মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজ পেয়ে বেজায় খুশি ধানশিমলা পঞ্চায়েতের পরিযায়ী শ্রমিকরা

0
414

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- করোনা পরিস্থিতির মধ্যে দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হয়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছিলেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় সেই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা ধীরে ধীরে নিজের বাড়ি ফিরতে পেরেছেন । কাজ হারিয়ে বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে কিভাবে সংসার চলবে ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে কিভাবে বাঁচবেন তাই ভেবেই কাটছিল দিনের পর দিন। অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজ পেয়ে অত্যন্ত খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা। বুধবার ধানশিমলা পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেল পরিযায়ী শ্রমিকরা তারা বাড়িতে ফিরে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে পঞ্চায়েত প্রধান ইউসুফ মন্ডলের সহযোগিতায় ১০০ দিনের কাজ করছেন। পঞ্চায়েত সুত্রে জানা যায় এই মুহূর্তে ধানশিমলা পঞ্চায়েতের নয়টি সংসদেই ১০০ দিনের কাজ চলছে । যার মধ্যে একশ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছেন। এদের মধ্যে ৫০ টি নতুন জব কার্ড তৈরি করে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে। রীতিমত পঞ্চায়েত প্রধানের এই উদ্যোগে খুশির হাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক থেকে শুরু করে তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে। বর্তমান কঠিন পরিস্থিতিতে যখন অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি রাজনৈতিক স্বার্থে শাসকদলের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলেন সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের সৈনিকরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন , সেরকমই এক সুপরিচিত মুখ সোনামুখী ব্লকের ব্লক সভাপতি এবং ধানশিমলা পঞ্চায়েত প্রধান ইউসুফ মন্ডল। লক্ষীকান্ত টুডু নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক বলেন, ভিন রাজ্য থেকে বাড়িতে এসে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইন থাকার পর পঞ্চায়েত প্রধান ইউসুফ মন্ডলের উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজ পেয়ে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এরফলে আমার সংসারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে আসবে।


শুধুমাত্র পরিযায়ী শ্রমিকরা নয় ১০০ দিনের কাজ পেয়ে খুশি স্থানীয় জব কার্ড হোল্ডাররা। দীর্ঘ লকডাউন থাকার কারণে কাজ হারিয়ে তারাও আর্থিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন । অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় কাজ পেয়ে গ্রামে খুশির হাওয়া । শেখ সবুল নামে এক স্থানীয় জব কার্ড হোল্ডার বলেন , লকডাউন এর কারণে সংসারে আর্থিক অনটন দেখা দিয়েছিল ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে উপোস করে দিন কাটিয়েছি অবশেষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে ১০০ দিনের কাজ পেয়ে আমি অত্যন্ত খুশি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই । ধানশিমলা পঞ্চায়েত প্রধান তথা সোনামুখী ব্লক সভাপতি ইউসুফ মন্ডল বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধানশিমলা পঞ্চায়েতের শ্রমিকরা কাজে গিয়েছিলেন লকডাউনে আটকে থাকা সেই সমস্ত শ্রমিকরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন এবং আমরা তাদের নতুন জব কার্ড তৈরি করে ১০০ দিনের কাজ দিয়েছে এর ফলে তারা আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন।


অন্যদিকে, বাঁকুড়ার কাল পাথর পঞ্চায়েতের ছেঁন্দুয়া গ্রামে লক ডাউনের জেরে ভিন রাজ্যে কাজ হারিয়ে দলে দলে বাঁকুড়ায় নিজের বাড়িতে ফিরে আসছে পরিযায়ী শ্রমিকরা। ফিরে আসছে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। কিন্তু জেলায় ফিরে কিভাবে চলবে তাঁদের রুজি রুটি? কোন কাজেই বা যুক্ত হবেন তাঁরা এমনই হাজার প্রশ্নের উত্তর গত এক মাস আগেও ছিল অজানা। তবে ধীরে ধীরে সমস্ত দ্বিধা দ্বন্দ কাটিয়ে ফের তাঁরা ফিরতে শুরু করেছেন স্বাভাবিক ছন্দে। কারন স্থানীয় বাসিন্দাদের মতোই ভিন রাজ্য থেকে জেলায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজ পাচ্ছেন একশো দিনের কাজের প্রকল্পে। জেলা প্রশাসনের তরফে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী লক ডাউনের সময়কালে এখনো পর্যন্ত বিভিন্ন ভাবে জেলায় ফিরেছেন প্রায় কুড়ি হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কাজ করার জন্য এদের অনেকেরই জব কার্ড নেই। ভিন রাজ্যে বিভিন্ন কল কারখানা ও নির্মান শিল্পে যুক্ত থাকায় এতদিন সেসব প্রয়োজনও হয়নি। এবার নিজের জেলায় ফেরা সেই সব শ্রমিকদের দ্রুত জব কার্ড তৈরী করে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে যুক্ত করার প্রক্রিয়া চালু করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি লক ডাউনে বিপর্জস্ত গ্রামীন অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একশো দিনের প্রকল্পের কাজে যথেষ্ট জোর দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের দাবি বাঁকুড়া জেলার ১৯৮ টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই জোরকদমে শুরু হয়েছে একশো দিনের প্রকল্পের কাজ। উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এই প্রকল্পের কাজে যুক্ত হওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা। স্থানীয় শ্রমিকদের মতো পরিযায়ী শ্রমিকরাও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতে গিয়ে কাজের আবেদন জানালে কাজ দেওয়া হচ্ছে। একশো দিনের কাজে যুক্ত জেলার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা চার হাজার ছাড়িয়েছে। লক ডাউনে কাজ হারিয়ে নিজের বাড়িতে ফিরে এসেও একশো দিনের কাজের প্রকল্পে রুজি রোজগারের সুজোগ মেলায় খুশি পরিযায়ী শ্রমিকরা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে চলতি বছর ৪২ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮৮৬ টি শ্রমদিবস তৈরী করা হয়েছে। এই প্রকল্পে কাজ পেয়েছেন জেলার ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৫৩ টি পরিবার। করোনা পরিস্থিতিতে গ্রামীন অর্থনীতিতে নগদ টাকার জোগান অব্যাহত রাখতে চলতি অর্থবর্ষে জেলায় দু কোটি শ্রমদিবস তৈরীর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here