারী গ্ল্যাডিওলাসের চাষ করেছেন ডঃ পল্লব কুমার দাস। পেশায় ‘আত্মা’ প্রকল্পের ব্লক প্রযুক্তি প্রবন্ধক। নেশা- প্রকৃতির ক্যানভাসে ‘জ্যান্ত’ রঙের পাপড়ি সাজিয়ে ইতিহাস গড়া। আর তার তিন বিঘার উদ্যানে তিনি সেই ইতিহাসের বীজ বুনেছিলেন একটু দেরিতে- গত অক্টোবরে।


“আসলে গ্ল্যাডিওলাসের বীজ রোপন করতে হয় সেপ্টেম্বরে, ফুল আসে ডিসেম্বরে। এবারই প্রথম চাষ করলাম। দেরি হল, কারন বীজ হাতে পেতে সময় লেগে গেল অনেকটাই। তাই, ফুলও এল বেশ দেরি করেই”, হালকা হাসি মুখে মাখিয়ে বললেন ডঃ দাস। তবে, তার জেদ, “এখন তো নিজেই বীজ, কন্দ সংরক্ষন করে রাখবো। এবার সেপ্টেম্বরেই চাষ শুরু করব”। বীজ পেতে দেরী – কারন পূর্ব বর্ধমান জেলায় প্রথম গ্ল্যাডিওলাসের চাষ শুরু করতে বীজ আনতে হল নেদারল্যান্ড থেকে। “খরচটাই পড়ে গেল অনেক বেশি – প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা। এরপর চাষের খরচ প্রায় ৫০,০০০ টাকা”, ডঃ দাসের আক্ষেপ। তবে, মুখে বেশ চওড়া হাসি যখন দেখলেন তার উদ্যানের গ্ল্যাডিওলাস লম্বায়, চওড়ায় ঢের বড়, পুরুষ্ট আর নান্দনিক এ রাজ্যের অন্য দু জায়গার চেয়ে। এ রাজ্যে গ্ল্যাডিওলাস চাষ হয় পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া আর কোলাঘাটে। সেখান থেকে উৎপাদিত ফুলে ভেসে যায় হাওড়ায় এ রাজ্যের বৃহত্তম ফুলের বাজার। সেখানেই এবার চোখ কপালে উঠেছে ফুল ব্যাবসায়ীদের। কারন- পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের গ্ল্যাডিওলাসের রুপ-রঙ চোখ ধাঁধিয়েছে ফুল বাজারের। পাঁশকুড়া, কোলাঘাটের গ্ল্যাডিওলাসের স্টিক যেখানে গড়ে ৭ থেকে ৮ ইঞ্চির দন্ড, অমরপুরের দন্ড সেখানে ১৬ থেকে ১৮ ইঞ্চি খাড়াই আর তার রঙ বাহারী জেলা টাই আলাদা। খোলতাই এদের পাপড়ি গুলোও। আপাততঃ নীল, লাল, হলুদ, মেরুন, গোলাপী, সাদা রঙের গ্ল্যাডিওলাস ফুটেছে তিন বিঘা জমিতে। “মোট ৭৫০০০ করে বীজ দু ভাগে লাগিয়েছি। সামনের বার পরিমান টা আরো বাড়াবো”, বললেন ডঃ দাস। ডঃ দাসের ফুল চাষ কে ঘিরে মোট ২৪ জন মহিলার দুটি কৃষি সহায়ক গ্রুপও কাজে লেগে পড়েছে অমরপুরে।


অমরপুরের গ্ল্যাডিওলাস চাষ নিয়ে দারুন উৎসাহী পূর্ব বর্ধমান জেলার উদ্যান পালন আধিকারিক ডঃ কৃষেন্দু গড়াই। ডঃ গড়াই বললেন, “জেলায় প্রথম সফল ভাবে গ্ল্যাডিওলাস ফুটেছে। দারুন সাফল্য। আমি গত সপ্তাহে ওখানে গেছিলাম। সব রঙের একটি করে স্টিক এনেছি আর ৬ দিন পরও ও গুলি অক্ষত আছে”।
ডঃ গড়াই বললেন, “এখানকার গ্ল্যাডিওলাস অন্য জায়গার চেয়ে গুণগত মানে অনেক ভাল। সামনের বছর ওখানকার দোঁয়াশ আর বেলে মাটিতে আমরা গ্ল্যাডিওলাস ক্লাষ্টার গড়ার কথা ভাবছি”।
জামালপুরের গ্ল্যাডিওলাস ইতিমধ্যেই মন ছুঁয়েছে দিল্লির আর রাজস্থানের ফুলের বাজারের। ডঃ দাস জানালেন, “সোমবারই ফের ২০০ বান্ডিল ফুল পাঠালাম দিল্লি”। শুধুমাত্র প্যাকেজিং জনিত সমস্যায়, চাহিদা থাকলেও নিউজিল্যান্ডে ফুল পাঠাতে পারল না জামালপুর। ডঃ দাস বলেন, “ওরা ৮০ সেন্টিমিটার লম্বা প্যাকেটে স্টিক নিতে চায় আর আমার ফুলের স্টিক গুলো ১২০ সেন্টিমিটার লম্বা। তাই, বিমান সংস্থা নিতে চাইল না। সামনের বার অন্য উপায় ভাববো”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here