তমোনাশের অযোগ্যতা, আস্কারায় আরো বারোটা বেজেছে পরিবহন নিগমের

0
1167

সুবর্ণ ন্যায়ধীশ :- কলকারখানায় চাকা ঘুরলেই লাভ। রাজ্য সরকারি দক্ষিনবঙ্গঁ পরিবহন নিগমে ছিল আবার উলটপুরান। বাসের চাকা রাস্তায় গড়ালেই নাকি গড় গড় করে বাড়ে সংস্থার লোকসানের বহর। বাস পিছু প্রায় পৌনে এক ডজন কর্মচারী। বেসরকারি সংস্থার বাসে যখন তিনটি লোকেই ‘কাফি’! এ তো গেল অতিরিক্ত কর্মীর বোঝা। তবে, দক্ষিনবঙ্গঁ রাষ্ট্রীয় পরিবহন নিগম (এস বি এস টি সি) র বাড়তি লোকেরা বোঝা বইবার বাধ্য-বাধকতা তো লোকসানের একটি খন্ডচিত্র। অতীত থেকে বর্তমান-রাজ্যসরকারি সংস্থাটিতে নাকি “চুরি- চামারি’ ই বছরের পর বছর ডুবিয়ে ছেড়েছে এস বি এস টি সি কে। তেল চুরি, মিনিবাসের কাছে ‘কাট্মানি’ খেয়ে রুটে প্রাপ্য মুনাফায় রোজ চুরি, ঠিকাদারের সাথে বখরা- ব্যবস্থা করে সংগঠিত লুঠ, দুরপাল্লার বাসে বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছে ‘তোলা’ তুলে লুঠ আর সর্বশেষ সংযোজন- টিকিট বিক্রীর ভেন্ডার নিয়োগে মাধ্যমে মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার আরো এক ধরনের সংগঠিত লুঠ। রাস্তায় চলা একটি বাস থেকে কত রকম ভাবে, কত টাকার দুধ দুইয়ে নেওয়া যেতে পারে এস বি এস টি সি তার প্রকৃষ্ট উদাহরন, সেই বাম আমল থেকে। লোকে ভেবেছিল, রাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকার প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর এস বি এস টি সি তে চোরেদের দাপট কমবে। গোড়ায় ২০১১-১২ বছর গুলিতে চোরেরা বেশ মুখচোরা হয়েই ঘুরঘুর করছিল বটে, তবে ২০১৩ থেকেই ফের তারা যে যার ‘সেটিং’ করে ফেলল। পরিবহন নিগমে ফের শুরু হল গোয়ালাদের দোহন। সরকারের ঘরে ফের দুধ কম আর জল বেশি শুরু হল। অনেক আশা করে বিধায়ক তমোনাশ ঘোষকে চেয়ারম্যান করে নিগমে পাঠালেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। সুভাষী, মিষ্টজন তমোনাশ নিগমের আঁধার দুর করা তো দুরঅস্ত, আরো অন্ধকারে ডুবিয়ে দিলেন সংস্থাকে। সরকারের সামনে শুধু- ‘কলকাতা রুট লাভ করছে’ এই বুলি আউড়ে, সংস্থার আসল উদেশ্য, পরিবহনের সামগ্রিক কাঠামোকে রসাতলে পাঠালেন। চোরেরা ফের বের করল নখদন্ত। আর এর পেছনে দায়ী হয় তমোনাশের অযোগ্যতা, নয়তো আস্কারা। আসলে কোনটা ঠিক- সময় সেটা বলবে। তমোনাশের মতো লোকেদের বোঝা উচিৎ পরিবহন নিগমে চেয়ারম্যানের ‘চাকরি’ আদৌ তার দুর্গাপুরে বেড়াতে আসার বাগানবাড়ি নয়। রাষ্ট্রের আপামর সাধারন যাত্রীদের কাছে সরকারি বাস পরিবেষা তার যাতায়ত ব্যবস্থার মেরুদন্ড। সেই মেরুদন্ডে ঘুন ধরিয়ে, সংস্থার পরিসর খাটো থেকে খাটোতর করে তার বারোটা বাজানোর জন্য ফলতা থেকে লোক ধরে আনার কোনো দরকার ছিল না। অমন লোক ডজন, ডজন দুর্গাপুরেই দেদার! শুধুমাত্র ‘কলকাতা’ রুট চালানোর জন্য এতবড়ো কোম্পানী, মাসে কোটি কোটি টাকার ব্যাবস্থাপনা, দায়ভার নেবার কি প্রয়োজন সরকারের? তার চেয়ে এটা তুলে দিয়ে, আর পাঁচটা বাস মালিকের মতো, ‘ক্যালকাটা- দুর্গাপুর বাস সার্ভিস’ চালালেই তো লাফিয়ে লাফিয়ে লাভের কড়ি ঘরে আসবে তমোনাশের অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার এটাই আদর্শ সময় রাজ্য সরকারের কাছে। তৃনমুল কংগ্রেসের তো বিষয়টা রাজ্য কমিটি, নিদেন পক্ষে তাদের নতুন কোচ প্রশান্ত কিশোরের সামনে এনে ফেলা দরকার। কারন সংস্থার ‘বাবু’ রা নিগমকে এমন জায়গায় এনে ফেলেছেন – যে দলে দলে সাংস্থার কর্মীরা বিজেপি তে যোগ দিচ্ছে। অবশ্য লাল পার্টি থেকে যোগদানের হিড়িক বেশি। শুধু তমোনাশই বা কেন! বিগত পুরসভা বোর্ডের ‘মহাগুরু’ র বাহিনী বা তার পৃষ্ঠপোষকদের এই সংস্থা থেকে কি মুনাফা ছিল, তার খোঁজ নেওয়াটাও বিশেষ দরকার। বছরের পর বছর ধরে, কংগ্রেসের এক নেতা সমানে সরব থেকেছেন সংস্থার চুরি, দুর্নীতি, স্বজন পোষন নিয়ে। না। সিপিএমের ‘বাবু’রাও পাত্তা দেননি তাকে, আর ‘দিদি’ র ভাই এরা তো তার ছায়াটুকুও ধুয়ে মুছে সাফ করার সব ব্যবস্থা পাকা করেছে।
কে বাঁচাবে- নিগমকে !

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here