দুর্গাপুরের লোহা চোরেরা স্করপিও চড়ে লুঠ করছিল বর্ধমানের কারখানাঃ পান্ডা সহ ধৃত ২

0
1468

অমল মাজি, বর্ধমানঃ- দুর্গাপুরের লোহা চোরেদের চক্র যে বেশ ছড়িয়ে রয়েছে আশেপাশের জেলা জুড়ে, বর্ধমানে দুই পান্ডার গ্রেপ্তারে তার প্রমান মিলল। জেরায় তারা কবুলও করেছে- অন্ততঃ তিন বছর ধরে বর্ধমান শহরের লাগোওয়া কয়েকটি বেসরকারি ইস্পাত কারখানার স্টোর থেকে মাঝে মাঝেই যন্ত্রাংশ সাফাই এর কাজে দুর্গাপুর থেকে লাক্সারী স্করপিও গাড়ী নিয়ে হানা দিত।
দুর্গাপুরের কোকওভেন, নিউ টাউনশিপ আর দুর্গাপুর- এই তিন থানা এলাকাতেই বছরের পর বছর চলছে লোহার কাঁটা। সম্প্রতি কোকওভেন থানা লাগোওয়া হুচুকডাঙ্গাঁয় রাতুড়িয়া-অঙ্গঁদপুরের বন্ধ কারখানা থেকে দেদার লোহা পাচারের বিষয়টি সামনে আসে। সেখানকার ছাইপুকুরে গোবর্ধন রেড্ডি, দিলীপ কীর্তনিয়া দের দলটি মাসে প্রায় কোটি টাকার লুঠ করা লোহা ঢালাও পাচার করছিল। বিষয়টি নিয়ে নাড়াচাড়া হতেই কোকওভেন থানা চোরাই লোহা বোঝাই দুটি লরি আটক করে।
লোহা চোরেদের বিষয়ে সক্রিয় হয় পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিশও। জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্তারা জানান, “বর্ধমান শহর ঘেঁষা কারখানা গুলি থেকে লোহা, তামা, পিতল লুঠের যে ১৭-১৮ জনের চক্র তার মূল পান্ডা থেকে শাগরেদদের বড় অংশ দুর্গাপুরেই”। সোমবার ঐ চক্রের এক চাঁই কে গ্রেপ্তার করে বর্ধমান পুলিশ।
গত সপ্তাহেই দুর্গাপুর থেকে সুদেব কীর্তনিয়া নামে এক লোহা চোর কে আটক করে বর্ধমান পুলিশ। তাকে জেরা করে দশরথ চৌধুরী নামে আরো এক পান্ডা কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে বিলাসবহুল, ঝকঝকে স্করপিও গাড়ী ব্যবহার করে তারা কারখানাগুলি থেকে লোহা লুঠ করত। কারখানার পাঁচিল টপকে ব্যবহার করা হোত ফোল্ডিং স্টিলের মই। টানা তিন বছর ধরে সুদেব, দশরথ ও তাদের সাঙ্গঁপাঙ্গঁরা বর্ধমান, শক্তিগড় ও দেওয়ানদিঘি থানা এলাকার কল কারখানা থেকে লুঠ চালাচ্ছিল। দু’বছর আগে তালিতের দুটি কারখানা থেকে ‘কপার মোল্ড টিউব’ নামে তামার পাইপ চুরি করে, যে গুলির ওজন ছিল ১৮ কেজি থেকে ৩০ কেজি। একই কায়দায় গত বছর নভেম্বরে তালিতেরই অন্য একটি কারখানায় তারা হানা দেয়। কারখানায় বার বার হানাদারিতে ব্যবহৃত দুটি স্করপিও গাড়ীর নম্বর আসে পূর্ব বর্ধমান পুলিশের হাতে। তারপরই গাড়ী দুটির নম্বরে সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। “সেই তদন্তেই উঠে আসে দুর্গাপুরের মানাচর এলাকার সুদেব কীর্তনিয়ার নাম। তাকে আটক করা হয়”, বললেন পূর্ব বর্ধমানের জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখারজী। তিনি আরো বলেন, “এখন পর্যন্ত আমাদের তদন্তে যা উঠে এসেছে, ঐ চক্রের মূল পাণ্ডা দশরথই”। দশরথ কে পাকড়াও করার জন্য দুর্গাপুরে লাগাতার রেইড করা হয়। কিন্তু, পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সে বর্ধমান শহর লাগোওয়া একটি পল্লীতে এক আত্মীয়ের বাড়ীতে গা ঢাকা দিয়ে ছিল। অন্য একটি সূত্রে পাওয়া মাত্র তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দশরথ কে গ্রেপ্তারের পর তাকে ও সুদেব কীর্তনিয়াকে সাথে নিয়ে পুলিশ তালিতের কারখানায় যায় ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য। তদন্তে পুলিশ আরো জানতে পেরেছে- লোহা চুরিতে ব্যবহৃত বিলাসবহুল স্করপিও গাড়ী গুলি দুর্গাপুরে নথিভুক্ত। পুলিশ ধৃতদের জেরা করে জানতে চাইছে- দশরথ, সুদেব দের সাথে দুর্গাপুরের লোহা চোর উমেশ যাদব, রাজা গুন, গোবর্ধন রেড্ডি, সেন্টু সেখ বা দিলীপ কীর্তনিয়াদের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে, নাকি তারা পৃথক ভাবে কাজ করা আলাদা একটি দল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here