শনির দশা! একই দিনে জেলাজুড়ে অপঘাতে মৃত ৫

0
256

সংবাদদাতা, বর্ধমান:– প্রতিবেশীর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা নকল করতে গিয়ে মৃত্যু হল এক স্কুলছাত্রের। মৃতের নাম বিশ্বরূপ মণ্ডল(১৫)। ভাতার থানার ছাতনি গ্রামে তার বাড়ি। সে খেড়ুর–ছাতনি ক্ষেত্রনাথ হাই স্কুলে দশম শ্রেণীতে পড়ত। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দিনকয়েক আগে এক প্রতিবেশী গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পরিবারের লোকজন দেখতে পেয়ে তড়িঘড়ি দড়ি কেটে তাঁকে নীচে নামান। তার ফলে তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মৃতের কাকা সনৎ মণ্ডল বলেন, বিশ্বরূপের মধ্যে জানার আগ্রহ ছিল। বিভিন্ন বিষয়ে সে জানার চেষ্টা করত। কিছুদিন আগে বাবার সঙ্গে প্রতিবেশীর গলায় দড়ি দেওয়া নিয়ে সে আলোচনাও করে। বাবা তাকে ধমকান। যদিও তাতে দমেনি বিশ্বরূপ। শনিবার দুপুরে সে টিউশন থেকে বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণ পর ঘরে ঢুকে খাটের বাটামে মাফলার দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে পড়ে। স্নান সেরে ঘরে ঢুকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান মা। মাফলার কেটে নামিয়ে প্রতিবেশীদের সাহায্যে তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্য একটি ঘটনায় বর্ধমান শহরের বাহিরসর্বমঙ্গলাপাড়ায় গায়ে আগুন লাগিয়ে এক ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন। মৃতের নাম শেখ হানিফ(৩৭)। তিনি পেশায় প্লাম্বিং মিস্ত্রি ছিলেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়িতে গায়ে আগুন নেন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভির্ত করা হয়। সেখানে রবিবার সকালে তিনি মারা যান। পারিবারিক অশান্তির জেরে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে পুলিশের অনুমান।


অপর একটি ঘটনায় জামালপুর থানার জামুদহ গ্রামে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম গীতা দত্ত(৪০)। দিনকয়েক আগে বাড়িতে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভির্ত করা হলে শনিবার রাতে তিনি মারা যান। রান্না করার সময় গ্যাস থেকে তিনি পুড়ে যান বলে পরিবারের দাবি।


অন্যদিকে, কাটোয়া থানার পুনি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মৃতার নাম পায়েল দাস(১৯)। কাটোয়া থানার কাটারিয়া গ্রামে তাঁর বাপের বাড়ি। বছর দু’য়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর একটি ছেলেও আছে। শনিবার সকালে তিনি অগ্নিদগ্ধ হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভির্ত করা হয়। সেখানে রাতেই তিনি মারা যান। বাপেরবাড়ির অভিযোগ, তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। মৃতার বাবা রামকৃষ্ণ দাস বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর মেয়েকে বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বলা হয়। তা দিতে না পারায় মেয়ের উপর নির্যাতন শুরু হয়। টাকা না দেওয়ায় মেয়েকে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে বর্ধমান থানায়।


অপরদিকে, মাধবডিহি থানার উচালনে তালগাছ থেকে পড়ে এক প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম শেখ আলমগীর(৫০)। তিনি পেশায় চাষি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে হাঁড়ি থেকে রস নিতে তিনি তালগাছে ওঠেন। সেই সময় আচমকা তিনি গাছ থেকে পড়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার করে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে রবিবার ভোরে তিনি মারা যান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here