চিকিৎসায় গাফিলতির জেরে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে

0
652

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ফের চিকিৎসায় গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল দক্ষিণ ২১৪ পরগনার বারাসতের একতি নার্সিংহোমে। মৃতের নাম কমল দত্ত। জানা গেছে, বারাসত নবপল্লী এলাকার বাসিন্দা কমল দত্ত পাইলসের অস্ত্রপচারের জন্য স্থানীয় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি হন। পরিবারের সদস্যদরা জানান, নার্সিংহোমে ভর্তি করানোর সময়ই চিকিৎসকদের জানানো হয়েছিল যে তিনি আগে থেকেই হার্টের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কোনও সমস্যা হবেনা বলে তখনকার মতো নার্সংহোম কর্তৃপক্ষ কমল দত্ত নামে ওই রোগীকে ভর্তি নিয়ে নেয়। মৃত কমল দত্ত নামে ওই ব্যক্তির মেয়ে অর্পিতা দত্ত জানান, নার্সিংহোমের লিফটে চেপেই অপারেশন থিয়েটারে গিয়েছিলেন তার বাবা কমল দত্ত। কিন্তু অপারেশনের পর যখন রোগীকে বের করা হয় তখন তার শরীরে বিভিন্ন নল লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্পিতা দেবী জানান, চিকিৎসককে রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রথমে কিছুই জানানি তারা। পরে জানান অপারেশন চলাকালীন রোগী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষন পরেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়। ঘটনা জানাজানি হতেই রোগীর পরিবারের সদস্যরা নার্সিংহোমের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহুর্তে উত্তেজনা ছড়ায় নার্সিংহোমে। মৃতের মেয়ে অর্পিতা দেবীর অভিযোগ, অপারেশন বাবদ ৪৬ হাজার টাকা আগাম নিয়েছিল নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। অপারেশন চলাকালীন ওটিতে একজন কার্ডিও বিশেষজ্ঞ থাকবে বলা হলেও অপারেশনের সময় তিনি ছিলেন না বলে দাবি করেছেন মৃতের মেয়ে। পাশাপাশি তাঁর আরও অভিযোগ নার্সিংহোমে এইধরনের আপাতকালীন পরিস্থিতির মোকাবিলা করার জন্য যেমন চিকিৎসক নেই, তেমনি চিকিৎসার সেরকম পরিকাঠামোও নেই। সেইকারনেই চিকিৎসার গাফিলতিতে বাবার মৃত্যু হল বলে অভিযোগ অর্পিতা দত্তের। তিনি জানান, অপারেশনের পর ওটিতে থেকে ভেন্টিলেশনে দেওয়ার সময় রোগীর বুকে প্রচণ্ড ব্যাথা হচ্ছিল, তাসত্ত্বেও রোগীর চিকিৎসার জন্য কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ঘটনায় ওই নার্সিংহোমের লাইসেন্স বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন রোগীর পরিজনেরা। তাদের বক্তব্য, এই নার্সিংহোম টাকার লোভে রোগীদের ভর্তি নিয়ে নিলেও চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা নেই, ফলে মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে তারা। ঘটনায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগের কথা জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তবে এবিষয়ে নার্সিংহোমের মালিক জ্যোতি ব্যানার্জীর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।