প্রশ্ন ‘নয়’: নিঃশব্দে প্রত্যাবর্তন ‘অপহৃত’ রাজেশের, খটকা দুর্গাপুর জুড়ে

0
5122

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- ‘হারিয়ে যাওয়া’ সেই রাজেশ জৈন ফিরলেন। তবে, তার এই ‘ফেরা’ য় স্বস্তি নাকি অস্বস্তি বাড়ল পুলিশের, তা নিয়ে বুধবার রাত্রি থেকেই জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে কয়েকটি প্রশ্ন। বলা ভাল ‘খটকা’ লাগছে লোকের মনে- যা নিয়ে এখনো পর্যন্ত ‘সরাসরি’ জবাব দিতে এড়িয়ে থাকছে পুলিশ। তাই ধন্দ বাড়ছে সব মহলেই।
প্রশ্ন- ১ঃ ফেরো-অ্যালয় কারখানার মুখ্য-কার্যনির্বাহী রাজেশ জৈন কি অপহৃত হয়েছিলেন, নাকি আত্মগোপন করেছিলেন?
প্রশ্ন- ২ঃ রাজেশ কি নিজেই ঘরে ফিরলেন, নাকি পুলিশ তাকে উদ্ধার করল?
প্রশ্ন- ৩ঃ অপহরন হয়ে থাকলে, মুক্তিপন কি দিতে হল, নাকি দুষ্কৃতীরা স্রেফ ‘মিঠাই’ খাইয়ে বা-ইজ্জত ঘরে ছেড়ে দিল রাজেশ কে?
প্রশ্ন- ৪ঃ তিনি যদি ‘আত্মগোপন’ই করে ছিলেন, তা হলে তার নেপথ্যে কি কারন থাকতে পারে? তিনি কি ‘একা’ই আত্মগোপনে ছিলেন?
প্রশ্ন- ৫ঃ পুলিশ-ই যদি উদ্ধার করেছে, তবে ঠিক কোথা থেকে তাকে ‘রেসকিউ’ করল পুলিশ- বিহারের ওরঙ্গাঁবাদ থেকে, নাকি বাংলা-খাড়খন্ড সীমান্তের ডুবুরডিহি চেকপোষ্ট থেকে?
প্রশ্ন- ৬ঃ ‘হারিয়ে যাওয়া’র পর থেকে তার ফোন ‘স্যুইচড অফ’ ছিল। শুধু, ঘটনার দিন সন্ধ্যা ৫.৫৫ টা’য় একবার ফোন করে বাংলায় কেউ একজন রাজেশের স্ত্রী’কে নাকি জানায় যে রাজেশ কে অপহরন করা হয়েছে। তা হলে, ফোন ট্র্যাক করে ওরঙ্গাঁবাদ বা ডুবুরডিহি থেকে তার হদিশ পাওয়া সম্ভব নয় পুলিশের পক্ষে। তা হলে কি ফের ফোন করে রাজেশ বা ‘অন্য কেউ’ পুলিশ বা তার পরিবারকে জানায় রাজেশ কোথায় “উদ্ধার হওয়ার জন্য” অপেক্ষা করছেন? নাকি ফের ‘বাসে চেপে’ ‘গুটিসুটি’ ঘরে ফিরে রাজেশ ই জানালেন তিনি উদ্ধার হয়ে গেছেন?
প্রশ্ন- ৭ঃ শপিং মল থেকে অটো চেপে, বাস ধরে যে ভাবে তিনি ‘কিডন্যাপ’ হলেন- তা কি ‘সাইকো-কিডন্যাপিং’- মানে রাজেশ কে মানসিক চাপে রেখে অপহৃত হতে বাধ্য করা?
প্রশ্ন- ৮ঃ রাজেশের স্রী’ কে জেরা করে কি পুলিশ প্রায় নিশ্চিৎ হয়ে গেছিল- নিরঝঞ্জাটেই বাড়ি ফিরবেন রাজেশ?
প্রশ্ন- ৯ঃ হ্যাঁ। এটা প্রশ্ন-৯, মানে কি এ বিষয়ে আর কোনো প্রশ্ন নয়? বিশেষ করে সব যখন ‘হ্যাপি এন্ডিং’ র মতো চুপিচাপি মিটে গেল?
আর যে প্রশ্ন নয়, সেটা আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশের পদস্থ কর্তাদের ‘শর্টেস্ট কাট’ জবাবেই মালুম হয়।
দেখা যাক- কি বলছেন পুলিশের ডেপুটি কমিশনার অভিষেক গুপ্তা?

  • -অপহৃত রাজেশ জৈনের কি খোঁজ মিলেছে? তাকে উদ্ধার করা গেছে?
    জবাব- হ্যাঁ।
  • -অপহরনকারীদের কি গ্রেপ্তার করা গেছে?
    জবাব- না।
  • -অন্যকারো জড়িত থাকার কোনো সূত্র মিলেছে?
    জবাব- না।
    পুলিশের এই ‘সংক্ষিপ্ত তম’ জবাবই কি আরো বেশি প্রশ্নের পথ খুলে দিচ্ছে? এ প্রশ্নের জবাবে চিরকালীন ধরা বাঁধা জবাব একটাই- ‘সেটা বলবে সময়’!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here