‘মা’ ভর্তি হচ্ছে রাত সাড়ে ৯ টায়, শিশু জন্মাচ্ছে বিকাল ৪ টায়ঃ বর্ধমানের নার্সিংহোমে তদন্তে পুলিশ

0
542

মান্তু কর্মকার, বর্ধমানঃ- জন্মানোর আগেই হাতবদল হয়ে যাওয়া শিশু কন্যার আসল ‘মা’ র খোঁজে জোর তল্লাশি শুরু করল বর্ধমান পুলিশ। এই নিয়ে দফায় দফায় একটি নার্সিংহোমের নার্স, আয়া, বিলিং স্টাফ দের জেরার পাশাপাশি কয়েকটি গ্রামেও গত দু দিনে হানা দিয়েছে জেলা পুলিশ। তবে, শিশুটির জন্মদাত্রী ‘মা’ র হদিশ এখনো মেলেনি।
পূর্ব বর্ধমানের জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখার্জি বলেন, “ওই নার্সিংহোমের আয়া, নার্সদের জেরা করে কিছু তথ্য পেয়েছি। তবে শিশুটির জন্মদাত্রী ‘মা’ কে এখনো খুঁজে পাই নি”। নার্সিং হোমটির রোগী ভর্তির রেজিষ্টার খাতা, কর্মচারীদের অ্যাটেডান্স খাতা বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। হেপাজতে নেওয়া হয়েছে নার্সিংহোমের অপারেশন থিয়েটারের খাতাও। সেই খাতা যাচাই করতে গিয়েই চক্ষু চড়ক গাছ পুলিশের।
বিভিন্ন নথি ঘেঁটে পুলিশের তদন্তকারি অফিসার পঙ্কজ নস্কর দেখেন ওই শিশুকন্যাকে এ বছরের ২৮ জুন বর্ধমানের ভাঙাকুঠি এলাকার ‘লাইফ লাইন’ নার্সিংহোমের এক নার্স সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় এক আয়া’র হাতে তুলে দিচ্ছেন। নার্সিংহোমের নথি মোতাবেক তার জন্ম সময় বিকাল ৪ টা ১৬ মিনিট। আবার যে মহিলার কাছ থেকে শিশুকন্যাটিকে উদ্ধার করা হয়েছে, নার্সিংহোমের নথি মোতাবেক, সেই অনুশ্রী বিশ্বাস লাইফলাইন নার্সিংহোমে ভর্তি হচ্ছেন ২৮ জুন রাত্রি সাড়ে ৯ টায়। ওই অনুশ্রী ও তার স্বামী প্রদীপ বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয় কাটোয়ার পানুহাট থেকে। তাদের কাছ থেকেই উদ্ধার করা হয় পাঁচ মাসের শিশু কন্যাটি। পুলিশি জেরায় তারা কবুল করে, নগদ ১০ হাজার টাকায় শিশুটিকে তারা কেনে নার্সিংহোমের এক দালালের কাছ থেকে। এদিকে এই নার্সিংহোমে শিশু পাচার চক্রের তদন্তে নেমে জেলা পুলিশ এ পর্যন্ত অভিযোগ ওই দম্পতি ছাড়াও, নার্সিংহোমের এক টেকনিশিয়ান শৈলেন রায়, দুজন আয়া – রুবি সেখ ও শিখা রায় কে আটক করেছে। অন্য এক নার্সকেও খুঁজছে পুলিশ। তার বাড়ি আউসগ্রাম থানা এলাকায়। এদিকে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, শৈলেন আসলে ওই নার্সিংহোমে ঝাড়ুদারের কাজ নিয়ে ঢুকেছিল। তার বিদ্যা ক্লাশ ফোর অব্দি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here