চায়ের খারাপ ব্র্যান্ডিং করে সাফল্য

0
61

সংবাদদাতা,বাঁকুড়া:- দোকানের মালিক বলছেন তার জিনিস খারাপ। আর এই খারাপ ব্র্যান্ডিং করেই ব্যবসায় সাফল্য পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়া জেলার ছাতনা ব্লকের দুবরাজপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে শুভেন্দুর চায়ের দোকান। চায়ের দোকানের সামনে বোর্ডে বড় বড় বাংলা হরফে লেখা ‘শুভেন্দুর খারাপ চা’। আর এই খারাপ চা খেতেই এখন দোকানে উপচে পড়ছে ভিড়। শুভেন্দুর মতে এই খারাপ ব্যান্ডিংয়ের জেরে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪০০ কাপ চা বিক্রি হচ্ছে অনায়াসে।

কিন্তু খারাপ ব্যান্ডিংয়ের আইডিয়া কোথা থেকে পেল ছাতনার একেবারে মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে শুভেন্দু অধিকারী। এর পিছনে লুকিয়ে আছে শুভেন্দুর জীবনের ধাক্কা খাওয়ার গল্প। সবার কাছ থেকে পাওয়া খারাপের স্বীকৃতি ও গঞ্জনার গল্প। এমন কি ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে খারাপ অপবাদ পাওয়ার কাহিনী। শুভেন্দুর কথায় ছোট থেকে কেউ কোনও দিন তাকে ভালো বলেনি। খারাপ শুনে শুনে বড় হওয়া। বড় হওয়ার পরও তা চলতে থাকে। এমনকি উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরি না পাওয়ার জন্য আত্মীয়, পরিচিতদের কাছে গঞ্জনা। বাদ যায়নি কিছুই।

সংস্কৃততে অনার্স বছর ২৮ এর শুভেন্দু ২০০৮-এ স্থানীয় কালপাথর হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক, ২০১০ এ বাঁকুড়া বঙ্গ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক, ২০১৩ তে হিমাচল প্রদেশের ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংস্কৃত অনার্স নিয়ে পাস করেছে। পরে শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার ইচ্ছা থেকে ২০২০ সালে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর কলেজ থেকে ডি.এল.এড প্রশিক্ষণ নেন। কিন্তু তারপরও চাকরি জোটেনি উচ্চশিক্ষিত শুভেন্দুর। তাই এই খারাপটাই জীবনের সঙ্গী হয়ে উঠেছিল বলে দাবি শুভেন্দু। যদিও এই খারাপ কথা, গঞ্জনা শুভেন্দুকে দমাতে পারেনি। অবসাদে ডুবিয়ে দেয়নি। বরং ওই খারাপকে হাতিয়ার করেই উপার্জনের পথ খুঁজে নেয় সে। আর তাতেই মেলে সাফল্য।

শুভেন্দুর মতে তার খারাপ ব্র্যান্ডিংয়ের জেরে চায়ের বিক্রি বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন। অনেকেই খারাপ চা-এ একবার চুমুক দিয়ে দেখতে চায় তার চা কতোটা খারাপ। তবে শুভেন্দুর খারাপ চায়ের রেগুলার কাস্টমার -স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন শুভেন্দুর চা খারাপ তো নয়ই, বরং এলাকার অনেক দোকানের থেকে ভাল।

এখন এই খারাপ চা নিয়েই আগামী দিনে এগিয়ে যেতে চায় বছর ২৮-এর শুভেন্দু। তবে কাজের ফাঁকে সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিটাও সমান তালে চালিয়ে যাচ্ছে সে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here