স্যাক্সোফোনের সুরের মুর্ছনায় সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে ওন্দার ছোট্ট দেবরাজ

0
554

সংবাদদাতা,বাঁকুড়া:- আট বছরের ছোট্ট দেবরাজ। তারই বাজানো স্যাক্সোফোনের সুরের মুর্ছনায় ভাসছে আট থেকে আশি। শুধুমাত্র কানে শুনে করাও পক্ষে বোঝা সম্ভব নয় যে, স্যাক্সোফোনের মতো কঠিন এই বাদ্যযন্ত্র আট বছরের ছোট্ট কারও হাতের ইশারা ও প্রাণশক্তিতে বেজে চলেছে, নির্ভুল সুর ও তালে। দেবরাজ তার এই সঙ্গীত প্রতিভা পেয়েছে বাবা ও দাদু কাছ থেকে। বাবা গিরিশ পাত্র ও দাদু শম্ভুনাথ পাত্র দুজনেই সঙ্গীতের সঙ্গে যুক্ত এবং নানা ধরণের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে সক্ষম। বাঁকুড়ার ওন্দা থানার অন্তর্গত সিনেমা রোডের বাসিন্দা এই পাত্র পরিবারের একটি ব্যান্ডও রয়েছে।

বাবা-দাদুর কাছ থেকে সঙ্গীত শিক্ষা পেলেও ছোট্ট দেবরাজের প্রতিভায় বিষ্মিত তার পরিবারের সদস্যরাও। কারণ স্যাক্সোফোনের মতো কঠিন বাদ্যযন্ত্র বাজানো সহজ নয়। বিশেষ করে আট বছরের এক নাবালকের পক্ষে। সেখানে বিদ্যাসাগর শিক্ষানিকেতনের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্র অবলীয় সুরের ঝড় তোলে এই স্যাক্সোফোনে। বাবা ও দাদুর কাছ থেকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ছোট্ট দেবরাজের এই প্রতিভা তাকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন বেশকিছু স্বনামধন্য ব্যাক্তিও। ইতিমধ্যে বেশকিছু স্টেজ পারফরম্যান্সও করে ফেলেছে ছোট্ট এই সঙ্গীত শিল্পী।

তবে ওন্দার এই বিষ্ময় বালক শুধু স্যাক্সোফোনই নয়, এই বয়সেই বাজাতে পারে নানা বাদ্যযন্ত্র। গান বাজনার পাশাপাশি মূর্তি গড়তে ও পুজো করতে ভালোবাসে দেবরাজ। তার হাতের তৈরি মা কালীর মূর্তি যে কোনও পাকা মৃতশিল্পীর তৈরি বলে ভুল হতে পারে। শুধু তাই নয়, এই ছোট্ট দেবরাজ মা কিংবা ঠাকুমাকে রান্নায় সাহায্য় করার জন্য নিখুত হাতে গোল রুটিও করতে দেয়।

এই বিষ্ময় বালকের প্রতিভায় উচ্ছ্বসিত ওন্দাবাসী। সবাই চাইছেন দেবরাজের এই প্রতিভা যেন শুধুমাত্র ওন্দার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। ভৌগলিক সীমানার বেড়াজাল ছাড়িয়ে ছোট্ট দেবরাজের বাজানো সুরের মুর্ছনা যেন ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here