বাঁকুড়া জেলার কেঞ্জাকুড়ার কাঁসা শিল্প ধুঁকছে

0
1367

সঞ্জীব মল্লিক, বাঁকুড়া :– বিপন্ন হতে বসেছে বাঁকুড়া সদর থানার অন্তর্গত কেঞ্জাকুড়া গ্রামের প্রাচীন ঐতিহ্যপূর্ণ কাঁসা শিল্প। অস্তিত্বও বিপন্ন হতে বসেছে এই কাঁসা শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর বংশপরম্পরার পেশা। ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাস করেন কাঁসার শিল্পীরা। কাঁসা গলিয়ে নানা ধরনের থালা, বাটি, জামবাটির মত সামগ্রী শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় ফিরে পাচ্ছে নতুন আকার। লবণদানি, কলসি, থালা বালতি ইত্যাদি কাঁসার এইসব জিনিসপত্র গ্রামবাংলার বিয়েবাড়ি এবং পুজোয় আজও অতিপ্রয়োজনীয় জিনিস। যদিও স্টিলের জিনিস বাজারে আসায় সাধারণ জীবনে কাঁসা চল কিছুটা কমেছে। তবুও ঐতিহ্যের কাঁসার জিনিস আজও গুরুত্ব পায় নিষ্ঠারক্ষা পুজো আর নিয়মের বাঁধুনিতে বাঁধা বিয়েবাড়িতে। এই শিল্পের সঙ্গে আগে জড়িয়ে ছিল ৫০০ এর মত ইউনিট। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই ইউনিট কমতে কমতে ৩৫০ এ দাড়িয়েছে। এখানে রয়েছে প্রায় তিন শত পরিবার এই পেশাই সরাসরি যুক্ত। কিন্তু পরিশ্রম অনুযায়ী মূল্য না মেলায় এখন অনেকেই রাজ্য তথা ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছে অভাবের তাড়নায়। শিল্পীদের হাতের তৈরি কাঁসা–‌পিতলের জিনিসের খ্যাতি বাংলার গণ্ডি ছাড়িয়ে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত। শিল্পীরা জানান এই শিল্প ধীরে ধীরে লুপ্তপ্রায় হতে চলেছে। কাঁচা মালের দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় তাদের বিক্রি বাটা অনেক কমে গেছে। কাঁচা মাল রপ্তানির ক্ষেত্রে তাদের পুলিশি হয়রানির শিকার হতে হয়। রাজ্য সরকার একটি বারের জন্য তাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তাকাননি। বারবার রাজ্য সরকারকে জানিও মেলেনি কোনো আর্থিক সহায়তা। অর্থের অভাবে অন্যদের ওপরে নির্ভর করতে হয়। এক শ্রেণীর ফড়ে কাঁচামাল হিসেবে পুরনো কাঁসার বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে যান। সেইসব জিনিস হাপরশালায় গলিয়ে মাটির ছাঁচে ঢেলে শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় নতুন করে তৈরি হয় বিভিন্ন জিনিসপত্র। একটি হাঁপরশালায় একবারে ৬টি জামবাটি তৈরি হতে পারে। তার জন্য সময় লাগে ৩ দিন। শিল্পীরা যদি নিজেরা কাঁচামাল দিয়ে জিনিসপত্র তৈরি করে বাজারে জোগান দিতে পারতেন, তাহলে তাঁরা দুটো বেশি পয়সার মুখ দেখতে পেতেন। কাঁসা শিল্পের ওপর সরকার যদি নজর দেয়, তাহলে এই শিল্প ও শিল্পীরা বাঁচবেন ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here