অর্থাভাবে থমকে টেরাকোটা শিল্পীর জাতীয় প্রতিযোগিতার স্বপ্ন

0
1050

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া গ্রাম অথবা বলা যেতে পারে টেরাকোটা গ্রাম। মূলত বছরের পর বছর ধরে বাঁকুড়ার পাঁচমুড়া গ্রামে টেরাকোটা শিল্পীদের হাতের ছোঁয়ায় রূপ পেয়েছে বিভিন্ন টেরাকোটার সামগ্রী। সেই থেকে পাঁচমুড়া গ্রাম টেরাকোটা গ্রাম হিসেবেই বিখ্যাত হয়ে আছে। এই গ্রামের শিল্পীরা প্রত্যেক দিন তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় রূপ দিয়ে চলেছেন মাটির হাতি, ঘোড়া, ঘর সাজানোর জিনিস, দেবদেবীর মূর্তিসহ নানান মৃৎশিল্প তৈরী করে চলেছেন। বর্তমানে এইসমস্ত শিল্পীরা টেরাকোটা শিল্পে নতুন সংযোজন করেছেন মাটির নানা ধরণের ফিগার তৈরী। প্রত্যেক দিন কোনও না কোনও টেরাকোটা শিল্পীর হাতের ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছে অসম্ভব সুন্দর সমস্ত শিল্পকীর্তি। যার নতুন সংস্করণ শিল্পী অরুন কুম্ভকার। যিনি সম্প্রতি তাদের হাতের ছোঁয়ায় তৈরী করে ফেলেছেন গঙ্গা ফড়িংয়ের প্রতিরূপে “স্বর্গের ঢেকি”। শিল্পী অরুন কুম্ভকারের এই শিল্প নিদর্শন গত ডিসেম্বর মাসেই জেলায় প্রথম এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মাটির তৈরী এই “স্বর্গের ঢেকি” রাজ্যে প্রথম স্থানের তকমা অর্জন করেছে। কিন্তু এরপর? জেলা ও রাজ্য স্তরে প্রথম স্থান অধিকারের পর পাঁচমুড়া গ্রামের শিল্পী অরুন কুম্ভকারের স্বপ্ন জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। কিন্তু গ্রামের আর পাঁচটা শিল্পীর মতো তাঁরও সেই স্বপ্নের পথে অন্তরায় সেই অর্থাভাব। কারণ, জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য যে আনুসাঙ্গিক খরচ তা প্রায় ৩০ হাজার টাকা মতো, কিন্তু এত টাকা জোগাড় করা শিল্পীর সাধ্যের বাইরে। ফলে দুশ্চিন্তায় রাতের ঘুম উড়েছে শিল্পী অরুন কুম্ভকারের। অতীতেও বহু শিল্পী তাদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় বহু অভূতপূর্ব শিল্প নিদর্শন তৈরী করলেও অর্থাভাবে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। তাহলে তাদের মতোই কী অধরা থেকে যাবে শিল্পী অরুন কুম্ভকারের স্বপ্ন? উল্লেখ্য, ১৯৬৮-৬৯ সালে এই পাঁচমুড়া গ্রামেরই শিল্পী রাসবিহারী কুম্ভকার টেরাকোটার ঘোড়া তৈরীর করে তৎকালীন রাষ্টপতি জাকির হোসেনের হাত থেকে জাতীয় পুরষ্কার পেয়েছিলেন। কিন্তু তারপরেও বহু টেরাকোটা শিল্পী তাদের সূক্ষ্ম হাতের জাদুতে বহু নিত্যনতুন সামগ্রী তৈরী করলেও জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে পারেন নি। পাঁচমুড়া গ্রামের মৃৎশিল্পী সমবায় সমিতির সভাপতি ব্রজনাথ কুম্ভকার জানান, তাদের সমিতির পক্ষ থেকে অর্থ সাহায্যের ব্যবস্থা না থাকায় শিল্পীদের কোনও সাহায্য করা যায় না। সরকারের উচিত এই টেরাকোটা শিল্পীদের বিনামূল্যে জাতীয় স্তরে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দেওয়া।