হাতি খেদানোর মাঝেই রানিবাঁধে মারা পড়ল দুই গ্রামবাসী

0
513

বিশেষ সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- ফের হাতির হামলায় জোড়া মৃত্যু। এবার বাঁকুড়ার রানিবাঁধে। তবে, এবার দু’জন গ্রামবাসী মারা গেলেন বন দপ্তরের হাতি খেদানো অভিযানের মাঝেই। তাই, নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই তীব্র অসন্তোষ জন মানসে। পরস্থিতি সামাল দিতে বন দপ্তর এদিন সকাল সকাল জানিয়ে দিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় নতুন করে শুরু হবে হাতি খেদানো অভিযান।
২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঝাড়খন্ডের দলমা পাহাড় লাগোওয়া জঙ্গঁল থেকে বাঁকুড়ার সারেঙ্গাঁয় ঢোকে ৩২ টি হাতির একটি পাল। বাঁকুড়া (দক্ষিন) বন বিভাগের সারেঙ্গাঁ ও তার পাশাপাশি এলাকায় ছয় দিন ধরে কৃষক দের ধান, আলু, ফুলকফি যথেচ্ছে ধবংস করার মাঝেই দলটি দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। একটিতে ২৪ টি হাতি অন্যটিতে একটি অসুস্থ বাচ্চা সহ ৮ টি। মঙ্গঁলবার বিকাল ৪ টা নাগাদ বন বিভাগ নিযুক্ত হুলা পার্টি ২৪ টি হাতির দলটিকে ঝাড়খন্ড সীমান্তের দিকে খেদানো শুর করে। সারেঙ্গাঁ থেকে পিড়ল গাড়ী, মটগোদা রেঞ্জ হয়ে বুধবার ভোর ৪ টা নাগাদ রানিবাঁধের বামনিপাহাড়ি বনাঞ্চলে এসে জড়ো হয় হাতিগুলি।
এরপরই ওই দলের কয়েকটি হাতি দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। তখনি বাঁধে বিপত্তি। দলছুট ৬ টি হাতি সটান ঢুকে পড়ে রানিবাঁধের বুধখিলা গ্রামে। সে সময়ই জঙ্গঁলের দিকে যাচ্ছিলেন ৩২ বছরের যুবতী বাসন্তী সিং সর্দার। উন্মত্ত দাঁতাল দের পাল্লায় পড়ে যান তিনি। একটি হাতি শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে তাকে আছড়ে মেরে ফেলে ভোর ৫ টা নাগাদ। এর পরই অন্য একটি হাতি বুধখিলা গ্রামেরই নিজের বাড়ীর দাওয়ায় শুয়ে থাকা ধরনী সর্দার (৬৫) কে শুঁড়ে তুলে চম্পট দেয় জঙ্গঁলের দিকে। কিছুক্ষন পরই তার মরদেহ পাওয়া যায় পুকুর পাড়ে।


এ ঘটনার পরই ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীরা সেখানকার ভুরকুড়া মোড়ে অবরোধ করে। প্রায় আধঘন্টা অবরোধ চলার পর সেখানে পৌঁছান রানিবাঁধের রেঞ্জার বি.লামা। তাকে ঘিরে ক্ষিপ্ত গ্রামবাসীদের অভিযোগ, “বন দপ্তর যখন হাতি তাড়াচ্ছে, তখন এলাকায় মাইকিং করে মানুষ কে সতর্ক করেনি কেন”? পুলিশ গিয়ে রেঞ্জার কে গ্রামবাসীদের হাত থেকে উদ্ধার করে।
গত ৪ জানুয়ারি বিষ্ণুপুর লাগোওয়া চিতরউ গ্রামে হাতির হামলায় মারা যান অশোক সর্দার। গত সোমবার গঙ্গাঁজলঘাটি রেঞ্জ এলাকার রাধাকৃষ্ণপুরে হাতি খেদানোর সময় একটি দাঁতালের আক্রমনে মারা যান রহিম লোহার নামে এক যুবক। এই নিয়ে বাঁকুড়ায় শুধু জানুয়ারি মাসেই চারটি মৃত্যু ঘটল হাতির হামলায়। বাঁকুড়া (দক্ষিন) বন বিভাগের বিভাগীয় আধিকারিক দেবাশীষ মহিমা প্রসাদ বলেন, “মানুষ কে আরো সতর্ক হতে হবে। জংলী হাতি বাগে আনা সহজ কাজ নয়”। তিনি বলেন, “বুধবার সন্ধ্যায় আমরা ফের হাতি খেদানো অভিযান শুরু করব। ঝিলিমিলি হয়ে কংসাবতী নদীর পাড় বরাবর দলটি কে ঝাড়খন্ডে পাঠাবো”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here