পীরবাবা বখতিয়ার খলজির স্বপ্নাদেশে আজও মাটিতে ঘুমান এই গ্রামের বাসিন্দারা !

0
976

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ গ্রাম গেলে এখনও নজরে পড়বে সাধারণ মানুষের বসবাস। আর প্রত্যেক বাড়িতে চোখ ঘোরালেই একটা জিনিস সমস্ত ঘরেই চোখে পড়বে, তাহল এই গ্রামের কোনও বাড়িতেই নেই কোনও খাট। যার প্রধান কারণ, দীর্ঘ প্রাচীন কাল থেকে এই গ্রামের কোনও সদস্যই রাতে কিংবা দুপুরে কোনওসময়ই খাটে ঘুমান না, হয় মেঝেতে আর নাহলে মাটির তৈরী বেদী করে বছরের পর বছর এভাবেই ঘুমিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু কেন? কোথায় বা অবস্থিত এই গ্রাম? আসুন এবার ঘটনায় আসা যাক। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের বেলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পীরপাল গ্রাম। যার ঐতিহাসিক তাৎপর্য লোকমুখে আজ গোটা দেশ তথা বিশ্বে প্রচারিত। লোকমুখে শোনা যায়, খলজি বংশের অন্যতম শাসক ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজির দেহ এই গ্রামেই সমাধিস্থ রয়েছে। সাধারণ মানুষের বিশ্বাস বখতিয়ার খলজি মৃত্যুবরণ করার পর তাঁর দেহ সমাধিস্থ করা হলে তিনি পীর বা দেবতা রূপে আবির্ভূত হন। এলাকার বয়স্ক তথা প্রবীনদের বয়ান অনুযায়ী, বহু বছর আগে তাঁর পূর্বজরা খাটের বিছানায় শুতে গেলে পীর বাবারূপী বখতিয়ার খলজী তাদের স্বপ্নাদেশে দেন। নবীন ওই গ্রামের সদস্য জানান, চৌকি বা খাটে শুলে নানারকমভাবে ভয় দেখানো হত এবং পরিবারের কোনও সদস্য খাটে বা চৌকিতে শুলেই পরিবারের সমস্ত সদস্য একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ত। সেই থেকেই আজ পর্যন্ত পীরপাল গ্রামের সমস্ত মানুষ মেঝেতেই শুয়ে আসছেন। ওই গ্রামে ঘুরে আরও জানা গেল, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার জেলার গঙ্গারামপুর, ​হরিরামপুর​, ​তপন, কুশমন্ডি সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রাচীন ভারতের নানান ইতিহাস ছড়িয়ে রয়েছে। বিভিন্ন ইতিহাসবিদ ও গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৭০৭ সালে ইখতিয়ার উদ্দিন বখতিয়ার খলজি সুলতানি সাম্রাজ্যের শাসক থাকাকালীন পাল বংশকে উৎখাত করে গৌড় রাজ্য দখল করে নেন। এরপর ইতিহাসের বহমানতার সঙ্গে বখতিয়ার খলজী একে একে বহু রাজ্য জয় করে সাম্রাজ্য বিস্তারের টানে তিব্বত ও কামরূপ অভিযান করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তাঁর ওই দুই অভিযান ব্যর্থ হয় এবং সৈন্যবাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরাজয়ের শোকে এরপর থেকেই বখতিয়ার খলজি অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এবং সেই অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন বলে নানা ইতিহাসিকের নানা মত রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর দেহ এই পীরপাল গ্রামেই সমাধিস্থ করা হয়েছিল বলে গ্রামবাসীরা মনে করেন। যেহেতু বখতিয়ার খলজির দেহ মাটিতে সমাধিস্থ করা হয়েছিল সেহেতু পীরবাবার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতেই গ্রামবাসীরা এখনও মেঝেতেই ঘুমান বলে অনেকে মতপ্রকাশ করেছেন। কিন্তু কারণ যাই হোক না কেন, দীর্ঘ কয়েক শতক পেরোলেই এখনও পীরপাল গ্রামের মানুষ খাট বা চৌকি ব্যবহার করেন না, মেঝেতেই ঘুমান। কারণ তাদের মনে এখনও এই বিশ্বাস বদ্ধমূল যে খাটে বা চৌকিতে শুলেই পীরবাবা আবার স্বপ্নাদেশে আসবেন এবং পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই প্রাচীন বিশ্বাসের রীতি আজও বিদ্যমান দক্ষিণ দিনাজপুরের পীরপাল গ্রামে।