সোনামুখী বনদপ্তরের উদ্যোগে রুখা শুখা জমিকে শস্য শ্যামলা করার চেষ্টা

0
434

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- বাঁকুড়ার সোনামুখী রেঞ্জের ইন্দকাটা বীটের আদিবাসী প্রধান হুড়হুড়া গ্রামে ১,০৭,৯৫,৭০৯ টাকা খরচ করে ‘জলতীর্থ’ প্রকল্পে তৈরী হলো জলাধার। ফলে এই এলাকার মানুষকে আর বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করতে হবেনা। এখান থেকেই পর্যাপ্ত সেচের জল তারা পাবেন।

বনদপ্তরের এই উদ্যোগে খুশি এলাকার মানুষ। জলাধার নির্মানের পাশাপাশি গ্রামের খালে সেতু নির্মাণ হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় টুডু, ধোনু টুডু, ঠাকুরদাস টুডুরা বলেন, খাল দিয়ে জল বয়ে চলে যেত। ফলে গ্রামের পাশ দিয়ে খাল গেলেও তার জল সেচের কাজে সেভাবে কাজে লাগানো যেতোনা। বৃষ্টির জলের উপরেই নির্ভর করতে হতো। এখন বনদপ্তরের তরফে এই জলাধার তৈরী করে দেওয়ার ফলে শুধু বর্ষার সময় নয়, সারা বছর ধরেই চাষাবাদ করা সম্ভব। এমনকি খালের উপর সেতু তৈরী করে দেওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হয়েছে বলে তারা জানান। গৃহবধূ পারমিতা টুডুর কথায়, চাষাবাদের উপর নির্ভরশীল এই গ্রামের মানুষকে এখন আর সেচের জলের জন্য চিন্তা করতে হবেনা। জলাধার নির্মাণের ফলে এখন বর্ষায় ধান চাষের পাশাপাশি সারা বছর ধরেই বিভিন্ন ধরণের চাষাবাদ করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
এবিষয়ে বনদপ্তরের সোনামুখী রেঞ্জের বনাধিকারিক দয়াল চক্রবর্ত্তী বলেন, ধানসিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামের মানুষ অনেকটাই বননির্ভর জীবিকা নির্বাহ করতেন। অনেকেই গাছ পালা কেটে বিক্রি করতেন। বনদপ্তরের তরফে সেই বননির্ভরতা কমাতে ও গাছ পালা কাটা বন্ধ করে ঐ সব মানুষকে চাষাবাদমুখী করতে এই জলাধার তৈরীর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। আগে এখানে বৃষ্টি না হলে কোন ধরণের চাষাবাদ হতোনা। এখন সেই সমস্যা মিটেছে। ফলে প্রতিটি পরিবারের সদস্যদের মধ্রে চাষাবাদের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় এখন বননির্ভর জীবিকা নির্বাহ অনেকটাই কমেছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here