ভোট আসে, ভোট যায়, সুন্দরবনের গ্রামগুলিতে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি থেকেই যায়

0
283

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ভোট উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে। সপ্তম দফার মধ্যে দুই দফার ভোট উৎসব সম্পন্ন। এবার অপেক্ষা তৃতীয় দফার ভোটের। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মত রাজ্যেও বিভিন্ন লোকসভা ভোট উপলক্ষ্যে ভোট প্রচার তুঙ্গে। কিন্তু রাজ্যে যখন ভোটের মুখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দেখা যাচ্ছে জনগণের দরবারে দরবারে তখন অসহায় অবস্থা সুন্দরবন এলাকার মানুষগুলোর। এর প্রধান কারণ স্বভাবতই অনুন্নয়ন। গত কয়েক বছর ধরে চরম অবহেলায় সুন্দরবন এলাকার গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা। চিরাচরিতভাবেই ভোট যখন এসেছে তখন প্রতিশ্রুতির ঝোলা কাঁধে সমস্ত জায়গার মতো এই সমস্ত গ্রামগুলিতেও পৌঁছে গিয়েছেন বিভিন্ন দলের নেতা ও প্রার্থীরা। আশ্বাসের ঠেলায় একপ্রকার নিজেদের সারল্যেই এইসমস্ত গ্রামের মানুষজন উন্নয়নের কথা ভেবে ভোট দিয়েছিলেন। আর এইসমস্ত সরল মানুষদের মাথায় হাত বুলিয়ে ভোট বৈতরণী পার হতেই নিজেদের আখের গুছিয়ে সরে পড়েছেন এইসমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রার্থীরা। ঘুরেও তাকাননি সুন্দরবন এলাকার সেইসমস্ত মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আঁকড়ে আশায় বুক বাঁধা সুন্দরবনের কয়েকশো পরিবারগুলির দিকে। এদেরই কারোর পরিবার হারিয়েছেন স্বামী, সন্তান সহ আত্মীয় স্বজনদের। জীবিকার নির্বাহে আর পরিবারের পেট চালাতে গিয়ে জীবন বাজি রেখে মাছ ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে সুন্দরবনের কোনও খাঁড়িতে বাঘের বা কুমীরের পেটে জীবন দিয়েছেন তারা। আবার কখনও প্রতিকূল আবহাওয়ায় পড়ে সমুদ্রে নৌকাডুবিতে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। আর পরিবারের একমাত্র আয়ের সদস্যের এহেন মর্মান্তিক পরিণতির জেরে অসহায় ও সম্বলহীনতার অন্ধকার গ্রাস করেছে সেইসমস্ত সুন্দরবন এলাকার পরিবারকে। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে জীবিকাহীন মা-কে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে খাবারের সন্ধানে। কি নির্মম পরিহাস। যাদের ভোটে কোনও এক রাজনৈতিক দলের নেতা দিনের পর দিন ফুলে ফেঁপে উঠছেন, বিলাসীতার জীবন-যাপন করছেন, তখন অসহায় মা ও তার পরিবারকে নূন্যতম খাবারের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। দিনের পর দিন, বছরের পর বছর। আবার এসেছে ভোট উৎসব। আবার সুন্দরবনের গ্রামে গ্রামে ফিরে এসেছেন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। আবার এসেছে প্রতিশ্রুতির বার্তা। কিন্তু আজ আর সেই প্রতিশ্রুতি গলাতে পারে না সুন্দরবনের এইসমস্ত গ্রামবাসীদের। আজ তাদের কাছে এই প্রতিশ্রুতি গরলসম। কারণ তারা আজ ভালোই বুঝে গেছেন, প্রতিশ্রুতিই সার। ভোট পেরোলে আবারও সেই প্রদীপের তলায় অন্ধকার নেমে আসবে।