করোনার দাপটে ধুঁকছে বাঁকুড়ার কাঁসা শিল্প, পেশা ছাড়তে নারাজ শিল্পীরা

0
811

সংবাদদাতা,বাঁকুড়াঃ- লাল মাটির দেশ বাঁকুড়া শিল্প সংস্কৃতির জন্য খ্যাত। এই জেলার হস্তশিল্প পোড়া মাটি থেকে রেশম শিল্প,জগৎসভায় স্থান করে নিয়েছে। আর এই হস্ত শিল্পর মধ্যে অন্যতম কাঁসার শিল্প। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কাঁসার সামগ্রী। বাঙালির দৈনন্দিন জীবনে কাঁসার ব্যাবহার কমে গেলেও এখনও নানান পুজো ও সামাজিক অনুষ্ঠানে কাঁসার বাসন-কোসনই ব্যবহার হয়।

বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে কাঁসার শাল। এই শাল থেকেই তৈরি হয় কাঁসার বাটি,জামবাটি,গামলা, সহ একাধিক কাঁসার বাসনপত্র। এখানকার তৈরি কাঁসার সামগ্রীর কদর কম নয়, যা পারি দেয় দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশে। তবে বর্তমানে করোনার দাপটে ধুঁকছে বাঁকুড়ার কাঁসার শিল্প। ধুঁকছেন শিল্পীরাও। রোজগার না থাকাই দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে কাঁসা শিল্পীদের। একে তো পরিশ্রম বেশি, উপার্জন কম। তবুও পূর্ব পুরুষের এই ঐতিহ্যকে ছাড়তে নারাজ এখানকার কাঁসা শিল্পীরা। তাই বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর এলাকায় আজও চলছে কাঁসার শাল। এই শাল থেকেই আগুনে ফুলকানীতে রাংকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে তৈরি হয় কাঁসার থালা -বাটি সহ নানান সামগ্রী।

বর্তমানে করোনা মহামারী পরিস্থিতিতে যখন বহু মানুষ রোজগারের জন্য পেশা বদলাচ্ছে তখন বাঁকুড়ার সিমলাপালের কাঁসা শিল্পীরা কিন্তু ব্যতিক্রমী। পিতৃপুরুষের কাজ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এই শিল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেননি তারা । আগামী দিনে করোনা দূর হয়ে ফের স্বাভাবিক হবে বাজার,ফিরবে আর্থিক সচ্ছলতা। এমনই আশায় দিন গুনছেন বিক্রমপুরের সীমন্ত কর্মকার,শান্তনু কর্মকার, চন্দন কর্মকারের মত কাঁসা শিল্পীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here