আওতাভুক্ত না হওয়া সত্বেও একশ্রেণী বি পি এল কার্ড হোল্ডাররা অন্যায়ভাবে গরিবদের রেশন তুলছে ….তদন্তের আশ্বাস বোরো চেয়ারম্যানের

0
693

অমল মাজি , দুর্গাপুরঃ- সারা দেশজুড়ে লকডাউনে গৃহবন্দী মানুষ। সকলের কাজ কর্ম বন্ধ। এই অবস্থায় কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ পেটের অন্ন জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কথা চিন্তা করেই রাজ্য সরকার তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত গরিব মানুষগুলো যাতে অভুক্ত না থাকে, তার জন্য রাজ্য সরকার বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যারা কার্যত গরিব নয় তারাও বি পি এল কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যের রেশন তুলছে নির্লজ্জভাবে। এমন অভিযোগ উঠতে থাকায় গোটা জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

তদন্তে জানা গেলো , আমাদের রাজ্যে ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত্য কেন্দ্র সরকারী বিভিন্ন প্রকার রেশন কার্ড চালু ছিল- যেমন অন্নপূর্ণা, অন্তদ্বয়, বিপিএল,এপিএল ও বিপিএল লিস্ট, ডিজিটাল- -SPHH, PHH, ইত্যাদি। এরপর কেন্দ্র রাজ্য সংঘাতে সারা ভারতের মতো আমাদের রাজ্যেও রেশন ২০১৫ সালে কেন্দ্রসরকার বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে রাজ্য সরকার আরো ২ টি রেশন কার্ড জনসাধারণ কে দেয়-RKSY-1, RKSY-2। অন্যদিকে, বাম আমলেও বিপিএল লিস্ট হয়েছিল।
১নং .BPL = SPHH, PHH, RKSY- 1, @rs-2/-. BPL LIST (Red Slip @rs-1) 2নং . APL = RKSY১১, @rs-12/-.এখন এইসমস্ত রেশন কার্ড চালু আছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে কারা BPL তালিকা ভুক্ত হতে পারে ? ১নং যে সব ফ্যামিলির ঘর (বাঁশ, ঘাস, কাঠ, মাটি, পাথর দিয়ে তৈরী ) ২নং যে সব ফ্যামিলির ঘরের ছাদ ( টালি, টিন, জী আই, অ্যাসবেসটর ও দেয়াল কাঁচা ইট, কাঠ, পাথর দিয়ে তৈরী ) ৩নং যাদের ঘরের ভেতরে খাবার জলের কানেক্শন নেই । ৪নং যে সব ফ্যামিলির ঘরে বিদ্যুতের কানেকশন নেই। ৫নং যে সব ফ্যামিলির ঘরে কংক্রিটের শৌচাগার নেই। ৬ নং যে সব ফ্যামিলির ঘরে ১৬-৫৯ বছরের কোনো পুরুষ নেই, ও ফ্যামিলি প্রধান হল মহিলা। .৭/৮ নং যে সব ফ্যামিলি SC, ST- শ্রেণী ভুক্ত। ৯ নং যে সব ফ্যামিলিতে কোনো প্রাপ্ত বয়স্কই শিক্ষিত নয়। ১০ নং যে সব ফ্যামিলির কোনো প্রাপ্ত বয়স্কই প্রাথমিক শিক্ষিত নয়। ১১ নং যে সব ফ্যামিলিতে শারীরিক প্রতিবন্ধী, বা দীর্ঘকালীন দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। ১২ নং ভিক্ষাবৃত্তি, খুন্নিবৃত্তি, মালি, সুইপার , কাগজ কুড়ানি পেশার পরিবার এবং অস্থায়ীভাবে বসবাস করে | ১৩ নং সেইসব পরিবার যাদের কোনও উপার্জন নেই। ১৪ নং সেইসব পরিবার যাদের সব প্রাপ্ত বয়স্করাই দিনমজুর। ১৫ নং সেইসব পরিবার যাদের পরিবার প্রধান অপ্রাপ্তবয়স্ক। ১৬ নং সেইসব পরিবার যাদের ১৮-৬০ বছর বয়সের সবাই প্রতিবন্ধী বা দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্থ। ১৭ নং সেইসব পরিবার যাদের সবার বয়স ৬৫ বছর ও সবাই প্রতিবন্ধী বা দুরারোগ্য ব্যাধিগ্রস্থ।

এইসমস্ত ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না এবং আর্থিক অবস্থা সম্পন্ন তারাও BPL কার্ড হোল্ডার। এমন হাজারো পরিবার রয়েছে। তারা নির্লজ্জভাবে রেশন শপে গিয়ে রেশনও তোলে। অভিযোগ , ৪ নং বোরো এলাকায় এক তৃণমূল পুরপিতারও BPL কার্ড রয়েছে। এইসব ব্যক্তিরা এই করোনা বিপর্যয়ের সময়ও ওই সমস্ত গরিবের প্রাপ্য রেশনের উপর ভাগ বসাছে অন্যায়ভাবে। এর সত্যতা স্বীকার করে নিয়ে ৪ নং বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জী বলেন, এটা সত্যি যারা BPL কার্ড যোগ্য নয় তাদেরও BPL কার্ড রয়েছে। প্রত্যেকটি রেশনশপে প্রত্যেককে বলেছি , আপনাদের উচিত আপনাদের BPL কার্ডগুলি জমা দেওয়া। আর এখন আপনারা বিনামূল্যে যে রেশন তুলছেন সেইগুলি মানবিক খাতিরে গরিদের দান করুন। চন্দ্রশেখরবাবু বলেন , এখন লকডাউন চলছে তাই সব অফিস বন্ধ , তা না হলে আমি তদন্ত করেই ছাড়তাম। তিনি বলেন, আগামীদিনে এর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেই ছাড়বো ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here