ধরা পড়ে গেল ফনী’র মনসা বেচার বুজরুকি, দুর্গাপুর ছেড়ে পালাল “বাবাজি”…দেখুন ভিডিও

0
9306

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ

সাপ একটাই – দুধ খরিশ! লোকও একজনই-, তবে জায়গায় জায়গায় বদলে ফেলেন নাম। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দুর্গাপুরের অঙ্গঁদপুরে যিনি ফনীভূষন মন্ডল, ঝাড়খন্ডের বোকারোতে তিনিই আবার ফণীশ্বর নাথ মন্ডল।
বারে বারে ঠিকানা বদলে, একটি দুধ খরিশ আর মাটির হাঁড়ি বগল দাবা করে ‘দেবী মনসা’কে ফেরি করে দেদার পসার জমাচ্ছেন এই ‘বাবাজি’। আর কাতারে কাতারে মানুষ, মাথা নুইয়ে অবাক চোখে ‘দর্শন’ করছেন হাঁড়ি থেকে বেরিয়ে আসা মনসাকে।
তবে, ধরা পড়ে গেল ‘বাবাজি’র বুজরুকি। হাঁড়ি থেকে সাপ বের করার ওস্তাদ ‘মন্ডল বাবাজি’র ঝুলি থেকে এবার বেরিয়ে পড়ল বেড়াল!
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল সকাল দুর্গাপুরের অঙ্গঁদপুরের একটি পুকুরপাড়ে উপচে পড়া ভিড়। আবাল বৃদ্ধবনিতা দমবন্ধ করে চেয়ে আছেন টলটলে পুকুরের জলে। ‘বাবাজি’ তরতর করে নেমে যাচ্ছেন জল কেটে। আড়াই মিনিটের মাথায় ‘বাবাজি’- ফনীভূষন মন্ডল পুকুরের মাঝ বরাবর টুপ করে ডুব দিলেন আর উঠলেন, হাতে ধরা দশাসই একটি দুধে খরিস। ফণা তুলে। ফণীর দাবি – আগের রাত্রে স্বয়ং “দেবী মনসা” তাকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে ছিলেন – অঙ্গঁদপুরের ওই পুকুর থেকেই “আবির্ভূত” হবেন বলে! তাই, পুকুর পাড়ে অমন থিক থিকে ভিড়। “বাবাজি” যখন দুহাতে সাপ ধরে বিজয়ীর মতো জল ছেড়ে ডাঙ্গাঁয় উঠলেন – পাড়ে তখন ‘মা, মাগো’ ‘দয়া করো মা’ এসব আর্তিতে ভেসে যাচ্ছে অঙ্গঁদপুর। দলে দলে লোক ছুটছে রাতুড়িয়া, মায়াবাজার, পুরষা, তেঁতুলতলা থেকে।

দেখুন ভিডিও :

আসলে, ওটা দৃশ্য দুই।
‘এই বাংলায় ডট কম’র হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে ‘বাবাজি’র বুজরুকির পর্দা ফাঁস করল। সেটাই প্রমান করল, ‘বাবাজি’র করিশ্মার দৃশ্য – এক কিন্তু শহর দুর্গাপুর থেকে প্রায় ২০০ কিমি দুরে।
কিন্তু, কি সেটা?
ঝাড়খন্ডের বোকারোর অদূরে সিজুয়া নামের একটি গঞ্জ। সেখানে ১৪ সেপ্টেম্বর সকালে কাতারে কাতারে ভিড়। ‘বাবাজি’র ঘরে ‘দেবী মনসার’র সাক্ষাৎ দর্শনে দৌড়াচ্ছেন আমজনতার সাথে রাজনৈতিক দলের নেতারাও। ধানবাদ থেকে ভক্ত রাকেশ রায়, বোকারোর রাজ সিং সকলের গন্তব্য সিজুয়া।

কারন?
সিজুয়ায়, ‘স্বপ্নাদেশ’ দিয়ে পুকুর থেকে উঠে এসেছেন’দেবী মনসা’। পুকুর থেকে দুহাতে ‘দেবী’ কে তুলে ডাঙ্গাঁয় আনলেন ‘বাবাজি’। হ্যাঁ। সেই ‘মন্ডল বাবাজি’ ই, তবে সিজুয়ায় তার নাম ফণীভূষন নয়, ফণীশ্বর নাথ মন্ডল। হাতে সেই একই নাগরাজ। পাড়ে উঠে ভক্তদের তিনি বললেন, “স্বপ্নাদেশ পাই, দেবী এখানে আছেন।’ সেই এক ডায়লগ। হিন্দিভাষী ভক্তরা দলে দলে ভিড় জমালেন ফণীশ্বর নাথের কুটিরে। সেখানে পুরো পরিবার নিয়ে, নাগরাজকে মাটির হাঁড়ি থেকে বের করে ‘দেবীদর্শন’ করাচ্ছেন ‘বাবাজি’ আর ঝরঝর করে নিজের সমস্যা অসুবিধার কথা ‘মা’ কে নালিশ করছেন ভক্তরা। বোকারো থেকে আসা ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে- ফণীর ছোটপুত্র’র হাতে সেই সাপ। ফণী বলছেন- “এটা সাপ নয়। মনসা। কাউকে কামড়ায় না।”

দেখুন ভিডিও :

https://www.youtube.com/watch?v=xFuGDDHF3vQ&feature=youtu.be


দুর্গাপুরে ‘দেবী’ র আবির্ভাবের পর হৈ চৈ পড়ে যায় শহর জুড়ে। খবর যায় বনদপ্তরেও। দুর্গাপুরের বিভাগীয় বনাধিকারিক মিলনকান্তি মন্ডল বলেন, “এভাবে সাপ ধরে রেখে উপার্জন করা বেআইনী”। তিনি তার দপ্তরের কিছু কর্মীকে অঙ্গঁদপুরে ফণীর ডেরায় পাঠান ওই সাপ উদ্ধারের জন্য। মিলনবাবু বলেন, “আমাদের লোকেরা গেছিল তারপর ওরা ওই সাপটিকে ছেড়ে দেয়”। কিন্তু বনদপ্তরের কর্মীরা ওই সাপটি কেন উদ্ধার করে আনল না, জানতে চাওয়ায়, মিলনবাবু বলেন, “ওরা নিজেরাই ছেড়ে দিল। তাই আর আনা হয়নি”। এদিকে, অঙ্গঁদপুরের মন্দিরটিতে টানা তিনদিন বুজরুকির ব্যবসা চালানোর পর এলাকা ছেড়ে চম্পট দিয়েছেন ফণী ও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here