করোনা মোকাবেলায় অসুরক্ষিত শিল্পাঞ্চলের বহুতল আবাসন গুলি

0
694

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:- সারা দেশজুড়ে চলছে চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন। এখনো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্য। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু বিধিনিষেধ শিথিল করে দেওয়া হয়েছে মানুষের সুবিধার্থে।পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে আগামী ২২ই মে তারিখ থেকে। জানা গেছে ২২ই মে থেকে নিয়মিতভাবে চলবে আন্তঃজেলা বাস পরিষেবা, খুলবে দোকানপাট, খুলবে সেলুন ও বিউটি পার্লার, কাজে যোগ দিতে পারবেন বাড়ির কাজ করা গৃহ সহায়িকা বা কাজের মাসিরাও। এরপর থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে যায় গোটা শিল্পাঞ্চল জুড়ে।

লকডাউন চলাকালীন কোন বাড়িতেই সেরকমভাবে নজরে আসেনি কাজের মাসি বা বাড়ির নিজস্ব সহায়কদের কাজে আসার। দুর্গাপুরে বেশ কয়েকটি বড় বড় আবাসন প্রকল্প হয়েছে যেখানে বসবাস করছেন কয়েক হাজার মানুষ। লকডাউন চলাকালীন ওই সব আবাসন গুলিতে আবাসিকরা ছাড়া অন্য কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছিল না যেমন, তেমনি বাড়িতে আসা কোন অতিথির প্রবেশ ছিল না ওই আবাসন গুলিতে। কিন্তু রাজ্য সরকারের এই চতুর্থ পর্যায়ে লকডাউন এ আগামী ২২ই মে তারিখ থেকে যে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে সেখানে বাড়ির কাজে যুক্ত থাকা গৃহ সহায়িকা বা কাজের মাসিদের বাড়িতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর এতেই চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আবাসন গুলির আবাসিকদের কপালে।

শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে সেরকম ভাবে করোনার প্রকোপ না দেখা গেল এটা কখনোই মনে করা ঠিক নয় যে দুর্গাপুরে কোনো রকম করোনা আক্রান্তের রোগী পাওয়া যাবে না বা হবে না । ঐসব বহুতল আবাসন কেন্দ্রের বসবাসকারী সমস্ত আবাসিক এখন আতঙ্কিত যে তাদের বাড়িতে আত্মসহায়ক হিসেবে বাড়ির কাজ করার যে মাসিরা আছেন তারা সঠিকভাবে স্যানিটেশন পদ্ধতির দ্বারা আসনগুলিতে প্রবেশ করছেন কিনা। যদি তাদের ঠিক মতন স্যানিটাইজ না হয়ে আবাসনে প্রবেশ করেন তাহলে যেকোনো সময় বিপদ ঘটতে পারে করোনা সংক্রমণের। তাই দুর্গাপুরে যে সমস্ত বড় বড় আবাসন গুলি আছে সেখানে এখনই বাসিন্দারা তাদের সোসাইটিকে জানিয়ে দিয়েছেন যে তাদেরকে বন্দোবস্ত করতে হবে স্যানিটাইজার টানেল বা স্যানিটাইজার মেশিন এর মূল ফটকের সামনে। যাতে ওই আবাসন প্রকল্প গুলির মধ্যে যে কেউ প্রবেশ করলে তাকে আগে স্যানিটাইজ করে তারপরে আবাসনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। শুধু বাড়ির কাজ করার লোকই নয়, আবাসনের ভেতর এবার থেকে প্রবেশ করছে ইলেকট্রিকের কাজ করার লোক, এসি রিপেয়ারিংয়ের লোক, জল কলের মেরামতির লোক ও তার সাথে নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা শ্রমিকরাও।

ইতিমধ্যেই আশেপাশের শিল্পাঞ্চল গুলিতে বড় বড় আবাসন গুলির মূল ফটকের সামনে বসানো হয়ে গিয়েছে স্যানিটাইজার মেশিন। যে কেউ ওই আবাসন গুলির ভেতরে প্রবেশ করলে তাদেরকে ওই স্যানিটাইজার মেশিনের ভেতর দিয়ে যেতে বাধ্য করছে সেখানকার সুরক্ষা কর্মীরা। তাতে যেমন সুরক্ষিত থাকছেন আবাসনের আবাসিক তেমনি সুরক্ষিত থাকছেন ওইসব এলাকায় প্রবেশ করা মানুষজন রাও। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিধাননগর, সিটি সেন্টার, গোপালপুর, বামুনআড়া তে একাধিক আবাসন প্রকল্পে কাজ চলছে ও সেখানে এখনও বহু মানুষ বাস করছেন। এখনো পর্যন্ত ওইসব আবাসন গুলির মূল ফটকের সামনে কোনরকম স্যানিটেশনের প্রক্রিয়া চলছে না। যদি দ্রুততার সাথে সেখানে স্যানিটাইজ প্রক্রিয়া না চলে তাহলে যেকোনো সময় করোনা আক্রান্ত হতে পারেন বাসিন্দারা। সেই আশঙ্কাই করছেন ওই আবাসন গুলিতে বসবাসকারী কয়েক হাজার নিরীহ সাধারণ বাসিন্দারা। তাই তারা রাজ্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন যে তারা যেন এইসব আবাসন প্রকল্পের মালিকগণকে সরাসরি নির্দেশ দেন অবিলম্বে তাদের আবাসনে প্রবেশ করার মূল ফটকের সামনে যেন স্যানিটাইজ প্রক্রিয়া করার ব্যবস্থা চালু করা হয়। ইতিমধ্যেই বহু সংস্থা তেমন অটোমেটিক স্যানিটাইজার মেশিন বার করেছেন যা স্বল্পমূল্যে গেটের সামনে লাগিয়ে রাখলে অনেককে জীবাণুমুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে থাকা এই আবাসন প্রকল্পে গুলির এখনো পর্যন্ত সেই রকম ভাবে কোন স্যানিটাইজার মেশিন বা পদ্ধতি চালু করা হয়নি বলে জানা গেছে। ওই আবাসনে গুলিতে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষের জীবন এখন তাই করোনা আতঙ্ককে ভুগছেন।

অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের একমাত্র কোভিদ-১৯ হাসপাতাল, সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কর্ণধার পার্থ পবি ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন করোনা ভাইরাস কে নিয়ে শিল্পাঞ্চলে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাদের হাসপাতাল থেকে এখনো পর্যন্ত সুস্থ হওয়ার সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা থেকে অনেক অনেক বেশি হলফ করে বলা যেতে পারে। সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে করোণা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সযত্নে সুস্থ করে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরো জানান যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন প্রাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র কোভিদ-১৯ টেস্টিং সেন্টার, যেখানে তিনটি বিভাগে করোনা ভাইরাস টেস্টিং করা যায়, রয়েছে তাদের হাসপাতলে। তাই তিনি সমগ্র শিল্পাঞ্চল বাসিকে জানান আতঙ্কিত হবেন না, তাদের হাসপাতালে সমস্ত রকম পরিকাঠামো নিয়ে তৈরি আপনাদেরকে সুস্থ করার জন্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here