তরল মাদক দ্রব্য কোডাইন সহ ,প্রতারণা মামলায় ধৃত বর্ধমানের আইনজীবী সুদীপ্ত কুমার রায়

0
162

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ-

প্রতারণা মামলায় ধৃত বর্ধমান আদালতের আইনজীবী সুদীপ্ত কুমার রায়ের কাছ থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবী, নোটারি ও স্ট্যাম্প ভেম্ডারের জাল রবার স্ট্যাম্প পেয়েছে পুলিস। তার বাড়ি থেকে বেশ কয়েকটি ফাঁকা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে পুলিস। জালিয়াতিতে রবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করা হত বলে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছে পুলিস। ৫ দিনের পুলিসি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রবিবার সুদীপ্তকে ফের বর্ধমান সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। পুলিসি হেফাজতে থাকার সময় তাকে নিয়ে বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিস। তাতে পূর্ব বর্ধমানের এক্সিটিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নকল বরার স্ট্যাম্প, কালনার ডেপুটি কালেক্টরের জাল স্ট্যাম্প, কালনার এক আইনজীবীর নকল সীল, পূর্ব বর্ধমানের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধকের স্ট্যাম্প, এক ভেন্ডারের নকল সীল, কাটোয়ার নোটারির জাল রবার স্ট্যাম্প ও বেশ কয়েকটি ফাঁকা ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিস দাবি করে।

তার হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহের জন্য আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। ধৃতের হয়ে কোনও আইনজীবী এদিন দাঁড়াননি। ধৃতকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। দ্বিতীয় জুডিশয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে মঙ্গলবার ধৃতের হাতের লেখার নমুনা সংগ্রহ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। অন্য একটি প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য এদিন আবেদন জানায় পুলিস। মঙ্গলবার সেই আবেদনের শুনানি হবে বলে নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম।


পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কিছুদিন আগে তরল মাদক দ্রব্য কোডাইন সহ সুদীপ্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। শহরের নীলপুর এলাকায় তার বাড়ি। নীলপুর এলাকা থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার আগেই প্রতারণার বিষয়ে বর্ধমান আদালতের সরকারি আইনজীবী উদয় শঙ্কর কোনার বর্ধমান আদালতে মামলা করেন। আদালত কেস রুজু করে তদন্তের জন্য বর্ধমান থানার আইসিকে নির্দেশ দেয়। অভিযোগে উদয়বাবু জানিয়েছেন, তাঁর সই জাল করে আইনবিভাগে সরকারি আইনজীবী হিসাবে পদত্যাগ পত্র পাঠায় সুদীপ্ত। কয়েকটি মামলায় সুদীপ্তের বিরুদ্ধে সওয়াল করার জন্য তাঁর নামে জাল পদত্যাগ পত্র পাঠানো হয়। এরআগেও মাদক সহ সুদীপ্ত ধরা পড়ে বলে দাবি করে পুলিস। সেই মামলার বিচার এখনও চলছে। এর আগে এসডিও-র জাল রবার স্ট্যাম্প তৈরির অভিযোগে তাকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর সঙ্গে তার খোরপোষের মামলাও চলছে বর্ধমান আদালতে। উদয়বাবু বলেন, বিভিন্ন জায়গায় আমার নাম করে সাংবাদিক ও বিচারপতিদের কাছে ফোন করেছে সুদীপ্ত। এছাড়াও ভিন রাজ্যের জেল উড়িয়ে দেওয়ার চিঠিও সে আমার নাম করে দিয়েছে। এরআগে লালবাজার পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। স্ত্রীর হয়ে মামলা লড়ার জন্য আমাকে এভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করে সে। বর্ধমান আদালতের আরও কয়েকজন আইনজীবীর নামে ভূয়ো অভিযোগ করেছে সুদীপ্ত। বিচারকদের বিরুদ্ধেও সে অনেক জায়গায় মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here