শত্রুঘ্ন সিনহার বিখ্যাত ডায়লগ দিয়েই আসানসোলবাসীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন তৃণমূল সুপ্রিমোর

0
43

সংবাদদাতা, আসানসোলঃ- আসানসোল লোকসভা উপনির্বাচনে দলের প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিনহাকে জিতিয়ে আপনারা বিজেপিকে ‘খামোশ’ করিয়ে দিয়েছেন। এতো ভোটে জিতিয়ে আসানসোলের মানুষ একটা দিশা দেখিয়েছে। মঙ্গলবার আসানসোলের কর্মিসভা থেকে শত্রুঘ্ন সিনহার সিনেমার সংলাপ ধার করেই আসানসোল লোকসভায় এই প্রথম তৃণমূলকে জয় এনে দেওয়ার জন্য আসানসোলবাসীকে ধন্যবাদ জানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ভোটটা দিয়েছেন কষ্ট করে। এ জন্য কৃতজ্ঞতা জানাতে ছুটে এসেছি। প্রাণভরা ভালবাসা জানাতে এসেছি। পাশাপাশি জয়ী প্রার্থী শত্রুঘ্ন সিংহকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যে মানুষটি এখানে শুধু জিততে আসেননি। জেতার পর বার বার আসানসোলে ছুটে আসেন। সেই শত্রুঘ্ন সিংহকে ধন্যবাদ। এছাড়া আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদকেও অভিনন্দন জানাতে ভোলেননি দিদি। আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ তথা বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক বাবুল সুপ্রিয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বাবুল এক দিন এখানকার সাংসদ ছিলেন। বিজেপি তাঁর পছন্দ নয় বলে ছেড়ে এসেছেন। এখন তিনি বালিগঞ্জের বিধায়ক। তিনি এক জন বড় শিল্পী। তাঁকেও আমার অভিনন্দন জানাই।

এরপরেই তিনি অগ্নিপথের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, ২০২৪ সালের ভোটের কথা ভেবে বিজেপি ললিপফ দেখাচ্ছে। যেখানে মানুষের ৪০ বছর চাকরি করার কথা। সেখানে ৪ বছর চাকরি করিয়ে, হঠিয়ে দেবে। কেন হবে? এটা নিয়ে রাজ্য সরকারের এক কর্নেলকে দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাতে কি বলা হয়েছে জানেন? বলা হয়েছে, চারবছর চাকরি করার পরে ওদেরকে রাজ্য সরকার চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করুক। কেন আমরা দেবো? ওদের দলের শাখাপ্রশাখা থেকে সব আসবে, আর আমরা চাকরি দেবো। ওদের পাপের ভাগিদার আমরা কেন হবো? ওদের নোংরা ভরা ডাস্টবিন আমরা কেন পরিষ্কার করবো? রাজ্য সরকার বাংলার ছেলেমেয়েদেরকে চাকরি দেবে। এখনো দিচ্ছে। আমরা এক্স আর্মিম্যানদের তো চাকরি দিয়ে থাকি। সারাদেশে আন এমপ্লয়মেন্ট বা বেকারত্বের হার শতকরা ৪০ শতাংশ। সেখানে বাংলায় কমসংস্থানের হার ঠিক উল্টো। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও আক্রমণ করে বলেন, নরেন্দ্র মোদি প্রথম সরকারে আসার সময় বলেছিলেন ১৫ লক্ষ টাকা করে একাউন্টে দেবে। দিয়েছেন? আপনারা কি পেয়েছেন? পাননি। উজালার গ্যাস সিলিন্ডার দিয়েছিলো। এখন সেই সিলিন্ডার হাজার টাকা পার করেছে। কৃষকদের কি অবস্থা সারাদেশে। আর কেউ কিছু বললেই ইডি, সিবিআই কে দিয়ে অ্যারেস্ট করাচ্ছে। যারা দাঙ্গা করে, উস্কানি দেয়, তাদের গ্রেফতার করা হয় না। ওদের কেউ খুন করলেও, কিছু হয়না। উল্টে সিকিউরিটি দেওয়া হয়। ক্ষীর খাওয়ানো হয়। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় টাকা বন্ধ করা নিয়ে কেন্দ্র সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, যদি উত্তর প্রদেশে উত্তর প্রদেশ বাড়ি হতে পারে, রাজস্থানে রাজস্থান বাড়ি হতে পারে, তাহলে বাংলায় হবে না কেন? আসল কথা হলো ওরা সব জায়গায় পিএমের ছবি লাগাতে চায়। লাগাক কে মানা করেছে। এইভাবে ছবি লাগাতে লাগাতে একদিন ছবি হয়ে যাবে বিজেপি। সাইনবোর্ড হয়ে যাবে। তখন কি হবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here