রাস মেলায় জমজমাট ঐতিহ্যের পীঠস্থান বিষ্ণপুর

0
819

বাঁকুড়া: ভগবান শ্রী কৃষ্ণ হিন্দু সমাজের সবচেয়ে বর্ণময় এবং রোমান্টিক দেবতা । সাধারন গো-পালকের কুটিরে পালিত ডানপিটে ও দুর্ধর্ষ বালকটি কালক্রমে মথুরার জনপ্রীয় রাজা থেকে মহাভারতের তীক্ষ্মবুদ্ধি সম্পন্ন মহানায়ক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন । আবার কিশোর বয়সে শ্রী রাধিকা নামক রমনীর প্রণয় পাত্র হিসাবে রোমান্টিক প্রেমের অতুলনীয় প্রতীকও সেই তিনিই । শ্রী রাধিকা , ললিতা , বিশাখা প্রমুখ অষ্ট সখীর হৃদয়েশ্বর শ্রী কৃষ্ণের ” রাসলীলা ” ভারতীয় শাস্ত্র সাহিত্যে এক অভিনব সংয়োজন । সেই কোন দ্বাপর য়গের কাহিনি আজও আজও ধর্ম বিশ্বাসি মানুষের কাছে সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত ” রাসলীলা ” অনুষ্ঠান নামে । মল্লভূম বিষ্ণুপুরের রাজা বীর হাম্বিরের গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা গ্রহনের পর এই শহরে রাসলীলা বা রাসযাত্রা রিতিমত জাঁক জমকের সাথে পালনের পরম্পরা চালু হয়েছে । সপ্তদশ শতকে বীর হাম্বির প্রতিষ্ঠা আন্তর্জাতিক ঐতিহ্য স্থাপত্য রাসমঞ্চ । মল্লরাজ্যের গৌরবময় অতিতে এই রাসমঞ্চে নগরের যাবতীয় রামকৃষ্ণ মূর্তি সমবেত করে পূজা করা হত । হত রাসলীলার অভিনয় । অভিনয় করতেন স্বয়ং বীর হাম্বির ও রাজগুরু শ্রীনিবাস আচার্য । তবে কালের নিয়মে মল্লরাজ্যের গৌরব রবি অন্ত গেলেও মল্লভূমবাসি আজও মর্যাদার সহিত পালন করে আসছেন রাস উৎসব । বৃন্দাবন লীলায় লীলাযুগল রাধাকৃষ্ণের চারপাশে থাকা অষ্ট সখীও অনুভব করেন কৃষ্ণ যেন তাদের প্রত্যেকের সাথেই প্রণয় নৃত্যে সামিল হয়েছেন । এই ঘটনাই রাসলীলা নামে পরিচিত । রাসলীলাকে কেন্দ্র করে ভক্তি পরায়ন মানুষের দেবার্চনাই ” রাসউৎসব ” । তবে রাস উৎসব বিষ্ণুপুরে আকার নিয়েছে রাসমেলা হিসাবে । হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটছে এই মেলাতে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here