মাল্টি ফুয়েল বাইক বানিয়ে চমক বাঁকুড়ার শুভেন্দুর

0
725

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: অভিনব মাল্টি ফুয়েল মোটর বাইক বানিয়ে বেশ কয়েকদিন আগেই বাঁকুড়াবাসীর মন কেড়েছিল বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ার বাসিন্দা শুভেন্দু কুচল্যান। এবার রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বাঁকুড়াবাসিকে এক নতুন পথের দিশা দেখাচ্ছে কেঞ্জাকুড়ার বাসিন্দা শুভেন্দু কুচল্যান।কলকাতার টালিগঞ্জে আইটিআই প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত রাজ্যের টেকনোলজি এডুকেশন দপ্তরের উদ্যোগে রাজ্যের সব কটি আইটিআই কলেজের ছাত্রদের নিয়ে উৎকর্ষ বাংলার ব্যানারে এই মডেল প্রতিযোগিতায় বেস্ট টেকনোলজির শিরোপা মেলে এই অভিনব মাল্টি ফুয়েল মোটর বাইকের। প্রায় তিন বছরের লাগাতার পরিশ্রমে এই বাইক বানিয়েছে শুভেন্দু। বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় বাবার ছোট্ট এক সাইকেল সারাইয়ের দোকান। সেখানেই বসে ছোটো থেকেই কারিগরি দিকে মন পড়ে থাকতো শুভেন্দুর। খেলার ছলে বানিয়ে ফেলত এটা,ওটা। বড় হয়েও সেই অভ্যাস থেকে বিরত থাকেনি শুভেন্দু। বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের কলাবিদ্যায় স্নাতক ডিগ্রীর পর নুতন কিছু করার ঝোঁক চাপে তার মাথায়। এরপরই শুরু হয় নতুন কিছু বানানোর উদ্যোগ। বিভিন্ন জায়গায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস সংগ্রহ করে। ধীরে ধীরে চলে বাইক বানানোর কাজ। বাড়ীতে বসেই সাইকেলের সাথে মোটর ইঞ্জিন জুড়ে বানিয়ে ফেলে এই বাইক। কেরোসিন, পেট্রল এবং ডিজেল যেকোনো জ্বালানি তেলে চলবে এই বাইক, তেমনি আবার এক সাথে মিশিয়েও চালানো যায় এই বাইক। ঘন্টায় ৮৫ কিমি মাইলেজ মিলবে এই বাইকে। কেরোসিনে চালালে কিমি প্রতি খরচা মাত্র ৫০ পয়সা। পেট্রল বা ডিজেলে একটু বেশী পড়বে। গতিবেগও ঘন্টায় প্রায় ৭০ কিমি। এই অভিনব বাইক বানাতে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এই বাইক বানানোর পর পুরুলিয়ার সরকারী আইটিআই কলেজ তাকে পড়ার সুযোগ করে দেয়। এই কলেজের প্রতিনিধি হিসেবেই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে শুভেন্দু। মেলে সাফল্য। এরপর তার বানানো এই বাইক দিল্লীর জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনের আমন্ত্রন পেয়েছে। রাজ্যের কারিগরী মন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু , এই বাইক বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের বিষয়ে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে জানান শুভেন্দু। তার এখন স্বপ্ন, কবে এই বাইক বানিজ্যিক ভাবে উৎপাদন শুরু করে মানুষের পরিষেবায় লাগানো যায়। সেই দিকেই তাকিয়ে আছে শুভেন্দু।