দুর্গাপুরে ভোট পরবর্তী হিংসা মোকাবিলায় সর্বদলীয় বৈঠক মহকুমাশাসকের

0
506

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূলের জয়ের পরেই রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা বলে অভিযোগ। বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল ,মুখ্যমন্ত্রী ও জেলার জেলাশাসকদেরকে চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। দুর্গাপুর মহকুমা এলাকাতেও ভোট পরবর্তী হিংসার খবর এসেছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তাদের কর্মী এবং নেতাদের বাড়ি ভাঙচুর, পার্টি অফিস দখল তথা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিনই। সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে মহকুমা শাসক ও জেলা শাসককে চিঠি দিয়ে আবেদন করা হয়েছিল যেন প্রশাসন অবিলম্বে এই দুষ্কৃতী হানা বন্ধ করতে কড়া পদক্ষেপ নেয় ।

আজ দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হয় মহকুমাশাসক অর্ঘ্যপ্রসূন কাজীর নেতৃত্বে। এই সর্বদলীয় বৈঠকে হাজির ছিলেন বিরোধী দলের তথা শাসকদলের সমস্ত প্রতিনিধিরা। পশ্চিম বর্ধমান সিপিআইএম জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার জানান “দুর্গাপুর মহকুমা জুড়ে তাদের কর্মী সমর্থকরা আক্রান্ত হচ্ছেন রোজী । অবিলম্বে এই সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে।” তার অভিযোগ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে । বিজেপি নেতা রমেন শর্মার অভিযোগ “প্রশাসন এ দিকে শান্তির বার্তা দিচ্ছে , সর্বদলীয় বৈঠক ডাকছে আর অন্যদিকে তৃণমূলের গুন্ডা বাহিনী তান্ডব চালাচ্ছে এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করছে । অবিলম্বে যদি এই রাজনৈতিক হিংসা বন্ধ না হয় তাহলে তারাও চুপ করে বসে থাকবেন না ।” অন্যদিকে বিরোধীদলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সমরেশ ব্যানার্জি পাল্টা অভিযোগ করেন যে “বিজেপির লোকেরাই সন্ত্রাস চালাচ্ছে এলাকাতে এবং তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের কে মারধর করছে। তৃণমূল সরকারকে বদনাম করার লক্ষ্যেই বিজেপি ও সিপিআইএম পরিকল্পিতভাবে এই অভিযোগ করছে । তাদের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ।”

সর্বদলীয় বৈঠকে দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অর্ঘ্যপ্রসূন কাজী সমস্ত রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদেরকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে মহাকুমা প্রশাসন কোনভাবেই ভোট পরবর্তী হিংসা বরদাস্ত করবে না। অর্ঘপ্রসূন কাজী বলেন “সর্বদলীয় বৈঠকে সব বলে দেওয়া হয়েছে, এরপরেও যদি একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে কিন্তু আর হাল্কাভাবে নেবেনা মহকুমা প্রশাসন। সাধারণ মানুষকে হিংসার বলি হতে দেবে না মহকুমা প্রশাসন। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখেন সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিকে। ” সর্বদলীয় বৈঠকের পর পরিস্থিতি কি হয় সেই দিকেই তাকিয়ে সব রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here