দুর্গাপুরে মিশন হাসপাতলের কর্মীদের কাজে যোগ দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

0
2106

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। মারণ রোগ করোনা ভাইরাসের দাপটে ইতিমধ্যেই ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে আছেন সাধারণ মানুষজন। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশকর্মী ও সাফার কর্মীরাই নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন এই কোন যুদ্ধে জয়লাভের উদ্দেশ্যে। কেন্দ্র সরকার ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে ইতিমধ্যেই মানুষজনকে সচেতন করা গেছে করোনা ভাইরাস নিয়ে।

এরই মধ্যে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে এক করোণা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর ভর্তি হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা দুর্গাপুর জুড়ে। গর্ত বৃহস্পতিবার সেই ব্যক্তির দুর্গাপুরের সনোকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল যেটি এখন সরকারি কভিড-১৯ হাসপাতাল সেখানে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালে যেখানে ওই ব্যক্তি চিকিৎসারত ছিলেন সেই কার্ডিওভাসকুলার ইউনিটের সমস্ত কর্মচারী, ডাক্তার ও নার্সদের সহ ২৭ জনকে মিশন হাসপাতালের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই কোয়ারিন্টিন করা হয়েছে। পুরো মিশন হাসপাতাল জুড়ে সানিটাইজেশন প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে এবং সর্বস্তরের রোগী ও তাদের পরিজনদের স্বাস্থ্যের প্রতি করা নজরদারি রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে গতকাল অর্থাৎ ১০ই এপ্রিল মিশন হাসপাতালের কর্ণধার ডক্টর সত্যজিৎ বোস দুর্গাপুরের এন.টি.এস থানায় অভিযোগ করেন যে তাদের হাসপাতালের ৪ জন গ্রুপ ডি’র ঠিকা কর্মী, হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী এবং কর্মচারীদের কে হাসপাতালে কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন। তিনি অভিযোগ করে জানান ওই ঠিকা কর্মীরা করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত গুজব ছড়িয়ে দিচ্ছেন গোটা হাসপাতাল ও তার আশেপাশের অঞ্চলে। ডাক্তার সত্যজিৎ বোস এন.টি.এস থানাকে অনুরোধ করেন এই মর্মে একটি এফ.আই.আর করার জন্য। দুর্গাপুর পুলিশের এন.টি.এস থানা দ্রুততার সাথে তদন্ত করে ২ ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়ে গ্রেপ্তার করেন। তাদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো ও হাসপাতাল কর্মীদের কে কাজে বাধা দান করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে যে কালীগঞ্জের সংহতি ক্লাবে থাকছেন বেশ কিছু ব্যক্তি যারা মিশন হাসপাতালে কাজ করেন ও পার্শ্ববর্তী জেমুয়া, পরাণগঞ্জ ও কালিগঞ্জের গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ তাদেরকে গ্রামের মানুষেরা গ্রামের ভেতর যেতে দিচ্ছেন না। অভিযোগ যে মিশন হাসপাতাল থেকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল যদি তাদেরকে হাসপাতালে কাজ করতে হয় তাহলে তারা যেন হাসপাতালেই থাকেন। যদিও বেশ কিছু জায়গা থেকে অভিযোগ করা হয় যে ওই ২০-২২ জন ব্যক্তিকে গ্রামের মানুষেরা গ্রামে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছেন তাই তারা ওই ক্লাবে আশ্রয় নিয়ে আছেন।

জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে এই খবর যেতেই সঙ্গে সঙ্গে এন.টি.এস থানার পুলিশ সংগতি ক্লাবে যায়। সেখানে আশ্রয় নিয়ে থাকা ২০-২২ জন যুবকের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে যে শুধুমাত্র তাদের গ্রাম ও পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখেই তারা গ্রামে যেতে চাইছেন না এখনে তাদের ওপর কোনরকম চাপ কেউ সৃষ্টি করেনি। ওই ক্লাবটি আশ্রয়স্থল হিসেবে আপাতত তারা ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here