তারাপীঠের জীবিতকুণ্ডের শুদ্ধিকরণের পর ফের জল পুজোর কাজে আবার ব্যবহার হবে

0
536
tarapith

সংবাদদাতা, রামপুরহাট :- ৫১ পীঠের অন্যতম পীঠ তারাপীঠ বীরভূম জেলার রামপুরহাট মহকুমার এলাকায় তারাপীঠে মা তারা অবস্থান করেন। এই মন্দিরের জগৎজোড়া নাম। মায়ের মন্দিরের সামনে জীবিতকুণ্ড বলে একটি জলাশয় আছে যেখান থেকে দৈনন্দিন পূজার্চ্চনার কাজে ও মাকে স্নান করানোর জন্য এখান থেকেই জল ব্যবহার করার রীতি রয়েছে। সেইমতো দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে জীবিতকুণ্ডের জল দিয়ে মায়ের পুজো ও স্নান। কিন্তু এ বছরই ৩ আগস্ট আসামের একটি গ্রাম থেকে আসা একদল পুণ্যার্থীর মধ্যে একজন হঠাৎ করে স্নান করতে নেমে তলিয়ে যান ওই জীবিতকুণ্ডে। জানা গেছে ওই পূণ্যার্থীর দলটি দেওঘর হয়ে মায়ের পুজো দিতে তারাপীঠে এসেছিলেন। ১০ জনের একটি দল ছিল তাদের সাথে সঙ্গে, ছিলেন প্রতিবেশী ও মৃতের এক ছেলে। হঠাৎই দুপুরের দিকে জীবিতকুণ্ড পুকুরে নেমে সাঁতার কাটতে গিয়ে তলিয়ে যান ওই ব্যক্তি। প্রায় .২৫ মিনিট পর মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

tarapith2

এরপর থেকে জীবিতকুণ্ড জল পূজা-অর্চনার কাজে আর ব্যবহার করা হয়নি। মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় জানান হিন্দু শাস্ত্র মতে জীবিতকুন্ডু তে যদি কোন মানুষের মৃত্যু হয় সেই জল অশুদ্ধ হয়ে যায় ফলে জল শুদ্ধিকরণ না করা পর্যন্ত সেই জল মায়ের কোন পুজোর কাজে ব্যবহার করা হবে না। তিনি এও জানান যে তারা এই পুকুরের সংস্কার করবার প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং তারা আজকেই এই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। রীতি অনুসারে আজ ষষ্ঠী মন্দির সংলগ্ন ঘাটে পূজার আয়োজন করা হয় এবং জীবিত কুন্ডু থেকে ১০৮ ঘড়া জল তুলে বাইরে ফেলে দেওয়া হয় এবং সেই পুকুরে সমপরিমাণ গঙ্গা জল ঢেলে ও বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ, হোম যজ্ঞের মাধ্যমে শুদ্ধকরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। হিন্দু শাস্ত্র মতে হোম যজ্ঞ করার পর আজ জীবিত কুন্ডুর জল পুনরায় মায়ের স্নানের জন্য ব্যবহার করা হবে। মন্দির কমিটির সম্পাদক ধ্রুব চট্টোপাধ্যায় জানেন আজ থেকে জীবিত কুন্ডুর জল মায়ের স্নানের কাজে ব্যবহার করা হবে ও এছাড়াও বামাক্ষ্যাপা, শিব সহ সমস্ত ঠাকুরের স্নান আজ থেকে এই পুকুরের জল দিয়েই হবে। উল্লেখ করা যেতে পারে যে এই প্রথমবার কৌশিকী অমাবস্যা তে ও জীবিতকুন্ডুর জলের ব্যবহার করা হয়নি, কারণ ততক্ষণ পর্যন্ত শুদ্ধিকরণ করা হয়নি তাই। কিন্তু আজকে পর থেকে সমস্ত পূজা-অর্চনার কাজে মন্দিরের এই জীবনের জল ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সম্পাদক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here