বেহাল সেচখাল, উদাসীন কর্তৃপক্ষ

0
136

জ্যোতি প্রকাশ মুখার্জ্জী,পূর্ব বর্ধমানঃ- ভারতবর্ষ হলো কৃষিপ্রধান দেশ। এই দেশের সবচেয়ে বেশি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত হলেও এখনো এই দেশের কৃষিকাজ মূলত বৃষ্টিপাতের উপর নির্ভরশীল। যদিও সরকারি পর্যায়ে সেচখাল ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাবমার্সিবল আছে। এই দেশের অন্যতম শস্যগোলা, ধানের গোলা, হলো পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলা।

এই জেলার মঙ্গলকোটের চাণক অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। এখানে বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে দিয়ে চাষের জন্য সেচখাল থাকলেও সেগুলি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলায় পড়ে থাকে। চাষের জন্য সময়মতো জল পাওয়া তো দূরের কথা নিয়মিত সেগুলো সংস্কার করা হয়না। আগাছায় ভরে আছে। জল না পেয়ে ক্ষুব্ধ চাষীরা সেচখাল বন্ধ করে দিয়ে সেগুলো চাষযোগ্য জমি তৈরি করে নিয়ে চাষাবাদ করছে। কোথাও আবার স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় বেশ কিছু মানুষ সেচখালের পাড় দখল করে বসত বাড়ি তৈরি করে বসবাস করতে শুরু করেছে।

রামনগরের জনৈক প্রবীণ চাষী মনে করতে পারলেন না শেষ কবে তাদের গ্রামের সেচখালে জল এসেছিল অথবা সেটা সংস্কার করা হয়েছিল। তিনি বললেন – মাঝে মাঝে শুনি মেন ক্যানেলে জল দিয়েছে কিন্তু পশ্চিম দিকের চাষীরা নাকি সেই জল আটকে রেখে এদিকে আসতে দিচ্ছেনা। ফলে আমরা চাষ করতে পারছি না। তার আক্ষেপ জেলা প্রশাসন বা কোনো রাজনৈতিক দল এব্যাপারে আজ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা করলনা। পরে তিনি ঠাট্টা করে বললেন – যখন নদী বন্যায় ভেসে যায় তখন কিন্তু আমাদের এই ক্যানেল দিয়ে জল বয়ে যায়।

অথচ এই রাজ্যে কৃষিদপ্তর, কৃষিমন্ত্রী, কৃষি উপদেষ্টা এবং সেচখাল আছে। নাই শুধু সেচখালে জল। এলাকার মানুষরা জানেও না এইসব সেচখালে চাষের সময় জল পাওয়া যাবে কিনা অথবা কর্তৃপক্ষ এদিকে নজর দেবে কিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here